বর্বর, পাষণ্ড, নির্মম, নিষ্ঠুর, অমানুষ, পিশাচ-পৃথিবীর সমস্ত খারাপ উপাধী একযোগে ব্যবহার করলেও যেন তা মিয়ানমারের হিংস্র, খুনি ও পাপাচারি বৌদ্ধদের অপকর্মের বর্ণনায় পর্যাপ্ত নয়।

নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের পর্যন্ত নির্মমভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে। আর যুবকরা যেন জ্বলন্ত উনুনের লাকড়িতে পরিণত হয়েছে।

কিন্তু কী অপরাধ এসব মানুষের? এই অসহায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা এমন কী মহাপাপ করলো যে তাদেরকে আগুনে পুড়িয়ে মারতে হবে?

সমস্ত তথ্য, উপাত্ত এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত তা হলো-এদের প্রধান অপরাধ এরা মুসলমান।

আর এ কারণেই আন্তর্জাতিক বিশ্বের নাগের ডগায় এমন হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মের তথাকথিত গুটিকয়েক অনুসারী ও মানবতার দুশমনরা। অথচ বৌদ্ধধর্মের চিরন্তন অহিংস ও শান্তির বাণী আজ ওই নরপশুদের কাছে নিছক ক্রীড়া-কৌতুক বই আর কিছুই নয়।

বছরের পর বছর এরা চালাচ্ছে মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ড, অসহায় নারীদের ধর্ষণ করে আবার হত্যা করছে। নারীদের মৃতদেহ নিয়ে আবার পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠছে। প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে এসব খবর।

এদিকে, আন্তর্জাতিক মহল কোনমতে দায়সারা গোছের কিছু মন্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে নিজেদের দায়িত্ব। উদাহরণস্বরুপ বলা যায়, গত সোমবার (১ জুন ২০১৫) হোয়াইট হাউজে এশিয়ার তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য বন্ধ করতে হবে। দেশটি সফলভাবে গণতন্ত্রে উত্তরণ ঘটাতে চাইলে এটা করতেই হবে।

ব্যস! বিশ্বের এক নম্বর সুপার পাওয়ারের ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট তার মহান দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করেছেন। মুসলমানদের প্রতি ওবামার এমন সহমর্মিতায় এখন হয়তোবা কয়েক মাস পর্যন্ত তৃপ্তির ঢেকুর তুলবে মুসলিম বিশ্ব। আর ইত্যবসরে বাদবাকী রোহিঙ্গা মুসলমানকে আগুনে পুড়িয়ে মারার কাজটি ঠান্ডামাথায় সম্পন্ন করবে শান্তিপ্রিয় বৌদ্ধরা।

সত্যিই! বড় জানতে ইচ্ছে করে, আজ যদি এর সিকিভাগও হত্যাযজ্ঞ কোন খ্রিস্টান, ইহুদি কিংবা হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চালানো হতো তার প্রতিক্রিয়া কী হতো?

এর উত্তর জানতে বেশিদূর যেতে হবে না, মাত্র ৬/৭জন ইসরাইলি যুবকের অপহরণকে কেন্দ্র করে গত বছরে (২০১৪) গাজায় চালানো যায়নবাদী ইহুদীদের আগ্রাসনের দিকে একটু নজর দেয়া যেতে পারে।

যাই হোক, রহস্যজনক কারণে, সম্ভবত পশ্চিমা মোড়ল বা পার্শ্ববর্তী বড়ভাইদের নাখোশ হওয়ার ভয়ে বাংলাদেশসহ গোটা মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দ যেন মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন।

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী এশিয়ার দুই জীবন্ত কীংবদন্তী ড. মুহাম্মদ ইউনুস ও অংসান সুচিও যেন নির্বাক। নোবেল শান্তি পুরস্কারের ভারে তাদের দৃষ্টি যেন রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর পড়ছে না।

তবে, এমন নির্মমতায় মানবতার হাহাকার তো আর থেমে থাকতে পারে না। আর সে কারণেই ফেসবুক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ওই হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানিয়ে আসছেন দিনের পর দিন, মনের আকুতি জানাচ্ছেন কলমের কালির মধ্য দিয়ে।

শাসনকর্তা বা নেতৃবৃন্দের দায় যেন আজ নিজেদের কাঁধে তুলে নিলেন আমজনতা। কিন্তু হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ছাড়া বাস্তবে তাদের কী-বা করার আছে? নেতৃবৃন্দের ঘুম ভাঙ্গাতে মানুষগুলোর এই হাহাকার কতটা কাজে আসবে-তা নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট সন্দেহ।

এবার টাইমনিউজবিডির পাঠকদের জন্য মিয়ানমারের অসহায় মুসলিম জনতার জন্য সাধারণ মানুষের হৃদয়ের আকুতি খানিকটা তুলে ধরা হলো:

আবু বকর সিদ্দিকি:

বার্মায় রোহিঙ্গা তথা জাতিগত শুদ্ধি অভিযানের নামে মুসলিম নিধন চলছে। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবাই একযুগে সোচ্চার হওয়া জরুরী। আশা করি সবগুলো ছবি একটা একটা করে দেখবেন। বেশী বেশী করে শেয়ার করুন আর বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিন অহিংস বৌদ্ধদের নৃশংসতা!

সুফী বর্ষণ:

দুনিয়ার মুসলিম কি ঘুমিয়ে আছে? এভাবে মায়ানমারে বৌদ্ধ জানোয়ারের বাচ্চারা আমাদের মুসলিম ভাইদের উপর নির্যাতন করতেছে, আল্লাহর কাছে বলি মায়ানমারের নামগোষ্ঠী সব যেনো ধ্বংশ করে ফেলে।

শরীফ ইসলাম:

মায়ানমার থেকে বিতারিত, নিজেদের প্রাপ্য অধিকার বঞ্ছিত রোহিঙ্গারা নিজেদের দেশে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দ্বারা কচু কাটার শিকার হচ্ছে, প্রাণেবাঁচতে সাগরের বুকে ধুকে ধুকে না খেয়ে মরছে, কেউই তাদেরকে একটু বাঁচার জন্যে হলেও আশ্রয় দিচ্ছে না, গগনবিদারী কান্নায় আকাশ ভারী হয়ে উঠছে।

অবশেষে এক সপ্তাহ পর, অনেকে না খেয়ে মরার পর ইন্দোনেশিয়ার জেলেরা তাদেরকে উদ্ধার করে তীরে আশ্রয় দিয়েছে। ভাবতেই গা শিউরে উঠে!! আল্লাহর দুনিয়ায় আশে পাশে মানুষরূপী যা দেখছি এগুলো কি আসলেই মানুষ নাকি মানুষরূপী দয়া-মায়াহীন পশু।

আজ পৃথিবীর মানুষগুলো এতটাই সভ্য হয়ে গেছে যে- একটি কুকুর না খেয়ে মারা গেলে, এই সভ্য লোকগুলোর চোখ দিয়ে পানির স্রোত বয়ে যায়, বনের একটি বাঘকে বাঁচাতেও তাদের হাত দিয়ে ঝরে পড়ে কোটি কোটি টাকা। অথচ এই সভ্য মানুষগুলোর চোখের সামনে দিয়েই প্রতিনিয়ত রক্ত ঝরছে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অজস্র নিরীহ মুসলিমের, কিন্তু তখন এই সভ্য নামধারী অসভ্যদের মুখ থেকে টু শব্দটিও বেরোয় না। তারা তখন দেখেও না দেখার ভান করে, দৃষ্টিকে ফিরিয়ে রাখে ভিন্ন দিকে।

আবার মাঝে মাঝে ভাবি আচ্ছা এই রোহিঙ্গারাও কি আসলেই মানুষ?? এদেরও কি বাঁচার অধিকার আছে?? না, এরা তো শুধু মানুষ না, এরা মুসলিম, এদের ধর্ম ইসলাম। মুসলিম হয়ে আবার বাঁচার অধিকার থাকবে কেন??

আজকে যদি রোহিঙ্গারা মুসলিম না হয়ে মানুষ (মানে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান) হইতো তাহলে দেখতেন সাহায্যের অভাব হইত না। একেক দেশ এদেরকে উদ্ধারের জন্যে রণতরী, বিমান-হেলিকপ্টার পাঠাইতো, জাতিসংঘ (ভণ্ডদের সঙ্ঘ) জরুরী ভিত্তিতে বিবৃতি দিতো। সাম্প্রতিক সময়ের এই নেপালের দিকেই তাকিয়ে দেখুন না।
আসলে আল্লাহর এই দুনিয়াটা জালেমে পরিপুর্ণ হয়ে গেছে। আল্লাহ্‌ তুমি এই নিপীড়িত মুসলিমদের রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে নাও, জালিমদের মসনদ ধ্বংস কর। (আমিন)

আব্দুল কাদের মানিক:

মিয়ানমারের মুসলমানদের উপর অত্যাচার আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগকেও ছাড়িয়ে গেছে। আল্লাহ্ তুমি মায়ানমারের মুসলমানদের রক্ষা করো, অত্যাচারী জালিম শাসকগোষ্ঠীর উপর তোমার গজব নাজিল করো আল্লাহ্।

মায়ানমার বুদ্ধিস্ট মুসলিমদেরকে গণহত্যা করতেছে। বুদ্ধিস্টদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেনা ৯০ বছরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থেকে শুরু করে গর্বের সন্তান পর্যন্ত! বেশির ভাগ মানুষকে আগুনে পুড়ে, গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করেছে। অথচ পৃথিবীর কোন একটি দেশ একটু প্রতিবাদ করছেনা ! এতে কি মানবাধিকার লঙ্গন হচ্ছেনা ?

প্রতিবেশী মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিবাদ করার কথা ছিলো সবার আগে। অথচ কোনো প্রতিবাদ করছেনা এই বাংলাদেশ ! ইউনাইটেড নেশনও প্রতিবাদ করছেনা! ও আই সি প্রতিবাদ করছেনা! হিউম্যান রাইটস প্রতিবাদ করছেনা!

মায়ানমারের মুসলিম সমাজ হিউমান নয় কি ?? মায়ানমার এবং থাইল্যান্ডের লোকেরা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্রগ্রামে বসবাস করে, তারপরেও কই আমরা তো তাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে দিচ্ছিনা ! বুদ্ধিস্ট বলে প্রাণী হত্যা মহাপাপ তাহলে হিউম্যান কিভাবে হত্যা করে ???

সুতরাং, অন্য ধর্মের লোকেরা প্রতিবাদ করুক না করুক অন্তত মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকাকে সর্ব প্রথমে রেখে মুসলিম দেশগুলোকে একত্র হয়ে মায়ানমারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করার অনুরোধ জানাচ্ছি। তা নাহলে সারা বিশ্বে মুসলিদের উপর অত্যাচার নির্যাতনের মাত্রা আরও দ্বিগুন বেড়ে যাবে।

জিল্লুর রহমান:

মায়ানমারের মুসলমানদের জন্য দুর্ভাগ্য যে বাংলাদেশ নামক একটি পার্শ্ববর্তী মুসলিম রাষ্ট্র তাদের প্রতিবেশি, যেখানে একটি ধর্ম নিরপেক্ষ সরকার ক্ষমতায়। যে কারনে মজলুম আরাকানিদের রক্ষায় ন্যুনতম বিবৃতিও তারা দিতে পারছেন না, সারা বিশ্বের মুসলমান শাসকরাও আশ্চর্যজনক ভাবে নির্বিকার।

শুধু আমরা নই, পৃথিবীর যে কেউ যদি নিজেকে মুসলিম দাবি করে তাহলে মায়ানমারের এই মজলুম জনগোষ্ঠিকে উদ্ধারে জেহাদ ঘোষণাকরা ফরজ। মায়ানমারের মুসলমানদের গণহত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশে কোন মানবাধিকার সংগঠন কিংবা কোন ইসলামি দল কে প্রতিবাদ জানিয়ে একটি মানব বন্ধন পর্যন্ত করতে দেখলাম না।

ফালতু কাজে মুসলমানরা উগ্রতা দেখায়, যেখানে কোরান হাদিসের সমর্থন নেই। কিন্তু কোরান যেখানে নির্দেশ দেয় সেখানে মুসলমানরা নিরব থাকে। আমরা ভুলে গেছি কোরানের সেই ঘোষণাকে যেখানে বলা হয়েছে:

"তোমাদের কি হয়েছে, কেন তোমরা আল্লাহর পথে সেসব অসহায় নর-নারী ও দুঃস্থ শিশুদের বাঁচানোর জন্য সংগ্রাম করনা। যারা অধিকার হারিয়েছে ও নির্যাতনে কাতর হয়ে ফরিয়াদ করছে, হে আমাদের মালিক। জালিমের এই জনপদ থেকে বের করে আমাদের অন্য কোথাও নিয়ে যাও এবং তোমার পক্ষ থেকে অভিভাবক পাঠিয়ে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে সাহায্যকারী পাঠাও।" (আল-কোরআনঃ সুরা নিসাঃ ৭৫)

কেবি, এসএইচ