পরিবেশ বিপর্যয়ের ক্রান্তি লগ্নে বর্তমান পৃথিবীর অবস্থান। মনুষ্য সৃষ্ট প্রাকৃতিক অবক্ষয়ের কারণে আজ পৃথিবী হুমকীর সম্মুখিন। এই অপূরণীয় ক্রমান্বয়িক ক্ষতির কবল থেকে অবিলম্বে ওজোন স্তরকে রক্ষার উদ্যোগ নেয়া না হলে, অদূর ভবিষ্যতে নিদারুণ পরিনতি অপেক্ষা করছে। যার ফলশ্রোতে পৃথিবী ধ্বংসের আশঙ্কাও করছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।

পরিবেশ অবক্ষয় ও ব্যাপক দূষণের ফলে বিশ্ব আজ ভীষণভাবে বিপর্যস্ত। গ্রীণ হাউজ প্রভাব, আবহাওয়া পরিবর্তন, ভূ-মন্ডলীয় তাপ বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ওজোনস্তর ক্ষয়, মরুময়তাসহ বিবিধ কারণে পৃথিবীর পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকছে না।

বায়ুমণ্ডলের ওজনস্তর সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে প্রতিনিয়ত ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন (সিএফসি) গ্যাসসহ অন্য ওজনস্তর ক্ষয়কারী গ্যাস উৎপাদন ও ব্যবহারের ফলে ওজনস্তর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ওজন স্তরের ক্ষয় ও এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী গণসচেতনতা তৈরিতে প্রতিবছর ১৬ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক ওজন দিবস পালন করা হয়। বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এ দিবস পালিত হয়ে আসছে। 'ওজন স্তর রক্ষা করুন- অতি বেগুনি রশ্মি হতে নিরাপদ থাকুন'এই স্লোগানকে সামনে রেখে এবারের ওজন দিবস পালন করা হচ্ছে।

১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বায়ুমণ্ডলের ওজনস্তর ক্ষয়ের জন্য দায়ী দ্রব্যগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ বা সীমিত করার জন্য ভিয়েনা কনভেনশনের আওতায় ওজনস্তর ধ্বংসকারী পদার্থের ওপর মন্ট্রিল প্রটোকল গৃহীত হয়। এই দিনটিতেই পালিত হয় বিশ্ব ওজন দিবস বা আন্তর্জাতিক ওজনরক্ষা দিবস হিসেবে। ২০৪০ সাল নাগাদ প্রটোকলে অন্তর্ভুক্ত সবদেশে এসব গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ হওয়ার কথা। বাংলাদেশ ১৯৯০ সালে এই মন্ট্রিল প্রটোকলে স্বাক্ষর করে। এরপর থেকে বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণীতে ওজন স্তর রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। এ উপলক্ষেবুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সেমিনারের আয়োজন হয়েছে। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, বিশেষ অতিথি হিসেবে মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ও সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

কেএইচ