পদ্মার পানিতে ভেসে এসেছে প্রচন্ড বিষধর রাসেল ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপ। ফরিদপুরের ডিক্রিরচর ইউনিয়নের বালিয়াঘাটে পদ্মা পাড়ের এএলএম ব্রিকস নামের একটি ইটভাটা থেকে মঙ্গলবার বিকালে সাপটি উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
ইটভাটায় এ সাপ দেখতে পেয়ে শ্রমিকেরা আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়ে। সাপটির দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ ফুট ও ওজন সাড়ে পাঁচ কেজি।
বুধবার সকালে ড্রামের মধ্যে থাকা সাপটি মারা যায়। পরে সাপটিকে পার্শ্ববর্তী জায়গায় মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।
ফরিদপুর বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানান, ফরিদপুরে চন্দ্রবোড়া সাপ এই প্রথম পাওয়া গেল। এর আগে চরভদ্রাসন উপজেলার কাশবনে পাওয়া গেলেও এবার পাওয়া গেল ফরিদপুরে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ সাপের কামড়ে গত তিন বছরে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
খুলনার বন্যপ্রাণী ও সাপ বিশেষজ্ঞ আবু সাঈদ বলেন, রাসেল ভাইপারকে চন্দ্রবোড়াও বলা হয়। এ সাপ সাধারণত দেশের উত্তরাঞ্চল তথা বরেন্দ্র অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, বন্যায় পদ্মার পানিতে ভেসে সাপটি ফরিদপুরে এসেছে।
চন্দ্রবোড়া বা উলু বোড়া (বৈজ্ঞানিক নাম: Daboia russelii) ভাইপারিডি পরিবারভুক্ত একটি অন্যতম বিষধর সাপ। এই সাপ সবচেয়ে বিষাক্ত না হলেও এর অসহিষ্ণু ব্যবহার ও লম্বা বহর্গামী (Solenoglyphous) বিষদাঁতের জন্য অনেক বেশি লোক দংশিত হন।
বিষক্রিয়ায় রক্ত জমা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অত্যধিক রক্তক্ষরণে অনেক দীর্ঘ যন্ত্রণার পর মৃত্য হতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্র ভয়ে হার্ট অ্যাটাক মৃত্যুর কারণ।
চন্দ্রবোড়ার স্বভাব
চন্দ্রবোড়া নিচু জমির ঘাসযুক্ত উন্মুক্ত পরিবেশে এবং কিছুটা শুষ্ক পরিবেশে বাস করে। এরা নিশাচর, এরা খাদ্য হিসেবে ইঁদুর, ছোট পাখি, টিকটিকি ও ব্যাঙ ভক্ষণ করে। পৃথিবীতে প্রতিবছর যত মানুষ সাপের কামড়ে মারা যায়, তার উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এই চন্দ্রবোড়ার কামড়ে মারা যায়। এদের বিষদাঁত বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃহৎ। এরা প্রচণ্ড জোরে হিস হিস শব্দ করতে পারে।
এএস





