আজ ৩ সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক সিডও দিবস। সিডও একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বা সনদ। যা নারীর প্রতি বৈষম্যকে কমিয়ে আনার কথা বলে। নারীর প্রতি অবহেলা আর বঞ্চনাকে লাঘব করতে চায়। প্রাচীন বিশ্বের অনেক দেশেই নারীদের মানুষ হিসেবেই গণ্য করা হতো না। আধুনিক বিশ্বেও এর খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। কেবল রূপ পাল্টেছে মাত্র। এই অবস্থাগুলি আমরা অনেকই সময়ই সচেতনভাবে এড়িয়ে চলতে চাই। তাই সময়ের প্রয়োজনেই এসেছে সিডও সনদ। এই সনদকে সার্বিকভাবে ছড়িয়ে দিতে ৩ সেপ্টেম্বর পালন করা হয় আন্তর্জাতিক সিডও দিবস।

সিডও। শব্দটিকে বিস্তারিত করে বলা যায়, ‘দ্য কনভেনশন অন দি অ্যালিমিনেশন অব অল ফরম্স অব ডিসক্রিমিনেশন এ্যাগেইনস্ট উইমেন’, আরেকটু সহজবোধ্য করে একে বলা যায় ‘বিল অব রাইটস ফর উইমেন্স’ অর্থাৎ নারীর প্রতি বর্ণ বৈষম্য দিবস। সিডও-কে বলা হয় নারীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দলিল।

১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সিডও সনদ প্রণয়ন হয়। নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্যকে বিলোপ করতে এটি একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে আছে। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো এই সনদে স্বাক্ষর করার মধ্য দিয়ে ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর এই সনদকে স্বীকৃতি দেয়া শুরু হয়। বিশেষ এই দিনটিকে বেছে নেয়া হয় আন্তর্জাতিকভাবে উদযাপন করার একটি দিবস হিসেবে।

বাংলাদেশ এই সনদে স্বাক্ষর করে ১৯৮৪ সালের ৬ নভেম্বর। কিন্তু বেশিরভাগ দেশই সিডও সনদের পূর্ণ অনুমোদন দেয়নি। এই তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। বিশেষ করে উল্লেখ করতে হয় ধারা-২ এবং ১৬-১ এর (গ) অংশটি। ধারা-২ কে বলা হয় সিডও সনদের প্রাণ এবং ১৬-১ এর (গ) অংশটি নারীর মানবাধিকার ও মর্যাদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। তাই এদেশের নারী অধিকার নিয়ে কাজ করছেন এমন সব ব্যক্তি ও সংস্থা বাংলাদেশ সরকারের কাছে সিডও সনদের পূর্ণ অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন আশা করেন।

সিডও আসলে নারীর মানবাধিকার সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। এতে অনুমোদনকারী হিসেবে একটি রাষ্ট্রের অনেক ব্যাপারেই সচেতন এবং তৎপর হয়ে ওঠার তাগিদ রয়েছে। সমাজব্যবস্থা এবং প্রচলিত আইনে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক বিষয়গুলিকে সরিয়ে ফেলতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে এই সিডও সনদ প্ররোচিত করে।

বিশেষ কিছু বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে সিডও সনদ অনুযায়ী। এর মধ্যে যেসব বিষয় সচল হয়ে উঠতে পারে তার ভেতরে রয়েছে, প্রচলিত আইন ব্যবস্থায় নারী-পুরুষের সমতার নীতি সম্পৃক্তকরণ। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সকল আইন বাতিল করা এবং নতুন আইন তৈরি করা। নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার জন্য যথাযথ আইনগত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ। বৈষম্য আরোপকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ। নারী-পুরুষের মধ্যে প্রকৃত সমতা স্থাপনে গুরুত্ব প্রদান ইত্যাদি।

সিডও সনদ শুধু নারীর অধিকার রক্ষার কথা বলে না, একজন মানুষ হিসেবে নারীর অধিকার রক্ষা করার কথা। সারা বিশ্বে সিডও সনদ পূর্ণ বাস্তবায়নে নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও কাজ করে চলেছেন। সবার ঐক্য এবং প্রচেষ্টাতেই সম্ভব অধিকার রক্ষা এবং বাস্তবায়নের কাজটি।

কেএইচ