আজ নাট্যকার ও গবেষক সেলিম আল-দ্বীন এর ৬৬তম জন্মদিন। ১৯৪৯ সালের এই দিনে ফেনীর সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে তার জন্ম৷
সেলিম আল দীন ১৯৬৪ সালে ফেনীর সেনেরখিলের মঙ্গলকান্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন৷ ১৯৬৬ সালে ফেনী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন৷ ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন৷
দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে গিয়ে ভর্তি হন টাঙ্গাইলের করোটিয়ায় সাদত কলেজে৷ সেখান থেকে স্নাতক পাসের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন৷ ১৯৯৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে নাটক এর উপর গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন সেলিম আল দীন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েই নাটকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন সেলিম আল-দ্বীন, যুক্ত হন ঢাকা থিয়েটারে। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষে যোগ দেন বিজ্ঞাপনী সংস্থা বিটপীতে। সেলিম আল দীন ১৯৭৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘদিন বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করার পর ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
ঢাকা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সেলিম আল দীন ১৯৮১-৮২ সালে নাট্য-নির্দেশক নাসিরউদ্দিন ইউসুফকে নিয়ে দেশব্যাপী গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার’।
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনাচরণকেন্দ্রিক এথনিক থিয়েটারেরও তিনি উদ্ভাবনকারী।এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রতিষ্ঠা সেলিম আল-দ্বীনের হাত ধরেই।
সেলিম আল-দ্বীনের উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, বাসন, মুনতাসির, শকুন্তলা, নিমজ্জন, ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি। রেডিও-টেলিভিশনে প্রযোজিত নাটকের মধ্যে আছে বিপরীত তমসায়, ঘুম নেই, রক্তের আঙ্গুরলতা, অশ্রুত গান্ধার। একাত্তরের যীশু, ভাঙা প্রেম অশেষ বিশেষ, কাঁদো নদী কাঁদো' ইত্যাদিও তার সৃষ্টি।
সেলিম আল-দ্বীন তার সৃষ্টিকর্মের জন্য অনেক পুরষ্কার পেয়েছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলা একাডেমী পুরষ্কার, একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী সম্মাননা, কথাসাহিত্য পুরস্কার ইত্যাদি।
বাংলা নাট্য জগতে অসামান্য অবদান রাখা সেলিম আল-দ্বীন ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারী মৃত্যুবরণ করেন।
ইআর





