আজ ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নিয়েছে ‘সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করুন: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন’।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য, পৃথিবীতে প্রায় ৩৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষ ডায়বেটিসে ভুগছেন। ২০১২ সালে ডায়বেটিসের কারণে ১৫ লাখ মানুষ মারা যান। নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে ডায়বেটিসে মৃত্যুর হার ৮০ শতাংশ।

২০১৪ সালে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪২২ মিলিয়ন প্রাপ্তবয়ষ্ক ব্যক্তি, যা ১৯৮০-তে আক্রান্তের তুলনায় ৪ গুণ বেশি।

আমাদের দেশে বর্তমানে ৭১ লাখ তালিকাবদ্ধ ডায়াবেটিস রোগী রয়েছে, যদিও এখনও অনেকেই এই হিসাবের বাইরে বলে ধারণা করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য, এখনই 'দৃঢ় পদক্ষেপ' না নিলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।

ডাব্লিউ এইচ ও-র কর্মকর্তা ড: এতিয়েন ক্রুগ মতে, 'ডায়াবেটিস একটি নীরব ঘাতক ব্যাধি। কিন্তু সে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে আসছে আর তাকে এখনই থামানো দরকার।'

রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে স্বাস্থ্যের জন্য তা ভয়াবহ ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।এর ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে, হাতপা বাদ দেওয়ার মত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, কিডনির সমস্যা, অন্ধত্ব এবং গর্ভাবস্থায় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

ডায়াবেটিস বিশ্বের অষ্টম সবচেয়ে বড় ঘাতক ব্যাধি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে মানুষের মৃত্যুর সপ্তম কারণ হবে ডায়বেটিস।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

উল্লেখ্য ১৯৪৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘ অর্থনীতি ও সমাজ পরিষদ আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের সম্মেলন ডাকার সিদ্ধান্ত নেয়।

১৯৪৬ সালের জুন ও জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাংগঠনিক আইন গৃহীত হয়।

১৯৪৮ সালের ৭ এপ্রিল এই সংগঠন আইন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়। এইদিন 'বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস'বলে নির্ধারিত হয়।

এমবি