গত কয়েক বছর ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা আসলে কোন না কোন বিষয় নিয়ে মিশ্র পতিক্রিয়া তৈরি হয়। কখনো প্রশ্নপত্রে ভুল, কখনো পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস, আবার কখনো মাদ্রাসা ছাত্রদের ভর্তিতে নতুন শর্তারোপ। এভাবে শুরু হয় বিতর্ক। ব্যতিক্রম হয়নি এবারও। আর এবারের বিতর্কের সূত্রপাত দুই কান খুলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নতুন শর্ত জুড়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে মূলত হিজাবকে নিষিদ্ধ করল বলেই অনেকের অভিযোগ।
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে গত ৩০ আগস্ট থেকে ‘গ’ এবং ‘চ’ ইউনিটের প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু হয়। সেখানে দেখা যায় আগের বছর গুলোতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর যে সকল যোগ্যতার উল্লেখ ছিল, এবার সেখানে পরিসংখ্যান ঠিক রেখে অষ্টম নাম্বারে একটি লাইন অতিরিক্ত যোগ করে দেওয়া হয়েছে। যাতে লিখা রয়েছে, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষার্থীর দুই কান দৃশ্যমান থাকতে হবে। এ নিয়ে ইতিমধ্যে মিশ্র পতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কার্যবিবরণী সূত্রে জানা গেছে, গত ৩/৮/১৭ তারিখে সাধারণ ভর্তি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ২২টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আলোচ্যসূচির ১৭ নাম্বারে ২০১৭- ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে সকল ইউনিটের ভর্তি প্রার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস সম্বলিত ঘড়ি ও কলম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়া অন্য কোন বিষয় আলোচনা হয়নি। অথচ গত বছরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের শর্তের বাইরে এবার প্রবেশপত্রে ‘পরিক্ষার্থীর দুই কান দৃশ্যমান রাখতে হবে’ এমন নির্দেশনা জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কমিটির প্রধান ও ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ( এমআইএস) বিভাগের ডিন অধ্যাপক হাসিবুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এটা আমাদের জেনারেল এডমিশন কমিটির সিদ্ধান্ত যে কান খোলা থাকতে হবে।
তিনি বলেন, যে ছেলের বড় চুল সে যদি কান বের না করতে চায়, শিক্ষক খুব জোর করে কিছু বলতে পারেন না। তাই আমরা বলে দিয়েছি যে, কোন শিক্ষক যদি বলেন তোমার কানটা আমি দেখবো, সে যেন দেখাতে বাধ্য থাকে।
এ সময় প্রতিবেদক পরীক্ষা চলাকালীন সময়ের কথা উল্লেখ করলে তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করে বলেন, এখানে আমরা উল্লেখ করে দিয়েছি সে একঘন্টা সময় কান খোলা রাখবে, যাতে শিক্ষকের তাকে ডিস্টার্ব করা না লাগে।
হিজাব করে যারা অভ্যস্ত তাদের জন্য বিষয়টা কোন সমস্যা হবে কিনা – এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের নিয়ম অনুযায়ি প্রবেশপত্র, সিট কার্ড এবং এটেন্ডেন্ট সিটে যে ছবি আছে, সেগুলোর সাথে যে পরীক্ষা দিচ্ছে তার মিল আছে কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত করা।
তিনি উল্লেখ করেন, অতিতে এক জনের পরীক্ষা আরেকজন দিয়ে গেছে। সে কারণে দেখতে চাইলে কেউ যেন বাড়াবাড়ি করতে না পারে, তাই আমরা প্রবেশপত্রে উল্লেখ করে দিয়েছি। হিজাব যারা করতে চায় তারা করবে, শুধু কান দুটা খুলে বসে থাকবে।
ভর্তি কমিটির প্রধান বলেন, বিষয়টি জেনারেল এডমিশন কমিটির সিদ্ধান্ত, এটা আমার বাদ দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। কার্যবিবরণীতে নতুন কোন সিদ্ধান্তের বিষয় উল্লেখ নেই জানালে তিনি বলেন, আমিতো আট বছর যাবত এ দায়িত্বে আছি। আগে ক্যালকুলেটরের ভিতরে সিম ঢুকিয়ে নকল করতো, সে কারণে সেটা নির্দেশ দেওয়ার পরবর্তী বছর কার্যবিবরণীতে লেখা হয়েছে। এ বছরের কান খোলা রাখার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটা আগামী বছরের কার্যবিবরণীতে লেখা হবে। তিনি বলেন, ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসের তো নতুন নতুন ভার্সন আসছে, তাই আমরা নির্দেশনাও প্রতি বছর আপডেট করছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এ এম আমজাদ এর নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ‘টাইমনিউজবিডি’কে বলেন, কানের ভিতরে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে কেউ কেউ জালিয়াতি করছে, সেটা যেন করতে না পারে, কানটা যেন দেখা যায় সেজন্যই এটা করা হয়েছে।
নিয়মিত যারা হিজাব করে অভ্যস্ত তাদের জন্য বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা সমস্যা হবেনা, বিশেষ করে খাতা যখন স্বাক্ষর করবে তখন কান যদি দেখতে চায় সেটা দেখালেই হয়ে যাবে।
কিন্তু প্রবেশপ্রত্রে যেভাবে উল্লেখ রয়েছে এতে বুঝা যায় পরীক্ষার পূর্ণ সময় খোলা রাখতে হবে – এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি পূর্বের বক্তব্য থেকে সরে এসে বলেন, এটা একটা সমস্যা। আমরা যদি জালিয়াতি গুলো ঠেকাতে চাই, তাহলেতো এছাড়া কোন গতি নাই। তিনি আরও বলেন, কানটা বের করে রাখলে আমার মনে হয়না কোন সমস্যা হবে।
প্রক্টর বলেন, কেউ যদি পাসপোর্ট অথবা আইডি কার্ডও করে থাকে, তাহলে অবশ্যই সেখানে তার গোটা চেহারাটা দেখাতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সেখানে চোখ,কান,নাক এগুলো অবশ্যই খোলা থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কান খোলা না থাকলে বুঝা যায়না যে আসলে ছাবিটা কার, এতে করে একজনের পরিবর্তে অন্যজন পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেনা। সেজন্যই খোলার বিষয়টি যোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখানে একেবারে সম্পূর্ণ মাথা খোলা রাখতে বলা হয়নি, শুধুমাত্র কান খোলা রাখতে বলা হয়েছে। যাতে আমাদের শনাক্ত করতে কোন সমস্যা না হয়।
অন্যদিকে ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের মাঝে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু ‘আ’ আধ্যক্ষর যুক্ত ( নিরাপত্তার কারণে পূর্ন নাম প্রকাশ করা হয়নি) ছাত্রী বলেন, আমি ভর্তির আবেদন করার সময় হিজাব পরিহিত ছবি দিয়েছিলাম, পরে আমাকে মেসেজ দেওয়া হয় যে আমার ছবি পরিবর্তন করে কান খোলা ছবি দিতে হবে। তখন খুব খারাপ লেগেছিল, যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবোনা। কারণ আমি সবসময় হিজাব করে অভ্যস্ত, বাইরে কখনো হিজাব ব্যতিত যাওয়া হয়না। ছাত্রীটি বলেন, এটা আমার কাছে খুবই নেগেটিভ একটা বিষয় যে আমি হিজাব ছাড়া ছবি তুলবো, কিন্তু পরবর্তিতে আমাকে দিতে হয়েছে।
প্রবেশপত্রে কান দৃশ্যমান রাখার শর্তের বিষয়ে ছাত্রীটি বলেন, আমরা যারা হিজাব বা স্কার্ফ পরি তারা যেন না পরতে পারি সেজন্যেও তারা এধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে। ছাত্রীটি বলেন, যে পর্দা করে তার জন্য পুরো একটি ঘন্টা কান খুলে পরিক্ষা দেওয়াটা একটা লজ্জাকর এবং অস্বাভাভিক বিষয় । আর আমরাতো কখনো মহিলা ব্যতিত অন্যদের সামনে এভাবে যাইনি, যেটা এখন দেখতিছি পরীক্ষার কারণে আমাদের করতে হবে। একটা মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে এটা কোনভাবেই যুক্তিযুক্ত বলে আমি মনে করিনা।
ছাত্রীটি বলেন, আমি এরকম সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাই এবং আশা করবো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে এবং আমাদেরকে স্বাভাবিক পরিবেশে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেবে।
ভর্তিচ্ছু ‘স’ আদ্যক্ষরযুক্ত এক ছাত্রী বলেন, আমার মনে হয় দেশেতো এখন জঙ্গি বিষয়টা একটা সমস্যা, হয়তো তারা এ বিষয়টিকে সামনে রেখে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এভাবে কান খোলা রাখলেতো পর্দা সমস্যা হয়। যারা পর্দা করে অভ্যস্ত তাদের জন্য এটা একটা বড় সমস্যা।
ভর্তিচ্ছু ‘স’ আদ্যক্ষর যুক্ত অন্য এক ছাত্রী বলেন, নিজে পূর্ণ হিজাব করে না চললেও আমি মনে করি যারা হিজাব করে এবং ধর্মীয় রীতি-নীতি পালনে অভ্যস্ত, তাদের জন্য সিদ্ধান্তটি অবশ্যই কষ্টকর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আমরা এমনটি আশা করিনা।
প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে এক অভিভাবক বলেন, আমার মেয়েটা কখনো হিজাব ছাড়া বাইরে যায়না, এভাবে এক ঘন্টা কান খোলা রেখে পরীক্ষা দিতে গেলে তার অস্বাভাবিক লাগবে, পরীক্ষা ভালো হবেনা, তার মেধার সঠিক মূল্যায়ন হবেনা বলে আমি আশংকা করি।
তিনি বলেন, আপনারা একটু চেষ্টা করেন, যাতে সিদ্ধান্তটা পরিবর্তন হয়, হিজাবধারীরা যেন ভালোভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে।
অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়ায় ডা. সাজেদা আক্তার বলেন, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তটি হিজাবধারিদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর এবং ধর্মীয় রীতি বিরোধীও। তা পরিবর্তন হলে ভালো হয়।
অন্য এক অভিভাবক কান খোলা রাখার পক্ষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, হাশরের মাঠে কেউ কারো দিকে নজর দেওয়ার সুযোগ থাকবেনা, আর পরীক্ষার হলটা হাশরের মাঠের মতো, সুতরাং এখানে কান খোলা রেখে পরীক্ষা দিলে কোন সমস্যা হবেনা। তিনি বলেন, আমরা চাই মেধাবিরা সুযোগ পাক, জালিয়াতি করে কেউ যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ নিতে না পারে।
জানতে চাইলে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক অজয় রায় বলেন, আমিতো এ বিষয়ে জানিনা। আসলে তারা কেন এটি করলো, আমি খবর নিবো।
বিষটি নিয়ে কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামানকে ফোন করলে তিনি রিসিভ করেন, তবে মিটিংয়ে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি ফয়েজ উল্লাহ তিনটি বিষয় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রথমত আমি মনে করি শিক্ষা দুই প্রকার, একটা হচ্ছে সুশিক্ষা, অন্যটা কুশিক্ষা। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা কর্তা ব্যক্তি আছেন, মাঝে মাঝে তাদের কাঁধে ভুত ছাওয়ার হয়, তারা একজন মানুষ হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত না করে, আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে না তুলে বিভ্রান্তির বেড়াজালে জড়িয়ে ফেলার জন্য বিভিন্ন ভাবে কাজ করেন।
তিনি বলেন, এটা মূলত কিছু বিকারগ্রস্ত মানুষের কারসাজি। এজন্য তিনি সম্পূর্ণ প্রশাসনকে দোষারোপ না করে বলেন, একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠি আছে যারা ইসলামের বিভিন্ন রীতি নীতি এবং বিধি নিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মানুষকে অন্ধকারের পথে নিয়ে যেতে চায়, তারাই এধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে।
তিনি বলেন দ্বিতীয়ত, তাদের লক্ষ-উদ্দেশ্য মূলত আমাদের মেয়দেরকে অনাবৃত করা, যা অত্যন্ত অনাকাঙ্খিত, ঘৃণিত এবং নিন্দনিয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এধরণের কাজ থেকে বিরত থাকবে এবং চক্রান্তকারীদের চক্রান্ত থেকে সতর্ক থাকবে।
তিনি উল্লেখ করেন, যারা প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শ্রেণীর শালিন গল্প কবিতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, ‘ও’ তে ওড়না পড়ালে যাদের গাত্রদাহ হয়, ‘ঋ’ তে ঋষি পড়ালে এদের কোন সমস্যা হয়না, তারাই এসকল চক্রান্তের সাথে যুক্ত।
তিনি বলেন, এরা মূলত বিকারগ্রস্থ এবং শয়তানের অনুসারী। তারা যুগে যুগে দেশে দেশে এরকম বিভ্রান্তিকর এবং অমানবিক ধর্মবিরোধী কাজগুলো করেছেন। তিনি দাবি করেন, এরা সব সময় ব্যার্থ হয়েছে, ভবিষ্যতেও ব্যার্থ হবে।
তিনি বলেন, তৃতীয়ত, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের যোগ্যাতা প্রকাশে যাদের গা জ্বলে, তারাই এসকল পরিকল্পনা করে। হিজাব নিষিদ্ধেও পায়তারা করে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে অনেকের দুর্নীতির রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। আলোকিত জীবন তাদের পছন্দ নয়, এরা সূর্যের আলো প্রকাশিত হতে দিতে চায় না, অন্ধকারকে ভালোবাসে।
উল্লেখ্য, গত ২০০৬-২০০৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথম মাদ্রাসা ছাত্রদের তিনটি বিষয়ে শর্তারোপ করেও ভর্তির পথ বন্ধ করা হয়। এরপর ২০১১-২০১২ সেশন থেকে নয়টি বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ২০০ নাম্বারের শর্ত আরোপ করে মাদ্রাসা ছাত্রদের ভর্তির পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০০ নাম্বারের বাধা মুক্ত হলেও নতুন শর্ত দিয়ে ভর্তির পথ বন্ধ রাখা হয়েছে মাদ্রাসা ছাত্রদের।
কেবি





