বিশ্বের বিজ্ঞানীরা যা হন্যে হয়ে খোঁজেন তা খেলার ছলেই খুঁজে পেলো ১০ বছরের এক শিশু। ডাইনোসর বলতে জনপ্রিয় ধারণায় একটি অধুনা অবলুপ্ত, সাধারণত বৃহদাকার মেরুদণ্ডী প্রাণীগোষ্ঠীকে বোঝায়।
এরা পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের প্রাগৈতিহাসিক অধিবাসী এবং বৈজ্ঞানিকদের অনুমান এই প্রভাবশালী প্রাণীরা প্রায় ১৬ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে রাজত্ব করেছে।
তবে চীনের হেয়ুয়ানের ঝ্যাঙ ইয়াংঝে নদীর বাঁধের ধারে ১০ বছরের এক শিশু খেলতে গিয়ে সন্ধান পেলেন ডাইনাসোরের ১১টি ডিমের।
খেলার মাঝেই সে ডায়নোসারের ১১টি ডিম খুঁজে পায়। স্কুল পড়ুয়া ওই শিশুর এমন কীর্তিতে বিজ্ঞানীরা অবাক হয়ে গেছেন। ডাইনাসোর নিয়ে বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের বেশ আগ্রহ রয়েছে। তাই বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা হন্যে হয়ে খোঁজেন ডাইনাসোরের যেকোনো তথ্য।
প্রথম ডাইনোসরের বিবর্তন হয়েছিল আনুমানিক ২৩ কোটি বছর পূর্বে। ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি বছর পূর্বে একটি বিধ্বংসী প্রাকৃতিক বিপর্যয় ডাইনোসরদের প্রভাবকে পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে দেয়।
তবে কীভাবে এমন অবাক করা আবিষ্কার করলেন ঝ্যাঙ। জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই স্কুল থেকে ফিরে খেলাধুলা করছিল ঝ্যাঙ। বাড়ির কাছে একটি নদীর বাঁধের ধারে খেলছিল সে। খেলতে খেলতে তার মনে পরে পকেটে রাখা আখরোটের কথা। আখরোটের খোল ভাঙার জন্য বাঁধের ধারে পাথর খুঁজতে শুরু করে ঝ্যাঙ।
পাথর নিয়ে যখন আখরোটের গায়ে মারতে যাবে ঝ্যাঙ, তখনই সে পাথরের গায়ে গোল গোল সাদা রঙের ছাপ দেখতে পায়। ছাপটা চেনা চেনা, কোথায় দেখেছি ভাবতে ভাবতেই শিউরে উঠল ঝ্যাঙ। কারণ এই পাথরই তো সে জাদুঘরে ডাইনোসরদের সংগ্রহশালায় দেখেছে। বিজ্ঞানের বইতেও এ রকম ছবি দেখেছে। তবে এটা ডাইনোসরের ডিম নয় তো!
আখরোট ফেলে পাথর হাতে সোজা বাড়ির দিকে দৌড় দেয় সে। ঝ্যাঙ তার মাকে বিষয়টি জানালে সে প্রথমে বিশ্বাস করেনি। তবু ঝ্যাঙ জেদ ধরায় পুলিশকে খবর দেয় তার মা। পরে পুলিশ এবং তার সঙ্গে আসে হেয়ুয়ান জাদুঘরের ডাইনোসর এক বিশেষজ্ঞ।
ওই বিশেষজ্ঞ পাথরটি যাচাই করেই নিশ্চিত হন এটি ডাইনোসরের ডিমের ফসিল। জাদুঘরে তার সহকর্মীদের ডেকে পাঠান তিনি। যেখানে পাথরটি পাওয়া গেছে সেখানে ঝ্যাঙের সঙ্গে যান তারা। মাটি খুঁড়ে সেখান থেকেই ডাইনোসরের আরও ১০টি ডিমের ফসিল উদ্ধার করেন তারা।
ঝ্যাঙয়ের মা বলেন, ছোট বয়স থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি খুব আগ্রহ ঝ্যাঙয়ের। ডাইনোসরের বিষয়ে অনেক বই পড়ে সে। হেয়ুয়ান জাদুঘরেও ডাইনোসরের ফসিল দেখতে গিয়েছিল ঝ্যাঙ। তাই ডাইনোসরের ডিম চিনতে অসুবিধা হয়নি।
তবে, চিনের এই শহরে ডাইনোসরের ডিম পাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। ২০১৫ সালেই রাস্তার তৈরির কাজ চলার সময়ে মাটির নিচ থেকে ৪৩টি ডাইনোসরের ডিমের ফসিল উদ্ধার হয়। ১৯৯৬ সালে এই শহরে প্রথম ডাইনোসরের ডিমের ফসিল পাওয়া যায়। তারপর থেকে প্রায় ১৭,০০০টি ডাইনোসরের ডিমের হদিশ পাওয়া গেছে। এই জন্য হেয়ুয়ান শহরকে চিনের ‘হোম অফ ডাইনোসরস’ বা, ‘ডাইনোসরদের বাড়ি’ বলা হয়।
এএস





