বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের ঝালকাঠি জেলার ভিমরুলি ভাসমান হাট। এ হাটটি সারা বছর জুড়ে বসলেও প্রাণ ফিরো পায় পেয়ারার মৌসুমে। ঝালকাঠি সদর উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলা ও বরিশালের বানারিপাড়া উপজেলা পেয়ারা চাষের জন্য বিখ্যাত। এ সব জায়গার প্রায় ২০ হাজার পরিবার সরাসরি পেয়ারা চাষের সঙ্গে জড়িত।

পেয়ারা বাগান:

এটি ভিমরুলি গ্রামে একটি পেয়ারার বাগান। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এই উপজেলার চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৮০০ একর জমিতে পেয়ারার চাষ হয়। পেয়ারা ছাড়াও এ সব জমিতে সহযোগী ফসল হিসেবে চাষ হয় বিভিন্ন রকম সবজি।

পেয়ারা চাষি:


ভিমরুলি গ্রামের একটি বাগান থেকে পেয়ারা পাড়ছেন চাষি জয়দেব সাহা। প্রায় তিন একর জমিতে পেয়ারার চাষ করেন তিনি। কিন্তু দাম পান না বলে গত দুই বছর ধরে পেয়ারা চাষ করে বিশেষ লাভ পাচ্ছেন না এই কৃষক।

কাঁচা পেয়ারা দাম বেশি:


ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাউকাঠি গ্রামে বাজারে নেয়ার জন্য পেয়ারা বাছাই করছেন চাষীরা। বাউকাঠির পাশেই ভিমরুলি। ভিমরুলির বাজারে পাকা পেয়ারার তুলনায় কাঁচা পেয়ারার দাম কিছুটা বেশি পাওয়া যায়।

পেয়ারা বোঝাই নৌকা:


ছোট নৌকায় পেয়ারা বোঝাই করে ভিমরুলি বাজারের উদ্দেশে যাচ্ছেন চাষিরা। অনুন্নত যোগাযোগ আর সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে এ অঞ্চলের চাষিরা তাঁদের উৎপাদিত পেয়ারার ন্যায্য মূল্য পান না।

ক্রেতার সন্ধানে পেয়ারা চাষি:


ভিমরুলি বাজারে ক্রেতার সন্ধানে পেয়ারা চাষিরা। একটু ভালো দামের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা এ বাজারে ঘুরে বেড়ান এ সব ক্ষুদ্র চাষীরা।

পাইকারি দাম অনেক কম:


ভিমরুলি বাজারে কার্টুনভর্তি কাঁচা পেয়ারা। এ সব পেয়ারা মূল গন্তব্য ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহর। যেসব চাষির সামর্থ্য আছে, তারা নিজ উদ্যোগে এ সব পেয়ারা ঢাকা ও অন্যান্য শহরে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। ভিমরুলি বাজারে পাইকারি বিক্রি করলে এক কেজি পেয়ারার সর্বোচ্চ দাম পাওয়া যায় পাঁচ থেকে ছয় টাকা। অথচ ঢাকায় এক কেজি পেয়ারার সর্বনিম্ন দাম ৪০ টাকা।

দ্রুত বিক্রি করতে হয়:


বৃষ্টির মধ্যেও ভিমরুলি বাজারে ভালো মূল্যের ক্রেতা খঁজুছেন চাষিরা। মৌসুমি এ ফলটির স্থায়ীত্ব খুব কম সময় বলে গাছ থেকে পারার পর দ্রুতই বিক্রি করতে হয়।

বিদেশি পর্যটক:


ভিমরুলি বাজারে ইঞ্জিন দেয়া নৌকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন কয়েকজন বিদেশি পর্যটক। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মিডিয়ায় ভাসমান এ বাজারটির প্রচারণা হওয়ায় অনেক পর্যটক আসতে শুরু করেছেন এখানে। আসছেন বিদেশি পর্যটকও।

বঞ্চনার শিকার:


বৃষ্টি ভিজে ভিমরুলি বাজারের পথে পেয়ারা চাষিরা। দরিদ্র এ সব চাষিরা সব সময়ই পাইকার বা মধ্যস্বত্বভোগীদের বঞ্চনার শিকার হন। প্রতি কেজি পেয়ারার পাইকারি মূল্য আড়াই থেকে তিন টাকার একটু বেশি।

জেলি তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান:


অনেক খারাপ দিকের মাঝেও ভিমরুলি বাজারের ভালো একটি দিক হলো যে, এই মৌসুমে দু-একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান সরাসরি এ বাজারে আসছেন পাকা পেয়ারা কিনতে। তারা কৃষকদের দামও দিচ্ছে ভালো। এ সব প্রতিষ্ঠান পাকা পেয়ারা দিয়ে মূলত জেলি তৈরি করে থাকে।

কেএইচ