ইন্টারনেট, ভিডিও ইত্যাদির কারণে শিশুরাই যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বেশি। কৌতূহলবশত অনেক শিশুও যৌনতার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এতে অপ্রত্যাশিতভাবে অনেকে ক্ষতির শিকার হচ্ছে। ইদানীং যৌনতার শিকার হয়ে এমন অনেক শিশু ভয়াবহ অবস্থায় হাসপাতালেও ভর্তি হচ্ছে। এদের মধ্যে ১ থেকে ৯ বছরের শিশুও রয়েছে।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে করণীয় এবং যৌন নির্যাতন প্রতিরোধের কৌশল নির্ধারণ বিষয়ে ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস অ্যাডভোকেসি ফোরামের ত্রৈমাসিক সভার আলোচনায় উদ্বেগজনক এই তথ্য ওঠে এসেছে।সভায় বলা হয়, দেশে বহুবিবাহ ও পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনাও বাড়ছে।
রবিবার সিরডাপ মিলনায়তনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের পরিচালক ড. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রোটেকটিং হিউম্যান রাইটস (পিএইচআর) প্রোগ্রামের চিফ অব পার্টি অব্রি ম্যাকাচেন স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
যৌন নির্যাতন প্রতিরোধের কৌশল নির্ধারণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে করণীয় ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ে আলোচনা করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ট্রেড পলিসি সাপোর্ট প্রোগ্রামের উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আব্দুস ছালাম, অ্যাডভোকেট সালমা আলী, পিএইচআর প্রোগ্রামের অ্যাডভোকেসি ও কমিউনিকেশন ম্যানেজার শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, পিএইচআর প্রোগ্রামের ডেপুটি চিফ অব পার্টি তানিয়া নুসরাত জামান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের কো-অর্ডিনেটর গাইনী অ্যান্ড অবস বিশেষজ্ঞ ডা. বিলকিস বেগম, সিলেটের বালাগঞ্জের এম এ মতিন প্রমুখ।
এ ছাড়া সভায় উপস্থিত থেকে দেশের ৮টি উপজেলা হিউম্যান রাইটস অ্যাডভোকেসি ফোরামের সদস্য ও স্থানীয় স্টক হোল্ডাররা ওইসব বিষয়ে তাদের তথ্য ও মতামত তুলে ধরেন।
সভায় বলা হয়, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, যৌন নির্যাতন, পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যথেষ্ট আইন আছে। আইনের বাস্তবায়নের অভাবে সত্যিকার অর্থে এসব সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে না। দেশে বাল্যবিবাহ, যৌন নির্যাতন এবং পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা কমার পরিবর্তে ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। পারিবারিক নির্যাতনের কারণে অনেক সংসার ভেঙে যাচ্ছে।
সভায় আরও বলা হয়, দেশে বহু বিবাহের প্রবণতাও বাড়ছে। বিশেষ করে সিলেটে এই প্রবণতা দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বেশি। এখানকার অনেকে লন্ডনে থাকেন। সেখানে স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে রেখে এখানে এসে আবার অল্প বয়সের মেয়ে বিয়ে করেন। অনেকে এভাবে ৩-৪টি বিয়ে করেন। এতে পারিবারিক নির্যাতন বেড়ে অনেক সংসার ভেঙে যায়।
আধুনিক প্রযুক্তির নানা মাধ্যমের অপব্যবহার রোধ করার জন্য জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে বলে সভায় অভিমত ব্যক্ত করা হয়। এ ব্যাপারে সরকার ও প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবারের অভিভাবকদেরই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। সভার আলোচনায় ভুয়া সনদে রেজিস্ট্রিবিহীন বিয়ে, জন্মনিবন্ধনের নানা ত্রুটি ও অনিয়মের হতাশাজনক চালচিত্র ফুটে ওঠে।
ঢাকা, ৩১ আগষ্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএ





