রাজধানীর মগবাজারের দিলু রোডে বিয়ের আসরে কনের বাবা তুলা মিয়াকে (৪৫) হত্যার ঘটনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বখাটে যুবক সজীব আহম্মেদ রকি।
শুক্রবার আদালতে এ জবানবন্দি দেয় সে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মগবাজার দিলু রোডের প্রিয়াঙ্কা শুটিং হাউসের দ্বিতীয় তলায় কনের বাবা তুলা মিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে সজীব। এ ঘটনায় আহত কনের মা ফিরোজা বেগম এখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সজীব এ হত্যাকাণ্ডের পিছনে দুটি কারণ উল্লেখ করে। প্রথম কারণ হচ্ছে বারবার হুমকি দেয়ার পরও তার (সজীব) সঙ্গে মেয়ের বিয়ে না দিয়ে অন্যত্র বিয়ে ঠিক করা।
এছাড়া তুলা মিয়ার করা নারী নির্যাতন মামলায় জেল খাটার কারণে সজীব প্রতিশোধ নিতে চায়। আর তাই প্রতিশোধ নিতে বিয়ের আসরে গিয়ে ফিল্মি স্টাইলে বাবা তুলা মিয়া এবং মা ফিরোজা বেগমকে ছুরিকাঘাত করে সে।
ঘটনার পর বখাটে সজীব আহম্মেদ রকিকে স্থানীয়রা আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সজীবকে একমাত্র আসামি করে হাতিরঝিল থানায় হত্যা মামলা করেন তুলা মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া। মামলায় পুলিশ সজীবকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে।
এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার সকালে তুলা মিয়ার লাশ গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুরে নিয়ে যান স্বজনরা। সেখানেই তাকে দাফন করা হয়েছে। তুলা মিয়ার মেয়ে এখন শ্বশুরবাড়িতেই আছে। তুলা মিয়ার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে বৃহস্পতিবারই স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুক্তার হোসেন দাঁড়িয়ে থেকে বিয়ে সম্পন্ন করে কনেকে শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দেন।
এ মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বখাটে সজীব ও তুলা মিয়ার মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করছে। তখন থেকেই সজীব তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছে। উৎপাতের কারণেই ২০১৭ সালে মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ওই মেয়েকে মিরপুরে তার খালার বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানেও বখাটে সজীব তাকে উত্ত্যক্ত করে। একপর্যায়ে আতঙ্কে মেয়েকে টাঙ্গাইলে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় তার পরিবার।
কয়েক মাস আগে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় এলে আবারও সজীব পিছু নেয়। মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তুলা মিয়া সজীবের বিরুদ্ধে মার্চে নারী নির্যাতন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় সজীব জেলও খেটেছে। মাদকাসক্ত ওই যুবক জেল খেটে কিছুদিন আগে ছাড়া পেয়েছে।
বিয়ের খবর শুনে বুধবার কনের বাড়িতে এসে বাবা তুলা মিয়াকে হুমকি দেয়। এ সময় সজীব বলে, ‘অন্য কোথাও মেয়ের বিয়ে দিলে ভালো হবে না। ওর বিয়ে যদি হয় আমার সঙ্গেই হতে হবে। আর তা না হলে আমি সব তছনছ করে দেব।’ এর একদিন পরই সে বিয়ের আসরে কনের বাবাকে হত্যা করে।
জেড





