ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) হিসাব বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, পাওনাদার হয়রানি ও কমিশন আদায়ের অভিযাগ রয়েছে।
সূত্র মতে, ডিএসসিসিতে ১৪১ কোটি টাকা ঠিকাদারদের বকেয়া বিল পড়ে রয়েছে। আর এই বিলগুলো পরিশোধ না করে পছন্দের পাওনাদার এবং ঠিকাদারের কাছ থেকে অগ্রিম নগদ কমিশন নিয়ে ধীরে ধীরে বিল পরিশোধের অভিযোগ রয়েছে প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
জানা যায়, প্রধান হিসাব রক্ষণ শেখ মোহাম্মদ ওমর ফারুকের দফতর থেকে পাওনাদারদের বিলের একটি তালিকা তৈরি করা হয়। আর ওই তালিকা অনুযায়ী উপ প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মাহবুব উল হোসেন খান, হিসাব রক্ষণ কর্মকতা আলমগীর এবং শফিকুল ইসলাম পাওনাদারদের বিল দেয়ার জন্য নথি তৈরি করে চেক প্রদানের উদ্যোগ নেন। তারা প্রতিবেদনসহ চেক লিখে প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার টেবিলে দাখিল করেন।
যার ফলে ওই তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রতিযোগিতায় নামে ঠিকাদাররা। কারণ তালিকায় নাম থাকলেই পাওনাদার বিলের চেক পাবেন। তবে এই প্রতিযোগিতায় বড় বড় ঠিকাদার অর্থাৎ বড় অংকের বিল পাওনাদারদের সঙ্গে কম টাকার বিলের মালিকরা টিকতে পারে না। এরপরও রয়েছে সরকার সমর্থিত নেতাদের রাজনৈতিক চাপ। ফলে কম টাকার বিলগুলো অনেক দেরিতে প্ররিশোধ করা হয় এমন অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায় হিসাব বিভাগের কর্মকর্তাদের কক্ষে সার্বক্ষণিক আড্ডা চলে সরকার সমর্থিত ঠিকাদার ও নেতাদের।
হিসাব বিভাগে ক্রমেই বাড়ছে পাওনাদারদের অমানবিক হয়রানি আর বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নগরীর উন্নয়নমূলক কার্যক্রম। অনেকে আবার অগ্রিম কমিশন প্রদান করতে গিয়ে নিষ্পেষিত হচ্ছেন। তবে সহসা এ পরিস্থিতি পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। আর প্রতিদিনই ডিএসসিসির বকেয়ার বিলের পরিমান বাড়ছে বলে জানান সাধারণ কর্মকর্তা এবং পাওনাদাররা।
এদিকে নাম না প্রকাশের শর্তে ডিএসসিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, এই সংস্থার ৫টি আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় উন্নয়নের নামে কেনাকাটাসহ রাস্তা-ড্রেন, ফুটপাত, আইল্যান্ডে সংস্কার, মেরামত ও তৈরির জন্য প্রতিনিয়ত ঠিকাদারদেরকে কার্যাদেশ দেয়া হচ্ছে। আর কোনো রকমে কাজ শেষ করেই ঠিকাদাররা কাজের বিল জমা দিয়েই টাকা পাবার জন্য প্রতিযোগিতায় নামেন। নানা তদবিরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে বিল প্রদানের জন্য প্রতিবেদন ম্যানেজ করে হিসাব বিভাগে পাঠান।
আর এসব বিষয়ে ইদানিং হিসাব বিভাগের এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ডিএসসিরি প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দফতরে লোকজন একের পর এক অভিযোগ দায়ের করে যাচ্ছেন।
এদিকে ডিএসসিসির প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্তকর্তা  শেখ মো. ওমর ফারুক টাইমনিউজবিডি.কমকে বলেন, বর্তমানে ঠিকাদারদের ১৪১ কোটি টাকার বিল বকেয়া রয়েছে। এছাড়া ডিএসসিসির স্টাফদের গত এপ্রিল মাসের বেতন ১০ কোটি ৭০ লাখ টাকা বহু কষ্টে প্রদান করেছেন। আগামীতে কিভাবে বেতন দেবেন এখন ওই বিষয় নিয়ে চিন্তায় আছেন। অপর এক পশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফান্ডে টাকা কম থাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকা তৈরি করে পাওনাদারদের বিল দেয়া হচ্ছে। তবে পাওনাদারদের হয়রানি এবং কমিশন নেয়ার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
উপ-প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকতা মাহবুব উল হোসেন খান এবং হিসাব রক্ষণ কর্মকতা  শফিকুল ইসলাম বলেন, উপর থেকে যেভাবে তালিকা আসে তারা সেভাবেই বিল প্ররিশোধের জন্য প্রতিবেদন ও চেক তৈরি করেন। তবে অনিয়ম, অগ্রিম কমিশন নেয়া এবং বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে তারা কোনো মন্তব্য করেননি।
[b]ঢাকা, একে, ৮ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ
[/b]