চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের (প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার) নামে মাত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে নির্বাচন কমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা ৭০ কোটি টাকা লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর অর্থ লোপাটের এ অভিযোগ করেছেন ভোটগ্রহণ ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে আবেদনও করেছেন তারা।
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনে প্রশিক্ষণ খাতে ব্যয় হয়েছে ৭০ কোটি টাকা । ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের (প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার) ভোট নেয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে মাত্র ৬ দিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় । আর এ প্রশিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন ইসির কয়েকজন কর্মকর্তা।
প্রশিক্ষণের পরিপত্র অনুযায়ী, চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনে ৬ লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রতিদিন তাদের সম্মানী ভাতা বাবদ ২৫০০ টাকা, নাস্তা বাবদ ২০০ টাকা, দুপুরের খাবার ৪০০ টাকা এবং যাতায়াত খরচসহ মোট ৪০০০ টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া ১২৫০ জন প্রশিক্ষককে ১৫ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা দেয়া হয় ।
সূত্র আরও জানায়, প্রশিক্ষণের পরিপত্রে ৬ লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণের কথা বলা হলেও মূলত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় ১ লাখ কর্মকর্তাকে। প্রতিদিন দুটি করে ৬ দিনে মোট ১২ টি বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়ে এ ৭০ কোটি টাকা লোপাট করা হয়। আর নির্ধারিত সম্মানীর অর্ধেক দেয়া হয়েছে প্রশিক্ষণার্থীদের। আর ১২৫০ জন প্রশিক্ষককে ১৫ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা দেয়ার কথা থাকলেও এখনও তা দেয়া হয়নি। এমনটাই জানিয়েছেন প্রশিক্ষকের দায়িত্বপালনকারী ইসির কয়েকজন কর্মকর্তা ।
এ ৭০ কোটি টাকা নির্বাচন কমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা, নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক খোন্দকার মিজানুর রহমান ও তার অনুগত কয়েকজন কর্মকর্তা লুটপাট করেছেন বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজসে ৬ দিনে মোট ১২ টি প্রশিক্ষণ দিয়ে ৭০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া প্রশিক্ষকদের সম্মানীও পরিশোধ করা হয়নি।
এ বিষয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক খোন্দকার মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলা নির্বাচনে কয়েক লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম কোনো কিছুই বলতে রাজি হননি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কমিশনার বলেন, চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনে প্রায় ৬ লাখ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ১ লাখ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে পুরো অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। আর প্রশিক্ষকদের যে পরিমান সম্মানী দেয়ার কথা ছিল তা দেয়া হয়নি। প্রশিক্ষকদের সম্মানী এখনও পরিশোধ করা হয়নি। এ বিষয়ে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও কমিশনের কর্মকর্তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি)কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ৬ দিনে ১২টি ক্লাস করে করে ৭০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
৫ দফায় অনুষ্ঠিত চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনে ৪৮৭ টি উপজেলার মধ্যে ৪৫৮ টিতে ভোটগ্রহণ হয়। আগামী ১৯ মে ১৪ টি উপজেলায় ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২টি উপজেলার ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে। এ কারণে ওই দিন ১২ টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে।
[b]ঢাকা, এএম, ১৩ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ [/b]
টাইম ফোকাস
প্রশিক্ষণের নামে ৭০ কোটি টাকা লোপাট!
চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের (প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার) নামে মাত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে নির্বাচন কমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা ৭০ কোটি টাকা লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর অর্থ লোপাটের এ অভিযোগ করেছেন ভোটগ্রহণ ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে আবেদনও করেছেন তারা





