নির্মম, নৃশংস গণহত্যার সাক্ষী ওই পল্লী। নিষ্ঠুরতার প্রতিবাদী রূপ নিয়ে আজও মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমানে এটি শিখ বিধবা পল্লী নামেই পরিচিত। ভারতের নয়াদিল্লীতে এর অবস্থান। এই বিধবা পল্লী গড়ে ওঠার পেছনে লুকিয়ে আছে এক করুণ ইতিহাস।
সেটি ছিল ১৯৮৪ সালের ঘটনা। শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে শিখদের পবিত্র স্বর্ণমন্দিরে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। ওই অভিযানের জেরে নিজের দুই শিখ দেহরক্ষীদের গুলিতে নিহত হন ভারতের এই জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় ৩১ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ইন্দিরা ভক্ত হিন্দুরা শিখদের ওপর গণহত্যা চালায়। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ৮ হাজারেরও বেশি শিখ ধর্মাবলম্বী নিহত হন। তবে ভারতজুড়ে ওই সহিংসতায় ৩০ হাজারেও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে শিখদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয় আরও কয়েক লাখ শিখ।
ভারতের ইতিহাসে এটি জঘন্যতম সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা। সে সময় দেশজুড়ে হাজার হাজার শিখ পুরুষদের হত্যা করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিষ্ঠুরতার শিকার হয় রাজধানী শহর নয়াদিল্লী।
সেখানে আড়াই হাজারেরও বেশি শিখ পুরুষদের হত্যা করা হয়। এই নৃশংস নরহত্যার সাক্ষী শিখ বিধবা পল্লীটি। আজও সেটি ভারতের বুকে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। হিন্দুত্ববাদীদের নির্মম হামলার ক্ষতচিহ্ন এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে এর বাসিন্দারা।
প্রতিবেশি থেকে আলাদা নয় পল্লীটি। তবে এর ভেতরে লুকিয়ে আছে হাজার হাজার নিরপরাধ শিখ গণহত্যার ক্ষতচিহ্ন। জঘন্য ঘটনার স্মৃতিচিহ্ন আজও কুড়িয়ে খাচ্ছে হামলার শিকার পরিবারগুলোকে। ঘটনার শিকার নারীরা তাদের চূর্ণবিচূর্ণ জীবনটাকে এই পল্লীতে নিরবেই পুন:প্রতিষ্ঠা করেছে।

উল্লেখ্য, ইন্দিরা গান্ধী (পুরো নাম- ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী গান্ধী নেহরু) ছিলেন ভারতের দুই মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী। তিনি খুন হন ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর। সকাল ৯টা ২০ মিনিটে। এ সময় তিনি ছিলেন তার নয়াদিল্লির সফদর জং রোডের বাসভবনে। তাকে গুলি করে হত্যা করে তার দু’জন শিখ দেহরক্ষী সতওয়ান্ত সিং ও বেয়ান্ত সিং।
এর কয় মাস আগে জুনের প্রথম দিকে ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে পাঞ্জাবের অমৃতসরে শিখদের স্বর্ণমন্দিরে পরিচালিত হয় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন ব্লু স্টার’নামে সামরিক অভিযান। এ অভিযানে স্বর্ণমন্দিরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলে। বলা হয়ে থাকে, সে অভিযান ইন্দিরা সরকারের প্রতি শিখসমাজকে ব্যাপকভাবে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। অনুমান করা হয়, সে সূত্রেই সৃষ্ট ক্ষোভের জের হিসেবেই ইন্দিরা গান্ধী খুন তার দুই শিখ দেহরক্ষীর হাতে।
এআর





