রাজস্ব আহরণে প্রথম মাসেই ধাক্কা গেল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিদায়ী অর্থবছরের ব্যর্থতা নিয়ে নতুন অর্থবছর শুর করলেও প্রথম মাসেই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পরেনি এনবিআর।
চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আদায় সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়লেও গত অর্থবছরের জুলাইয়ে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২১ শতাংশ। আর চলতি অর্থবছরে গড়ে প্রতি মাসে রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে ২৪ শতাংশেরও বেশি হারে। রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য দেখা গেছে।
এর আগে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও ব্যর্থ হয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে সদ্য বিদায়ী ২০১৩-১৪ অর্থবছর শেষ করে এনবিআর। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ এবং বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতির মুখোমুখি হতে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে।
সদ্য সমাপ্ত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এক লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আদায় হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার ৫১২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। সে হিসেবে মোট ঘাটতির পরিমাণ চার হাজার ৪৮৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
এনবিআরের হিসাবে, গত জুলাইয়ে ৭ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬২৯ কোটি টাকা বেশি। আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), আয়কর ও অন্যান্য কর খাতে এনবিআর এই রাজস্ব আদায় করেছে। আলোচ্য সময়ে আমদানি শুল্ক আদায় ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে আদায় হয়েছে ২ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা।
একই সময়ে ভ্যাট ৮ শতাংশ বেড়ে আদায় হয়েছে ৩ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। অন্যদিকে আয়কর ও অন্যান্য কর আদায় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। গত বছর ১ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা আয়কর আদায় হলেও গত জুলাইয়ে ৪৮ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে।
এনবিআরের চূড়ান্ত রাজস্ব আদায়ের বিবরণী বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজস্ব আহরণের প্রধান তিন বিভাগের মধ্যে শুল্ক বিভাগ ছাড়া অন্য দুই খাত আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাটের ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে এনবিআর।
এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থবছরের প্রথম মাসে রাজস্ব আদায় তুলনামূলক কম থাকে। পরবর্তী মাসগুলোতে আদায়ের গতি বাড়তে থাকে। চলতি অর্থবছরে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। তারা বলছেন, বিগত বাজেটে রাজস্ব আদায় বাড়াতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়ার কারণে অর্থবছরের শেষ নাগাদ এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
যদিও গত অর্থবছরে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। এনবিআরের হিসাবে কমিয়ে আনা লক্ষ্যমাত্রা থেকেও সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। আলোচ্য সময়ে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২০ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের শুরুতে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। পরবর্তীতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা আঁচ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এটি ১১ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা করেন।
অর্থনীতিবিদরা গত অর্থবছরের শুরু থেকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আশংকা করে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বেশি ধরা হয়েছে বলে মত দিয়েছিলেন। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) রাজস্ব আদায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা হবে বলেও মত দিয়েছিল। বছর শেষে তা-ই সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমআর





