রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ন স্থান রামপুরা কে না চিনেন। কিন্তু রামপুরার বিখ্যাত একটি হাট রয়েছে যার কথা হয়তো অনেকেই জানেন না। সেই বিখ্যাত হাটের নাম মেরাদিয়ার হাট।

মেরাদিয়ার হাট স্থানীদের ভাষায় মেরাইদ্দা নামে পরিচিত। গ্রামের হাট বলেন আর আধুনিক হাট বা মেলা বলেন এখানে আপনার প্রয়োজনীয় সব ধরনের জিনিসই পাবেন। কাচা তরকারি থেকে শুরু করে ঘরের আসবাবপত্র, কাচের জিনিস, হাড়ি-পাতিল, মেয়েদের কসমেটিক্স, বিছানার চাদর, নারীদের জামার কাপড় সবই পাবেন। এর মধ্যে নারীদের জিনিসপত্র একটু বেশি পাওয়া যায় বলে হাটে মহিলাদের ভীড় একটু বেশি।

হাট কবে বসে?
গ্রামের হাটের মতই এই হাট সাপ্তাহে একদিন বসে। মেরাদিয়ার এই হাট প্রতি সাপ্তাহের বুধবার বসে। রোদ-গরম, ঝড় বৃষ্টি যাই হোক হাট বসবেই। মেরাদিয়ার হাটের নির্দিষ্ট কোন পরিসর নেই। হাট কখনো ছোট পরিসরে হয় আবার কখনো তা বনশ্রীর আবাসিক ব্লকের ভিতর পর্যন্ত চলে যায়। তবে মোটামুটি বলতে গেলে বনশ্রী আল-রাজি হাসপাতাল থেকে শুরু হয়ে পূর্ব দিকে ফয়জুর রহমান স্কুল পর্যন্ত হাটের বিস্তৃতি থাকে।

মেরাদিয়া হাটের ইতিহাস:
এই হাট কবে থেকে শুরু হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে কেউ জানেনা। স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৫০ বছর ধরে এই হাট চলছে। এই খানে একটি বিরাট বড় বট গাছ ছিল। এই বট গাছের নিচেই মূলত হাট বসতো। তখন নৌকায় করে দোকানিরা মালপত্র নিয়ে এসে হাটে বিক্রি করতো।

এই সম্পর্কে হাটের এক ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ বলেন, আমার বয়স ৪০ বছর। আমার বাড়ি গাজীপুরে। আমার বয়স বয়স যখন ৮-১০ বছর তখন থেকেই আমি আমার বাবার সাথে হাটে মাল বিক্রি করতে আসতাম। এখন আমি হাটে ব্যবসা করি কিন্তু কবে থেকে এই হাট শুরু তা বলতে পারবো না।

কিভাবে যাবেন মেরাদিয়ার হাটে?
আপনাকে প্রথমে যে কোন বাস, সিএনজি বা অন্য গাড়িতে রামপুরা ব্রিজ আসতে হবে। এর পর ব্রিজ থেকে সোজা পূর্ব দিকে যে রাস্তাটি বনশ্রীর দিকে গিয়েছে এই রাস্তায় আসতে হবে। রামপুরা ব্রিজ থেকে মেরাদিয়ার হাট আসতে আপনার রিকশা ভাড়া নিবে ২৫-৩০ টাকা। এছাড়া আপনি টেম্পুতে করেও আসতে পারবেন। টেম্পু ভাড়া হল ৭ টাকা। এছাড়া মাঝে মাঝে দু'একটি বাস বনশ্রীতে আসে তাতে ভাড়া নিবে ৫ টাকা। তবে হাটের দিন বাসে না উঠাই ভালো কারণ বাস আপনাকে অনেক আগেই নামিয়ে দিবে যেখান থেকে আপনাকে হেটে হাটে আসতে হবে।

হাটে যা যা পাবেন:
মেরাদিয়ার হাট একটি বিখ্যাত হাট। এই হাটে ক্রেতারা সব কিছুই কিনতে পারেন। হাটের দোকানিরা দেশের দূর দূরান্ত থেকে এই হাটে মালামাল বিক্রি করতে আসেন। এছাড়া হাটে শুধু ঢাকার ক্রেতারাই আসেন না ঢাকার বাহির থেকেও অনেক ক্রেতা আসেন। হাটে আসতেই শুরুতে আপনি পাবেন কাপড়ের দোকান।

এই দোকান গুলোতে মূলত নারীদের সব ধরণের কাপড় পাওয়া যায়। এর পর মেরাদিয়া মোড়ে আসলে আপনি পাবেন হরেক রকম মিষ্টির দোকান, মোড় থেকে ডান দিকে গেলে পাওয়া যাবে কাঁচা বাজার। এছাড়া এই হাটে আসবাব পত্র, কাচের জিনিস, হাড়ি পাতিল পাওয়া যায়। আপনারা যারা কবুতর, হাঁস, মুরগী কিনতে আগ্রহী চান তারা চলে যাবেন ফয়জুর রহমান আইডিয়াল স্কুলের সামনে।

এই সম্পর্কে ফয়জুর রহমান স্কুলের শিক্ষিকা জান্নাত নূর বলেন, এই হাটে সব ধরণের জিনিসই পাওয়া যায়। তাই আমারা হাটের দিন এই খানে চলে আসি। হাট মুলত জমে উঠে বিকেল থেকে, তখন এতো ভীড় থাকে যে হাটাই যায় না। এই হাটে জিনিস পত্র মোটামুটি অনেক কম মূল্যে পাওয়া যায় এবং হাটে দামি-কমদামি সব ধরণের পণ্যই পাওয়া যায়। যার কারণে সব ধরণের ক্রেতাই হাটে আসেন।

নারীদের ভীড় একটু বেশি:

হাটে নারী বা তরুণীদের পন্য বেশি পাওয়া যায় বলে পুরুষের চাইতে নারীদের ভীড় একটু বেশি। কিশোরী অরণী বলেন, আমি সব সময়ই হাটে আসি। হাটে ঘুরে ঘুরে দেখতে আমার খুব ভালো লাগে।

রামপুরার সবচেয়ে বড় কবুতরের হাট এটি
ঢাকার কয়েকটি বড় বড় কবুতরের হাটের মধ্যে মেরাদিয়ার হাট একটি। এই হাটে সব ধরণের কবুতর পাওয়া যায়। এছাড়া যারা কবুতর বিক্রি করেন তারাও এই হাটে চলে আসেন কবুতুর বিক্রির জন্য। কবুতরের হাটটি মুলত বসে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোহাম্মাদ আশরাফুলের বাসার সামনে এবং ফয়জুর রহমান স্কুলের সামনে। এখানে কবুতর ছাড়াও রাজা হাঁস, দেশী মুরগী, দেশী হাঁস বিক্রি হয়।

হাটে পকেটমার থেকে সাবধান:
হাটে বিকেল থেকে ক্রেতাদের ভীড় এবং বিক্রি জমে উঠে। ঠিক এই সময়ই পকেটমারদের আনা-গনাও বেড়ে যায় তাই ক্রেতারা সব সময় সাবধান থাকেন। তাই হাটে আসলে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

ইআর