দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-এর স্থায়ী সদস্য হতে আবারও আগ্রহ প্রকাশ করেছে শুধু এই অঞ্চলই নয় গোটা বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চীন।

শনিবার (২২ নভেম্বর) সার্কভূক্ত ৮ সদস্য রাষ্ট্রের যুগ্ম পররাষ্ট্র-সচিবদের অংশগ্রহনে প্রোগ্রামিং কমিটির বৈঠকের মধ্য দিয়ে ১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়ার প্রাক্কালে এমন আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করলো চীন।

আজ রোববার) নেপালের অন্যতম প্রভাবশালী অনলাইন নিউজ পোর্টাল একান্তিপুর.কম (ekantipur.com) চীনের একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞের বরাত দিয়ে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে।

দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের অভিমত, সার্কের অন্যতম পর্যবেক্ষক চীনকে অপর আট পর্যবেক্ষক দেশের সাথে তুলনা করা যুক্তিসঙ্গত নয়। কারণ চীনের ভৌগলিক অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার এমন এক জায়গায় যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সার্ক সদস্যভূক্ত আট দেশের মধ্যে পাঁচটির সাথেই চীনের রয়েছে অভিন্ন সীমান্ত।

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন এসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান)-এ চীনের যে ভূমিকা রয়েছে সার্কেও একই ভূমিকা থাকা উচিত। বিশেষ করে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-তে চীন যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সার্কেও দেশটির ভূমিকা একই রকম হওয়া উচিত।

আন্ত-জাতীয় সম্পর্ক বিষয়ক চীনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান (Oceania Studies of the China Institutes of Contemporary Inter-national Relations) এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক প্রতিষ্ঠান (Institute of South and Southeast Asian)-এর ডিরেক্টর হু শিশেং এমনই মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, চীনের দ্রুত বর্ধমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কাজে লাগিয়ে সার্ক লাভবান হতে পারে। পাশাপাশি আসিয়ান এবং মধ্য ও পূর্ব এশিয়ার সাথে মিলে সার্ক এই অঞ্চলে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকায় আসতে পারে।

হু শেশিং আরও বলেন, এখন এটা সার্কভূক্ত সদস্য রাষ্ট্রের ওপরই নির্ভর করছে তারা চীনকে নতুন ভূমিকায় আসতে দেবে কীনা। এই নতুন ভূমিকায় সার্কের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অসুখী বা অস্বস্তিবোধ করা মোটেই সমীচীন হবে না।

হু শেশিং বলেন, এমনটি আশংকা করার কোন কারণ নেই যে, এর ফলে সার্কের অবস্থান ও কার্যক্রমে বাধা পড়বে বা সংস্থাটি অকার্যকর হয়েও পড়বে।

চীনের বিদেশ নীতিতে সার্কের অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এমন মন্তব্য করে হু শেশিং বলেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ (connectivity), পাকিস্তান-চীনের বৈরী সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যই সার্কের অগ্রগতির পথে অন্যতম বাধা। এমন কী ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠা লাভের পর তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সংস্থাটি একই নাজুর পরিস্থিতি বয়ে চলছে।

আসিয়ানে এবং এসসিও-তে চীনের ভূমিকাই প্রমান করে যে দেশটি সার্কের স্থায়ী সদস্য হতে কতটা আগ্রহী-এমন মন্তব্য করে হু শেশিং দক্ষিণ এশীয় এই আঞ্চলিক ফোরামের নেতৃবৃন্দকে বিষয়টি সচেতনভাবে বিবেচনার পরামর্শ দিলেন।

২০০৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সার্কের ১৩তম শীর্ষ সম্মেলনে চীন ও জাপানকে এই সংস্থার পর্যবেক্ষক হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

চীনের আন্তর্জাতিক স্টাডি বিষয়ক সংস্থা (China Institute of International Studies)-এর গবেষক ল্যান জিয়ানজুই মনে করেন, সব দিক বিবেচনায় চীন সার্কের একটি কৌশলগত অংশীদার হওয়ার দাবি রাখে এবং সার্কে একটি অপরিহার্য ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক বলয় (Silk Road Economic Belt) এবং একুশ শতকের সমুদ্র বলয় (21st Century Maritime Silk Road) গড়ার কাজকে একমাত্র চীনই পারে দ্রুততার সাথে এগিয়ে নিতে। দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশগুলোর সম্পর্ককে আরও জোরদার করার ক্ষেত্রেও চীন একটি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে।

ল্যান জিয়ানজুই আরও বলেন, চীন-সার্ক সহযোগিতা সম্পর্ক ভবিষ্যতে বিশাল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিবে যা গোটা অঞ্চলের উন্নয়নকে গতিশীল করবে।

চীনে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত মাহেশ মাসকি বলেন, সার্কভূক্ত দেশগুলোর উচিত এমন একটি উদার পরিবেশ তৈরি করা যাতে এই ফোরামে চীন তার যথোপযুক্ত ভূমিকা পালনের সুযোগ পায়। চীনও সেই ভূমিকা পালন করতে চায়। আর এটা মোটেই অস্বাভাবিক কোন ঘ্টনা নয় যে অত্র অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদিতে চীনের ভূমিকা আরও নিবিড় হবে।

কাঠমন্ডুর সার্ক মিডিয়া সেন্টার থেকে