২০০০ সালে হিজবুত তাহরিরের প্রতিষ্ঠার পর ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর নিষিদ্ধ হয় সংগঠনটি। কিন্তু বাস্তবে নয়, শুধু কাগজে-কলমেই নিষিদ্ধ তারই প্রমাণ দিল নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিজবুত তাহরির।
২ ঘন্টার একটি অনলাইন সম্মেলন সফল করার জন্য করা হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার পোষ্টার ও লিফলেট। অনলাইন সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তাদের কার্যক্রম শুরু হয় ১৪ আগস্ট থেকে। সর্বশেষ গতকাল ৪ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৩টায় শুরু হয়ে ২ ঘন্টার মধ্যেই শেষ হয় তাদের সকল কার্যক্রম।
কিন্তু এত ঝুকি, এতো খাটাখাটনির পরও হিজবুত তাহরির মন জয় করতে পারেনি তাদের বেশির ভাগ নেতাকর্মীদের। এছাড়া সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যে পরিমাণ নেতাকর্মীদের অংশগ্রহন করাতে চেয়েছিল হিজবুত তাহরির, সে বিষয়ে সাড়া পায়নি সংগঠননি। পুলিশের মতে, সম্মেলন চলাকালীন সময়ে তাদের ওয়েবসাইটে ভিজিটর ছিল পাঁচশো’র মত। যার বড় একটি অংশ সাংবাদিক এবং পুলিশ বিভাগের লোক।
হিজবুত তাহরিরের অনলাইন সম্মেলন শেষে বিরুপ প্রতিক্রিয়া পড়েছে সংগঠনের কর্মীদের মাঝে। বেশির ভাগ কর্মী সম্মেলন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাই তাদের নেতারাও বিব্রত। সম্মেলনে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন পাঁচজন। তারা হলেন, উপস্থাপক শিবলী আহমেদ, ব্যারিস্টার করিম জাহিদ, জাহিদুর রহমান, সৈয়দ মো. গালিব ও ওয়াহিজ মাহবুব। কর্মীদের অভিযোগ উপস্থিত পাঁচ জনের মধ্যে তিন জনই পাঠ করেছেন লিখিত বক্তব্য। এছাড়া প্রশ্নোত্তর পর্বের কথা বলা হলেও এর আগেই শেষ করে দেয়া হয় তাদের সম্মেলন। 
অনলাইন সম্মেলন প্রচারের জন্য তার নিজেরাই ল্যাপটপ-নেট কানেকশন দিয়ে কর্মীদের দেখানোর ব্যবস্থা করা হয় বিভিন্ন এলাকায়। এক্ষেত্রে সংগঠনের কর্মীদের চাইতে সাধারণ অনেক মানুষকে দেখানো হয় তাদের অনলাইন সম্মেলন। আর কিছু মানুষ হিজবুত তাহরির সম্পর্কে জানার উৎসুকতা নিয়ে দেখতে গিয়েছেন সম্মেলন।
কথা হয় তাদের এক কর্মী আরাফাত রহমান কাওছারের সাথে। তিনি জানান, সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয় ছিল দেখে দেখে লিখিত বক্তব্য পাঠ করা। এটা ছিল শুধুই একটা প্রেস ব্রিফিং, সম্মেলন নয়। যদি তাদের ইসলাম সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকতো তাহলে এমন হতো না। এছাড়া বক্তব্য সাজিয়ে-গুছিয়ে উপস্থাপন করতে পারেনি তারা।

আর হিজবুত তাহরিরের নেতারা কর্মীদের প্রশ্নের মুখে পড়েন যখন প্রশ্নোত্তর পর্ব না হয়েই শেষ হয় সংগঠনটির অনলাইন সম্মেলন। এ বিষয়ে আরেক কর্মী রায়হান বলেন, আমরা বড় ভাইদের প্রশ্ন করলাম, ভাই এমন করলো কেনো? এর চাইতে তো একটা ভিডিও ইউটিউবে আপ করলেই তো হতো।
এই দুই কর্মীর মাধ্যমে তাদের নেতা-বড় ভাইদের সাথে যোগাযোগ করতে গেলে তাদের মোবাইল নাম্বার, ফেসবুক, স্কাইপ কিছুতেই তাদের পাওয়া যায়নি। এছাড়া হিজবুত তাহরির সংগঠক হোসাইন ইবনে তাহির এবং সাকিব মাহমুদের সাথে যোগাযোগ করলে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেন নি।
১৪ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০ দিনের সক্রিয় কার্যক্রমে অনেকে পুলিশের ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ রাজধানীর বেশির ভাগ স্কুল-কলেজ, মসজিদে দিনের বেলায় লিফলেট বিলি করেছে তাহরির কর্মীরা। এমনকি বায়তুল মোকাররম মসজিদেও জুম্মার নামাজের লিফলেট বিলি করা হয়েছে। আর সম্মেলন ঘিরে হিজবুত তাহরিরের ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে দুই জন ছাত্রী। 
এ বিষয়ে ডিএমপি’র মুখপাত্র ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘কৌশলগত কারণে আমরা হিযবুত তাহরিরের অনলাইন সম্মেলনে হানা দেইনি। তবে আমরা পুরো সম্মেলনটি পর্যবেক্ষণ করে জড়িতদের চিহ্নিত করেছি।’
র্যাব ও ডিবি সূত্রে জানা গেছে, অনলাইন সম্মেলনে ওই পাঁচ ব্যক্তি ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন, সৈয়দ মুস্তাফিজ, ফাতেমা বিনতে সোলায়মান, আমীর হামজা, আতাউল্লাহ রাফি, সামির খান, ফামিদুর রহমান, কাজী মেহেদী । এদের বিস্তারিত পরিচয় এখন ডিবি ও র্যাবের হাতে।
এদিকে, হিজবুত তাহ্রীরের ওয়েবসাইট বন্ধ করার জন্য পুলিশ সদর দফতর থেকে গত বুধবার ২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হলেও সাইটটি বন্ধ করা হয়নি। এ কাজটি অবশ্য বিটিআরসির।
উল্লেখ্য, অনলাইন সম্মেলনটি 'লাইভস্ট্রিম ডটকম'/ইমারজিং খিলাফাহ্ বিডি নামে একটি ওয়েবসাইটে দেখানো হয়। এছাড়া সম্মেলনের সময়ইমারজিং খিলাফাহ্ নামের ফেসবুক পেজে প্রশ্ন করার জন্য বলা হয়েছিল সংগঠনের দেয়া লিফলেটে। যোগাযোগের জন্য পোস্টার ও লিফলেটে একটি মোবাইল নম্বরও (০১৭৯৮৩৬৭৬৪০) দেওয়া হয়েছিল।
এছাড়া, সম্মেলনে বক্তাদের বক্তব্যের বেশির ভাগ জুড়ে ছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য। বঙ্গবন্ধু এবং তার দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে তাদের বক্তব্যে।
এএইচ





