বিশ্ব পঙ্গু দিবস আজ বুধবার। বিশ্বের অন্যান্য দেশে পালন করা হলেও বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে এ দিবসটি পালনে তেমন আগ্রহ দেখা যায় না। এমনকি সংশ্লিষ্টদের কাছে পঙ্গুত্বের সঠিক কোনো পরিসংখ্যানও নেই। এ খাতের সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দেশে প্রতি বছর দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করে। দুর্ঘটনায় প্রাণহানির চেয়ে পঙ্গুত্বের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট, পুলিশের সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান সংস্থা ও বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৪৫ জন এবং বছরে প্রায় পাঁচ হাজার প্রাণহানি ঘটে। প্রায় ১০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করে। দুর্ঘটনাস্থলে প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং দুর্ঘটনার পর দুই ঘণ্টার মধ্যে ৩৫ শতাংশের মৃত্যু ঘটে।

জাতীয় অর্থোপেডিক পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বছরে অন্তত এক লাখ ২০ হাজার থেকে এক লাখ ৩০ হাজার রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। কমপক্ষে ৫০ হাজার রোগী হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে সেবা নেন। এ রোগীদের মধ্যে বছরে সাড়ে তিন থেকে চারশ' জন পঙ্গুত্ববরণ করেন।

রোগীদের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার সংখ্যাই বেশি। তাই সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালক, যাত্রী ও পথচারীসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে। জনসচেতনতাই এসব দুর্ঘটনা রোধে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

দেশে প্রতিবছর যে বিপুলসংখ্যক লোক পঙ্গু হচ্ছে, তার একটা বড় অংশই হয় সড়ক দুর্ঘটনার কারণে। আর শিশুদের একটা বড় অংশ ছাদ বা গাছ কিংবা অন্যান্য জায়গা থেকে পড়ে পঙ্গু হচ্ছে। এ ছাড়া কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাসহ অন্যান্য কারণেও পঙ্গু হওয়ার ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দেশে বছরে গড়ে ১৫ হাজার লোক পঙ্গু হচ্ছে।

‘আমাদের দেশে বড়দের মধ্যে যাঁরা পঙ্গু হন, তাঁরা বেশির ভাগই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। একজন কর্মক্ষম মানুষের হাত বা পা চলে যাওয়া মানে ভয়ংকর ক্ষতি। ওই পরিবারে সে বোঝায় পরিণত হয়। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারলে পঙ্গুত্বের সংখ্যাও অনেক কমানো সম্ভব।’

এমই