তবে, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির দাবি, অপরাধীদের বাঁচাতেই নানা অজুহাতে বিচারকে গতিহীন করে দেয়া হচ্ছে।
২০১৩ সালের ২৪শে এপ্রিল। মালিকের চরম লোভ আর অন্যায়ের ভার বইতে না পেরে ধসে পড়ে সাভারের রানা প্লাজা। এটি দেশের সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনার ইতিহাস।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী মেয়েকে হারান রুবি আক্তার। নিদারুণ কষ্টে এখন দিন কাটে তার। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার না পেয়ে ক্ষুব্ধ তিনি। সুষ্ঠু বিচারই হতে পারে স্বজন হারা মানুষগুলোর একমাত্র সান্ত্বনা।
প্রথমত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুমোদন না দেয়ায় অভিযুক্ত সরকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিতে বিলম্ব হয়। অবশেষে হত্যা ও ইমারত আইনের মামলা দুটিতে সিআইডি চার্জশিট দাখিল করলেও শুরু হয়নি বিচার কাজ।
জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, দোষীদের পার পাইয়ে দিতেই তো বিচারকাজে এত দেরি হচ্ছে। আমরা মনে হয় এর পুরো দায়িত্ব প্রশাসনের। তারা যেভাবে চায় পুলিশ সেভাবে চলে।
আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির পরও আসামি পলাতক থাকায় পুলিশকে দায়ী করলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
ঢাকা মুখ্য হাকিম আদালতের অতিরিক্ত পিপি আনোয়ারুল কবির বাবুল বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করা গেছে কিনা সে বিষয়ে আমাদের একটি রিপোর্ট পাওয়ার কথা। যেটি আমরা এখনো পাইনি।
আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠানো হলেও আসামি গ্রেফতারে কোনো অগ্রগতি নেই পুলিশের। হত্যা মামলাটিতে ৪১ আসামির মধ্যে ১২ জন পলাতক এবং জামিনে রয়েছে ২৩জন। আর কারাগারে রয়েছে মূল আসামি রানাসহ ৬ আসামি।
এদিকে গার্মেন্টস শ্রমিকদের একটি সংগঠন ২৪ এপ্রিল ‘শ্রমিক শোক দিবস’ঘোষণার দাবি জানিয়েছে । একইসঙ্গে দিনটিকে সরকারি ছুটির দাবি জানায় সংগঠনটি।
জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহার রানা প্লাজা ধসে মৃত্যুর ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ হিসেবে উল্লেখ করে ২৪ এপ্রিলকে ‘শ্রমিক শোক দিবস’ ঘোষণার দাবি জানান।
তিনি বলেন, পৃথিবীর কোনো দুর্ঘটনায় এতো শ্রমিক মারা যায়নি। তাই এ দিবসকে ‘শ্রমিক শোক দিবস’ ঘোষণার পাশাপাশি সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।
ওএফ





