দেশের মানুষ যখন রাজনৈতিক হানাহানি হরতাল আগুন ভাংচুর ও সন্ত্রাসী মুক্ত একটি ফুরফুরে পরিবেশ পেয়ে শান্তিতে বসবাস ও চাঁদা মুক্ত ব্যবসা বানিজ্য করছে।
বর্তমান সরকার দুর্নীতি ঘুষ বানিজ্য বন্ধ করার জন্যে যেখানে সব সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরদের বেতন দিগুণ করে দিলো তারা সবাই খুশি।
এর মধ্যে কি এমন স্বপ্ন দেখলো পুলিশের কিছু সংখক সদস্য। যে মানুষকে ঘর থেকে বের হতেই পুলিশি হয়রানিরতে আতংকিত হয়ে পথ চলতে হয়,কখন আবার কোন ঝামেলায় ঝড়িয়ে দেয়, নাকি কোন এক অজানা অজুাহাতে জীবনটাই শেষ হয়ে যায়।
আতংক এখন নিত্যদিনের একটি স্বাভাবিক বিষয় হয়ে গেছে, ব্যাক্তি সার্থ আদায়ে ক্ষমতার অপ-প্রয়োগ করছে,এমনকি রজনৈতিক মামলা দিয়ে হয়রানির ঘটনা ঘটছে এখন অহরহ। পুলিশের কিছুসংখ্যক কর্মকর্তার অনৈতিক কর্মকান্ড ঘটছে প্রতিনিয়ত।
সম্প্রতি,বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পরিদর্শক বিকাশ চন্দ্র দাস এখনো পুলিশের নির্যাতনের কথা ভুলতে পারেননি। রাস্তায় পুলিশ বা পুলিশের গাড়ি দেখলেই ভয় পান।
২৭ বছরের যুবক রাব্বী ও ৪০ বছর বয়সী বিকাশ চন্দ্র বছরের শুরুতে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন। দুজনকেই হাসপাতালে থাকতে হয় দীর্ঘদিন। বর্তমানে শারীরিক অবস্থা প্রায় ভালোর দিকে।
তবে দুজনকেই এখন পর্যন্ত মানসিক চিকিৎসার থেরাপি নিতে হচ্ছে। কোনো দোষ না করেও পুলিশি নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়টি তাঁরা মানতেই পারছেন না।
রাব্বীর ঘটনাটি ওই সময় তোলপাড় তোলে গণমাধ্যমে। এখন তিনি ব্যাংকের কাজে যোগ দিয়েছেন। এখন তাঁর একটাই চাওয়া—তিনি স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে চান।
রাব্বী এখনো বিশ্বাসই করতে পারছেন না, আসলেই পুলিশের হাত থেকে প্রাণ নিয়ে তিনি ফিরে আসতে পেরেছেন। তিনি গনমাধ্যমকে বলেন,
গত ৯ জানুয়ারি রাতে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের কাছে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বানানোর ভয় দেখিয়ে মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাসুদ শিকদার অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন।
ওই সময় রাব্বীকে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে জোর করে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
আর ১৫ জানুয়ারি দয়াগঞ্জে নিজের বাড়ি থেকে দিবাগত ভোর রাত চারটার দিকে সায়েদাবাদ এলাকায় কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা বিকাশ।
মীর হাজীরবাগ এলাকায় সাদা পোশাকধারী পুলিশের চারজন সদস্য তাঁকে থামার সংকেত দেন। তিনি ছিনতাইকারী ভেবে মোটরসাইকেল ফেলে দৌড় দেন।
পরে পুলিশ তাঁকে ধরে ফেলে। তিনি পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ তাঁকে বেধড়ক পেটায়। লাঠি ও পিস্তলের বাট দিয়ে মাথায় মারে।
এ ঘটনার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ল্যাবএইড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই আকাশ, রাসেল, এসআই মনোজসহ কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়।
বিকাশের পরিবারের সদস্যরা জানান, বিকাশের চিৎকার শুনে আশপাশের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এগিয়ে আসেন।
পুলিশ সদস্যরা চলে যেতে চাইলে পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহৃত গাড়ি রাস্তায় আড়াআড়ি দাঁড় করিয়ে পুলিশকে আটকে রাখেন তাঁরা।
পরে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) অন্য সদস্যরা এসে ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে যান। ওই সময় অচেতন অবস্থায় ভ্যানগাড়িতে পড়ে ছিলেন বিকাশ।
বিকাশ চন্দ্র দাসের এক ছেলে ও এক মেয়ে।রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানার ওসি স্থানীয় এক নিরপরাধ কৃষককে তিনবার মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করেন।
কিন্তু মামলাগুলো মিথ্যা-বানোয়াট হওয়ায় কৃষক রমজান আদালত থেকে জামিন পান। তবে ওসি আবদুর রহমান তাকে ছাড়েননি।একটি হত্যা মামলার আসামী বানিয়ে রমজানকে ফাঁসিয়ে দেবার চেষ্টা করছেন।
এ ঘটনা সমূহ ছাড়া আরো বেশ কিছু অভিযোগ পুলিশের সুনাম ক্ষুন্ন করছে। তা হলো থানায় ধরে নিয়ে নির্যাতন, এবং টাকা আদায়ের চেষ্টা অন্যথায় মৃত্যুর হুমকি এছাড়া শহরে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে সবখানেই ব্যাক্তিগত সার্থ আদায়ের লক্ষে রাজনৈতিক মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছ বলে অভিযোগ জনসাধারনের।
সম্প্রতি যশোরের ঝিনাইদহে হাফেজ জসিম উদ্দিন নামে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে, নিহত জসিমের পরিবারের অভিযোগ গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাড়ি ফেরার পথে পুলিশ জসিমকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়।
এরপর থেকে আমরা আর জসিমের কোনো খোঁজ পাইনি। ৪-এ মার্চ হরিণাকুন্ডু উপজেলার হিঙ্গেরপাড়া মোস্তবাপুর গ্রামের মাঠে মুখ ও পিটমোড়া করে হাত বাধা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায় জসিমের।
একই পথে হাটছে পুলিশের সোর্সরা, কিছুসংখ্যক পুলিশের অপকর্ম সমূহ উৎসাহিত করছে পুলিশের সোর্সদেরকে সম্প্রতি ঢাকার শাহ আলীর গুদারাঘাটে চাঁদা দাবিকারী পুলিশের সোর্সের আঘাতে চুলা বিস্ফোরণে চা বিক্রেতা বাবুল মাতুব্বর নিহত হওয়ার ঘটনার পর পুলিশের সোর্সদের নানা অপকর্ম-অপরাধকর্মের বিষয় সামনে আসছে।
পুলিশের সোর্সদের পরিচয় গোপন থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকায় কিছু লোক পুলিশের সোর্স হিসেবে প্রায় সবার কাছে পরিচিত এবং এ পরিচয় দিয়ে তারা সাধারণ নাগরিকদের ওপর নানা অন্যায় প্রভাব খাটান।
অনেক জায়গায় সোর্স আবার নিজেকে পুলিশ বলেও পরিচয় দেন। পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, পুলিশের লাইনম্যান, থানায় তদবিরবাজি, পুলিশের হয়ে ভয় দেখানো, এলাকায় আধিপত্যসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে।
বিশ্লেষকদের মতে, সোর্স নিয়োগ ও পরিচালনায় সঠিক কৌশল অবলম্বন না করায় অপরাধ আরো বাড়ছে। সোর্সদের নিয়ে সাধারণ নাগরিকদেরও আতঙ্ক বাড়ছে দিনের পর দিন।
সম্প্রতি পুলিশের এবং পুলিশের সোর্সদের বেপরোয়া আচরণে বিব্রত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। একের পর এক পুলিশ সদস্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় বেশ ভাবিয়ে তুলেছে ক্ষমতাসীনদের।
বিষয়টিকে ক্ষমতাসীন দলের দায়িত্বশীলরা খুব স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। তারা এসব ঘটনাকে ‘সর্ষের ভেতর ভূত’ ঢোকার মতো করে দেখছেন।
বিশেষ কোনও দুরভিসন্ধি থেকে এসব অপরাধ সংঘঠিত হচ্ছে বলেও মনে করছেন ক্ষমতাসীন দলের নীতি-নির্ধারকরা।
সম্প্রতি এ প্রসঙ্গে মানণীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, পুলিশের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার খবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘সিরিয়াস’ভাবে নিয়েছে।
আমরা প্রত্যেকটি ঘটনার খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু করেছি। তিনি বলেন, এখানে ভিন্ন কোনও ষড়যন্ত্র কাজ করছে কি না—তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া, অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। অপরাধ করলে সবাইকে শাস্তির আওতায় আসতে হবে। আইন-কানুন সবার জন্য সমান।
এসএম





