কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার গোলাবাড়ীয়া গ্রামের আব্দুস সোবহান। বয়স ৭১ পেরিয়েছে। শারিরীক অক্ষমতা থাকলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে মোহনীয় সুরের মুর্ছনায় শ্রোতাদের মুগ্ধকরার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তার। কন্ঠে তার সুরের মায়াবী যাদু। বৃদ্ধ হলেও গান গেয়ে খুব সহজে মানুষের হৃদয় মন জয় করে নেন তিনি।

সম্প্রতি কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরে ৩ দিনব্যাপী কৃষি মেলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীরা গান পরিবেশন করছিলেন। এসময় আব্দুস সোবহান নিজেই গান গাইবে বলে আয়োজক কমিটিকে অনুরোধ জানান।

পরে কর্তৃপক্ষ তাকে একটি গানের সুযোগ করে দেন। এরপর তার গান শুনে দর্শকশ্রোতা মুগ্ধ হয়ে আবারও গান গাওয়ার অনুরোধ করেন। বেশ কয়েকটা গান পরিবশেন করেন দর্শকদের অনুরোধে।

জানা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি গোলাবাড়ীয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সোবহান। বয়স ৭১ কোটায়। আব্দুস সোবহান শিশুকালে টাইফয়েডে আক্রান্ত হলে তার দুই পায়ের হাটু থেকে বেঁকে যায়। সেই থেকে আব্দুস সোবহান প্রতিবন্ধী অবস্থায় জীবনযাপন করছেন।

সংসার জীবনে আব্দুস সোবহান নানান চড়াই উৎরায় পার করেছেন। ১৯বছর হলো তার স্ত্রী মৃত্যু বরণ করেছে। তারপর থেকে সে একাকী নিঃসঙ্গ জীবন নিয়ে ঘুরে বেড়ান।

সংসার জীবনে তিন সন্তানের জনক সে। বড় ছেলে আকবর, মেজো ছেলে শাহজাহান এবং ছোট ছেলে ফারুক হোসেন। তার বড় ছেলে আকবর ট্রাকের সহকারী (হেলপার) হিসেবে কাজ করতো। গত সপ্তাহে রাজশাহীতে পেট্রলবোমায় দগ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

ঘুরতে ভালো লাগে তার। এরই মধ্যে সারা বাংলাদেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। এভাবেই পথে পথে গেয়ে বেড়ান গান। কোন গানের অনুষ্ঠান হলেই সেখানে গিয়ে অনুরোধ জানান গান গাইবার জন্য।

যদি কর্তৃপক্ষ তাকে গাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন তো ভালো না দিলে মন খারাপ করে বসে গান শোনেন। তার গান শুনে আবার কেউ কেউ তাকে বখশিষ প্রদান করেন। এতে সে আরো বেশি খুশী হয়। কারো কাছ থেকে হাত পেতে টাকা নিতে লজ্জাবোধ করলেও গান গেয়ে কেউ টাকা দিলে সেটাকে সানন্দে গ্রহণ করে নেন তিনি।

আব্দুস সোবহান বলেন, ঢাকার এক অনুষ্ঠানে এভাবে গান গাওয়ার পর আওয়ামী লীগের নেতা মোহাম্মদ নাসিম তাকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। এতো বয়স হয়েছে আবার শারিরীক প্রতিবন্ধী হওয়া স্বত্ত্বেও বয়স্ক ভাতার কার্ড জোটেনি তার কপালে।

সোবহান জানান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ও চেয়ারম্যানের কাছে অনেকবার গিয়েও একটা কার্ড মেলেনি। বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামতে হয়েছে তার।

এমকে