আগামীকাল বুধবার ১ জুলাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। এদিন ৯৫ বছরে পা দিচ্ছে বাংলাদেশের বৃহত্তম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। “উচ্চশিক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন” শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে এবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০১৫ উদযাপন করা হবে।

১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইন সভা পাশ করে 'দি ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট (অ্যাক্ট নং-১৩) ১৯২০'। আর ১৯২১ সালের ১ জুলাই, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার উন্মুক্ত হয়। সে সময়ের ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত রমনা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমির উপর পূর্ববঙ্গ এবং আসাম প্রদেশের পরিত্যক্ত ভবনাদি এবং ঢাকা কলেজের (বর্তমান কার্জন হল) ভবনসমূহের সমন্বয়ে মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার এই দিনটি প্রতিবছর "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস" হিসেবে পালন করা হয়।

তিনটি অনুষদ ও ১২টি বিভাগ নিয়ে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। কলা, বিজ্ঞান ও আইন অনুষদের অন্তর্ভুক্ত ছিল সংস্কৃত ও বাংলা, ইংরেজি, শিক্ষা, ইতিহাস, আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ, ফারসি ও উর্দু, দর্শন, অর্থনীতি ও রাজনীতি, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত এবং আইন।

সৃষ্টির শুরুতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়ে। কলকাতার তত্কালীন একটি শিক্ষিত মহল ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে। বিশেষ করে যারা ১৯০৬ সালে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছিল তারাই এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কে মেনে নিতে পারেনি। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কে ব্যাঙ্গ করে "মক্কা বিশ্ববিদ্যালয়" বলেছিলেন।

এছাড়া ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর ফলে পূর্ব বাংলার মানুষ হতাশা প্রকাশ করে। ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী সরকারের কাছে অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল পেশের আহ্বান জানান। ১৯২০ সালের ২৩ মার্চ গভর্নর জেনারেল এ বিলে সম্মতি দেন। এ আইনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ভিত্তি।

প্রথম শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিভাগে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৮৭৭ জন এবং শিক্ষক সংখ্যা ছিল মাত্র ৬০ জন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী লীলা নাগ (ইংরেজি বিভাগ; এমএ-১৯২৩)। যেসব প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে শিক্ষকতার সাথে জড়িত ছিলেন তারা হলেনঃ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, এফ.সি. টার্নার, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, জি.এইচ. ল্যাংলি, হরিদাস ভট্টাচার্য, ডব্লিউ.এ.জেনকিন্স, রমেশচন্দ্র মজুমদার, স্যার এ. এফ. রাহমান, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ।

এ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এক শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ঢাবি দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. গওহর রিজভী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন ।

ঢাবি দিবসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামীকাল সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন মলে সমবেত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হলসমূহের পতাকা উত্তোলন। সেখান থেকে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে শোভাযাত্রা শুরু হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন। শোভাযাত্রাটি ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) এসে শেষ হবে।

সকাল ১১টায় টিএসসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সভায় “উচ্চশিক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস বক্তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান।

ঢাবি’র প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন আলোচনায় অংশ নেবেন। ঢাবি’র প্রাক্তন উপাচার্য, প্রো-উপাচার্য, এমিরিটাস অধ্যাপকবৃন্দ এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী সমিতির প্রতিনিধিবৃন্দ ঢাবি দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৯৪ বছর উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিব সৈয়দ রেজাউর রহমান অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন।

ঢাবি’র সব অনুষদ, বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও হল দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী নিজস্ব কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ‘দুর্লভ পাণ্ডুলিপি প্রদর্শনী’। কার্জন হল ভবনের দক্ষিণ-পূর্ব বারান্দায় সকাল ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বায়োমেডিকেল ফিজিক্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের উদ্ভাবিত চিকিৎসা প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি/গবেষণার প্রদর্শনী। চারুকলা অনুষদে সকাল ১১টায় শুরু হবে শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। চারুকলা অনুষদ গ্যালারীতে বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত চলবে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল শিল্পকর্মের প্রদর্শনী।

এছাড়াও, থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের আয়োজনে বিকাল ৪টায় নাট-ম-ল মিলনায়তনে বিশেষ বক্তৃতা ও বিকাল সাড়ে ৪টায় বাংলা নাটক “স্বদেশী নকশা” প্রদর্শন করা হবে। বিশেষ বক্তৃতা দেবেন ঢাবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন এবং কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে হল, বিভাগ ও অন্যান্য অফিস যথারীতি খোলা থাকবে।

জেডআই