এক বছরে দুটো ঘটনা৷ মার্চে নিখোঁজ মালয়েশিয়া বিমান রহস্যের কিনারা হওয়ার আগেই পূর্ব ইউক্রেনে বিধ্বস্ত হলো মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমান৷ সম্ভবত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটির ২৯৮ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন৷

আমস্টারডাম থেকে কুয়ালালামপুরে যাওয়ার পথে রাশিয়া সীমান্তের কাছে গ্রাবোভে গ্রামের উপর বৃহস্পতিবার বিধ্বস্ত হয় বিমান এমএইচ-১৭৷ ২৯৮ আরোহীর কারোই মৃতদেহ পাওয়া যায়নি, কেননা বিমানটি যেভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে তাতে দেহাবশেষ ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই৷ এখনো সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দেহাবশেষ৷

এ ঘটনার জন্য ইউক্রেন ও রাশিয়া একে অপরকে দায়ী করছে৷ রুশ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বৃহস্পতিবার জানিয়েছিল, তারা বিমানটির ব্ল্যাকবক্স খুঁজে পেয়েছে৷ শুক্রবার বিমানের আর একটি তথ্য রেকর্ডারের সন্ধান পেয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা৷

জাতীয় শোক
বিমানটিতে নেদারল্যান্ডসের ১৫৪ জন যাত্রী ছিলেন৷ তাই গোটা দেশ শোকে আচ্ছন্ন৷ সরকার একদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে সেখানে৷ বিমানটিতে মালয়েশিয়ার যাত্রী ছিল ২৮জন, অস্ট্রেলিয়ার ২৮ জন, ইন্দোনেশিয়ার ১২ জন, ব্রিটেনের ৯ জন, জার্মানির চার জন এবং বাকিরা বেলজিয়াম, ফিলিপাইন্স, ক্যানাডা ও নিউজিল্যান্ডের নাগরিক৷ ১৫ ক্রু-র সবাই মালয়েশিয়ার নাগরিক৷

বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া
বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ জানতে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারা৷ মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ওয়াশিংটনের সন্দেহ মালয়েশিয়া বিমান বোয়িং ৭৭৭ ইউক্রেনের রুশ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভূপাতিত হয়েছে৷ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘‘বিমানটি যেভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে তাতে এটাই বোঝা যায় এটা কোন দুর্ঘটনা নয়৷'' রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনও এ ঘটনাকে মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন৷

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে-র সাথে কথা বলে সমবেদনা জানিয়েছেন৷ ওবামা বলেন, যেহেতু বিমানের ধ্বংসাবশেষ ইউক্রেনে রয়েছে৷ তাই এটা তদন্ত করার একটা সুযোগ থাকছে৷ জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন৷
এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ২৮ জন নাগরিক৷ তাই অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টোনি অ্যাবট পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশন ডাকেন৷ সেখানে তিনি বলেছেন, ‘‘রাশিয়া ইউক্রেনকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করছে৷ তবে যেই করে থাকুক এটা মেনে নেয়া যায় না৷ এটা একটা দুর্ঘটনা নয়, একটা অপরাধ৷''
বিশ্লেষকদের মত

প্রশ্ন উঠেছে কেন বিমানটি ইউক্রেনের সংঘাতপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে গেলো না৷ বিশ্লেষকরা বলছেন, বরাবরই বিমানগুলো চেষ্টা করে সমস্যাক্রান্ত এলাকাগুলো এড়িয়ে অন্য পথ বেছে নিতে৷ এতে হয়ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো এবং জ্বালানি শেষ হওয়ার ভয় ছিল৷ কিন্তু অন্য কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারত এটি৷ তবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমস্টারডাম থেকে কুয়ালালামপুরের যে রুট ছিল, তা নিরাপদ বলে জানিয়েছিলেন বিমান কর্তৃপক্ষ৷

গত ৮ই মার্চ থেকে নিখোঁজ এমএইচ৩৭০ উড়ালের বিমানটি নিয়ে এখন যেসব প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সেগুলো হচ্ছে, পাইলট কি নিকটবর্তী কোনো স্থানে বিমানটি অবতরণ করাতে চয়েছিলেন? বিমানটি কি অন্য একটি বিমানের রাডার সিগন্যালের আড়ালে চলতে চয়েছিল? বা এটি কি সত্যিই মালদ্বীপ পর্যন্ত উড়ে গিয়েছিল?

এপ্রিলে ইউক্রেনের ক্রাইমিয়ার আকাশসীমা তাদের বলে ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া৷ তখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বিমান প্রশাসন রাশিয়া ও ইউক্রেনের আকাশ সীমা ব্যবহার না করতে নির্দেশ দেয়৷ শিকাগোর এভিয়েশন অ্যাটর্নি টমাস রাউট বলেছেন, ‘‘আগে থেকে বিতর্ক রয়েছে এবং সতর্কতা রয়েছে এমন একটি রুট কেন বিমানটি এড়িয়ে গেল না, এটা সত্যি ভাবনার বিষয়৷'' তবে এটা সাধারণত বিমান কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়ে থাকে বলে জানালেন তিনি৷ রাউট বলেন, আফগানিস্তানের সংঘাতপূর্ণ এলাকার উপর দিয়ে প্রতিদিনই অনেক বিমান যাতায়াত করে৷ জার্মানির লুফটহানসা এয়ারলাইন্স এই ঘটনার পরপরই তাদের সব ফ্লাইট পূর্ব ইউক্রেনের উপর দিয়ে যাতে না যায় তার নির্দেশ দিয়েছে৷ তবে কিয়েভ এবং ওডেসাগামী ফ্লাইট বাতিল করেনি লুফটহানসা৷

এ বছরই ৮ই মার্চ ২৩৯ জন আরোহী নিয়ে কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং যাওয়ার পথে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এমএইচ৩৭০ উড়ালের বিমানটি নিখোঁজ হয়৷ সে রহস্যের এখনো কিনারা হয়নি। সূত্র: ডয়চে ভেলে

ঢাকা, ১৮ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) এমএ