দিন দিন ক্রমাগত বাজারের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থা সংগতিপূর্ণ না হওয়ায় দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
প্রতিবছরই উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শ্রমবাজারে আসা শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেক বেকার থাকছেন অথবা যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছেন না।
বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট-এর ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের ৪৭ শতাংশ স্নাতকই বেকার।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠনের (আইএলও) তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি। বেকারত্বের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৫ সালে মোট বেকারের সংখ্যা ছয় কোটিতে দাঁড়াবে।
সংস্থাটির মতে, বেকারত্ব বাড়ছে এমন ২০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের স্থান ১২তম।
আর এ বেকারত্বের হার বাড়ার কারনে একদল প্রতারক চক্র বেকারদের সাথে প্রতারণা করে চলছে। তাদের কাছ থেকে নিমিষেই হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা।
দেশের নামি দামি পত্রিকা থেকে শুরু করে বিশেষ করে রাজধানীর বাসে, দেয়ালে চাকুরীর ভুয়া ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। যেখানে অফিসের ঠিকানা বা কোনো লোকেশন নেই শুধু মাত্র মোবাইল নাম্বার দেয়া হয়। আর এ মোবাইলের মাধ্যমে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে প্রতারকরা লোভনীয় অফার দিয়ে কোন নিদ্দিষ্ট স্থান বা অফিস সাজিয়ে সেখানে আসতে বলে।
বেকারদের ভুলিয়ে ভালিয়ে চাকুরী দেয়ার নাম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে আসলে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে আরো টাকা দাবী করে। এভাবে টাকা প্রদানের মাধ্যমে তারা সেখান থেকে দেউলিয়া হয়ে ফিরে আসে।
এমনই একজন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ মনির (২৫) নামে এক চাকরী প্রত্যাশিত এক বেকার । তিনি বলেন, আমি চাকরীর খোঁজে বের হই তখন দেয়ালে একটি পোস্টার দেখতে পাই, পোস্টারে লিখা রয়েছে চাকরীর সুযোগ! চাকরীর সুযোগ! গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারের অনুমদিত প্রতিষ্ঠানে পার্ট টাইম কিংবা ফুল টাইমে অধ্যয়ণরত ছাত্র কিংবা পাশ করা ব্যক্তিদের চাকরী দেয়া হয়। কোন ধরণের জামানত নেয়া হয়না। সেখানে অফিসের কোন ঠিকানা ছিলনা, শুধু মাত্র বড় করে মোবাইল নাম্বার দেয়া ছিল।
এমন ধরণের বক্তব্য দেখে আমার আশায় বুক ভরে যায়। মনে মনে ভাবলাম এখন মনে হয় আমার বেকারত্ব ঘুচে যাবে । তাই দেরী না করে পোস্টারে নাম্বার দেখে কল দিলাম।
কল রিসিভ করে তিনি আমার পরিচয় ও বাড়ি কোথায়, কি করি, কিভাবে তাদের মোবাইল নাম্বার পেলাম ইত্যাদি হাজারো প্রশ্ন করল।
পরবর্তীতে তিনি আমাকে মহাখালীর ফ্লাইওভারের পশ্চিম পাশে আর কে রাজভবনের ঠিকানার কথা বললেন। কথামত আমি সেখানে গিয়ে আবার উক্ত নাম্বারে কল দিলাম, পরে তারা আমাকে ঐ বাড়ির ৪ তলায় যেতে বললো।
সেখানে যাওয়ার পরে তারা আমাকে অনেক যত্ন করলো এবং বললো আপনার চাকরীর কাগজপত্রগুলো ঠিক করতে ও ট্রেনিংয়ের জন্য ৫ হাজার টাকা লাগবে। কি করবো তখন কি উত্তর দিবো তা ভেবে পাই না।
পরে তাদের লোভনীয় বেতনের কথা শুনে আমি তাদেরকে ৫ হাজার টাকা দিলাম। টাকা দেয়ার পর তারা বললো যে আজ আপনি চলে যান পরে আপনাকে কল দিয়ে জানানো হবে।
পরের দিন ঐ মোবাইল নাম্বার থেকে কল আসে। আমাকে আমার নাম জিজ্ঞাসা করে বলে আপনার যোগাদানপত্র ও ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আপনাকে আগামী ৬ তারিখে যোগদান করতে হবে অন্যথায় আপনার যোগদানপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। পরে তারা আমাকে বললো প্রশাসনিক কাজের জন্য আপনাকে ১০ হাজার টাকা দিতে হবে, আপনি কি দিতে পারবেন? না হলে আমরা অন্য প্রার্থীকে নিয়োগ দিবো। কিছু ভেবে পাইনা, যেহেতু ৫ হাজার টাকা দিয়েছি, তাই অনেক কষ্ট করে যোগার করে আরো ১০ হাজার টাকা দিলাম।
এ নিয়ে আমার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে চাকুরীর আশ্বাস দেয়। পরে নির্ধারিত ৬ তারিখে অফিসে এসে দেখ অফিস নেই। মোবাইলেও যোগযোগ করা যাচ্ছে না কারন যে মোবাইল নাম্বার আমাকে দেয়া হয়েছে তা পরিবর্তন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফ্লাট মালিককে জিজ্ঞাস করলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানিনা।
পরে আমি জানতে পারি ৪ তলার ফ্লাট ভাড়া নিয়ে ৪ মাস যাবৎ এই প্রতারকরা প্রতারণা করে আসছে। নিরীহ মানুষদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে দিনের পর দিন ঘুরিয়ে তারা দেউলিয়া হয়ে গেছে।
এরা এক এক এলাকায় ৪/৫ মাস থেকে টাকা হাতিয়ে অন্য এলাকায় পালিয়ে যায়। তাদেরকে ধরা বা গ্রেফতার করা আইন শৃংখলা বাহীনির পক্ষেও সম্ভব নয়।
আর এভাবেই প্রতিদিন দেউলিয়া হতে হয়েছে শহিদ, কেফায়াত উল্লাহ, অহিদসহ লক্ষ বেকার যুবকদের।
এসএইচ





