গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে নিজেদের প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে ইসরাইলের কোন জুড়ি নেই। বিগত ৫ দশকেরও বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনে একের পর এক নারকীয় হত্যাকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। প্রায় নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর একের পর এক বোমা হামলা চালিয়ে হত্যা করছে বেসামরিক নাগরিকদের।
নারী, শিশু, বৃদ্ধ, হাসপাতালের রোগী, শরনার্থী শিবিরের উদ্বাস্তু, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, এমনকী জাতিসংঘের আশ্রয়ে থাকা বেসামরিক ফিলিস্তিনি নাগরিকরা পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছেন না এই হত্যাযজ্ঞের নগ্ন শিকার হওয়া থেকে।
সবশেষ গত ৮ জুলাই থেকে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহত হয়েছেন ২ হাজারের বেশ মানুষ, ৪ শ'র বেশি শিশুসহ যাদের বেশিরভাগই নারী ও বৃদ্ধ। আহত হয়েছেন আরও ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি যাদের প্রায় শতভাগই সাধারণ নাগরিক (জাতিসংঘের হিসেবেই ৮০ শতাংশের বেশি)।
এর বিপরীতে গাজায় ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের হামলায় নিহত হয়েছেন ৬৭ ইসরাইলি যাদের মধ্যে মাত্র ৩জন বেসামরিক নাগরিক। অবশ্য হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জদিন আল কাসসাম ব্রিগেডের দাবি তারা ১৫০ ইসরাইলি সেনাকে খতম করেছেন। অর্থাৎ হিসেব যাই হোক, বেসামরিক মানুষের রক্তে হামাসের হাত রঞ্জিত হয়নি।
নিজ ভূখন্ড রক্ষায় বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাধুনিক সামরিক অস্ত্রে সজ্জিত দখলদার ইসরাইলি সৈন্যদের বিরুদ্ধে নিজেদের হাতে তৈরি সামান্য রকেট দিয়ে বছরের পর বছর প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে অকুতোভয় দেশপ্রেমিকদের সংগঠন হামাসের মুক্তিযোদ্ধারা।
অথচ ফিলিস্তিনের গণমানুষের প্রাণের সংগঠন এই হামাসকেই বিশ্ববাসীর কাছে হেয় প্রতিপন্ন করতে ইসরাইলের চেষ্টার কোন ত্রুটি নেই। গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে হামাসের বিরুদ্ধে একের পর এক বিষোদগার করে যাচ্ছে যায়নবাদী ইসরাইলি শক্তি।
ইসরাইলের প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিক জেরুজালেম পোস্টে গত রোববার (১১ আগস্ট ২০১৪) ' Why Hamas must ultimately be destroyed' অর্থাৎ 'শেষ পর্যন্ত হামাসের ধ্বংস যে কারণে অনিবার্য' একটি লেখা ছাপা হয়।
পত্রিকাটির মতামত (opinion) অধ্যায়ে লেখাটি ছাপা হয়। ইসরাইল থেকে প্রচারিত i24News চ্যানেলের একজন সংবাদদাতা চার্লস বিবেলিযার এই লেখাটি লিখেছেন। হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলি প্রপাগান্ডার একটি স্বরুপ টাইমনিউজবিডির সম্মানিত পাঠকদের কাছে তুলে ধরতেই ইসরাইল নিয়ন্ত্রিত জেরুজালেম পোস্টের লেখাটির অনুবাদ করলাম, যা হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো:
"অপারেশন প্রটেকটিভ এজের (গাজায় সাম্প্রতিক ইসরাইলি আগ্রাসনের নাম) মাত্রা যখন কমিয়ে আনা হলো, তখন একদল সাংবাদিকের সাথে আমিও (চার্লস বিবেলিযার) সবাইকে ইসরাইল ও গাজা উপত্যকার কিরেম শ্যালোম সীমান্ত পরিদর্শনের আহবান জানাচ্ছি। এখানে আপনি দেখতে পাবেন গাজার জন্য মানবিক সহায়তা উপকরণ বহন করে আনা শত শত ট্রাক। এই দৃশ্য গত মাসাধিককাল ধরে চলা যুদ্ধের সময় প্রতিদিনই দেখা গেছে। শুধু তাই নয় এই হাজার হাজার টন খাদ্য ও ওষুধ-সামগ্রি নিয়ে আসা ট্রাকের এই দৃশ্য পুরো বছরজুড়েই দেখা যায় এই সীমান্তে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধে যখন ২ হাজারেরও বেশি লোকের প্রাণহানী ঘটলো, হাজার হাজার মানুষ আহত এবং লাখ লাখ মানুষ গৃহহারা হচ্ছিলেন, তখনও ইসরাইল সংঘাতের ফলে চরম ভোগান্তিতে নিমজ্জিত গাজার মানুষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ত্রান সরবরাহ করেছিল।
এত মানুষের প্রাণহানীর জন্য যখন ইসরাইলি সরকারকে সমালোচনার মুখোমখি হতে হচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষের কল্যাণে ইহুদী সরকারের উদ্বেগও কিন্তু পরিস্কারভাবে চোখে পড়ে। বিশেষ করে কিরেম শ্যালোম সীমান্ত পরিদর্শনে গেলেই ইসরাইলের এই হিতাকাঙ্খার প্রমান পাওয়া যাবে। সম্ভবত এটা কোন দ্বৈবাত ঘটনাও নয়, এটাকে 'শান্তি চূড়ান্ত প্রচেষ্টা' হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
হামাসের গোয়ার্তুমীতে সব উদ্যোগ ব্যর্থ
সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি সাম্প্রতিক শত্রুতাপূর্ণ দিনগুলোতে ইসরাইলের ভেতরকার সবচেয়ে ভয়ানক স্থানগুলোর মধ্যে একটিতে পরিণত হয় এই কিরেম শ্যালোম ক্রসিং। যুদ্ধের দিনগুলোতে প্রতিদিন একাধিকবার হামাস এই ক্রসিংয়ে মর্টার ও রকেট হামলা চালিয়েছে।
যখন আমরা এই ক্রসিংয়ের ওখানে পরিদর্শন করছিলাম, তখনই রেড এলার্ট শুনতে পেয়েছিলাম এবং পরক্ষণেই কাছে কোথাও বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেলাম। আমাদের পরিদর্শক দলের প্রধান তখন খুব পরিস্কারভাবেই আমাদের জানালেন যে ক্রসিংয়ের এখানে যারা কাজ করেন তাদের জীবন খুবই ঝুকিঁর মধ্যে রয়েছে।
পশ্চিমা মানসিকতার জন্য হামাসের আদর্শ বোঝা কঠিন হলেও এমন অনেক সুস্পষ্ট উদাহরণ রয়েছে যা ওই সন্ত্রাসী গ্রুপটির (হামাসের) বর্বরতা ও অসভ্যতার মুখোশ খুলে দিয়েছে।
হামাস কিভাবে তার হামলার লক্ষ্য ঠিক করে? যুদ্ধের সময় যেখানে নিজের দেশের নাগরিকদের সহায়তার উপকরণ স্থানান্তর হবে সেখানেই হামাস অন্য যে কোন জায়গার তুলনায় বেশি হামলা কিভাবে চালাতে পারলো হামাস? ইসরাইল যখন আহত ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসার জন্য মাঠ পর্যায়ে হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, তখন কিভাবে গাজাবাসীকে হামাস সেই চিকিৎসা নিতে বাধা দিতে পারে?
এসব প্রশ্নের উত্তর হলো-হামাস চায় তার দেশের লোকেরা ভোগান্তিতে পড়ুক, যেটাকে সে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।
হামাসের এই কুট-কৌশল দু’ভাবে কাজ করে। প্রথমত, এটি একটি মানবিক সংকটের সৃষ্টি করে যা ইসরাইলকে শুধু অবৈধ প্রমান করার প্রক্রিয়াকেই তরান্বিত করছে না, এতে ইসরাইলি সরকারের সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথেও ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।
দ্বিতীয়ত, শাসক হিসেবে চরম ব্যর্থতা এবং নিজের লোকদের পশুর ন্যায় বলীদান করার যে অভিযোগ ইসরাইল হামাসের ওপর দিয়ে আসছে তা ক্রমেই মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে।
এক কথায় বলতে গেলে, গাজায় মানুষের যত ভোগান্তি বাড়বে এবং যত বেশি মানুষ মারা যাবে, হামাস ততই তার সন্ত্রাসী এবং গণহত্যামূলক কর্মকান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে সফলতা লাভ করবে।
সম্ভবত এই নিরেট বাস্তবতা বোধগম্য হবে তখনই যখন খেয়াল করবেন যে, হামাস তার অর্থ স্কুল বা হাসপাতালে ব্যবহার করছে না; বরং অস্ত্র যোগান ও সন্ত্রাসী অবকাঠামোর কাজেই তা ব্যবহার করছে। বিশেষত ভূ-গর্ভস্থ টানেল যার অনেকগুলোই জনবহুল এলাকায় নির্মান করা হয়েছে সেখান থেকেই হামাস ইসরাইলের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
গাজাবাসী কখনই এরুপ পরিস্থিতির মধ্যে স্বাধীনতা কি জিনিস তা জানতে পারছেন না, বিশেষত যখন এমন একটি রক্তপিপাসু সংগঠনের অধীনে বসবাস করছেন তারা, যেই সংগঠন তার নিজ জনগোষ্ঠীর জীবন রক্ষার চেয়ে ইহুদীদের হত্যা করাকেই বেশি প্রাধান্য দেয়।
হামাসের ধ্বংস অনিবার্য
অভিযানের লক্ষ্য অর্জনের পর গাজা থেকে একতরফাভাবে ইসরাইলি সৈন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু একই সময় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোশে ইয়ালুন বলেছেন যে, হামাস পাঁচ বছরের মধ্যে আবারও স্বরুপে ফিরবে।
পাঁচ বছর আগে ২০০৯ সালে 'অপারেশন কাস্ট' নামে ইসরাইল সবশেষ গাজা উপত্যকায় যে অভিযান পরিচালনা করেছিল তার কোনই মূল্য থাকলো না।
মাত্র কয়েক বছরের জন্য একটু শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অর্জনই কি একটি বৈধ সামরিক উদ্দেশ্য হতে পারে? গত চার সপ্তাহে উভয় পক্ষে যে হাজার হাজার মানুষ মারা গেল, তা কি এজন্য যে প্রতি পাঁচ বছর পর পর এ ধরনের সংঘাত ফিরে আসবে? হামাসের মতো একটি সংগঠনের সাথে কি একটি মজবুত ও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতি সত্যিকার অর্থে কর্যকর হতে পারে? এখন মূল রাজনীতির অন্যতম হলো এইসব প্রশ্ন।
২০১২ সালে খুব ভালোভাবেই আমরা দেখেছি যে সেই সময়ের যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্য দিয়ে ‘অপারেশন পিলার অব ডিফেন্স’ নামের অভিযানের সমাপ্তি টেনেছিলো ইসরাইল। কিন্তু বাস্তবতা হলো ওই চুক্তি যে কাগজে লেখা হয়েছিল সেই কাগজের মতোই মূল্যহীন ছিল সেই চুক্তি।
কেউ কেউ হয়তো এমন একটি যৌক্তিক উপসংহারে আসতে পারেন যে, ইসরাইলি সরকারের এই যুক্তিতে কোন মৌলিক গলদ আছে। তবে, ‘অপারেশন প্রটেকটিভ এজ’-এর মতো একটি বড় ও অস্বাভাবিক উচু পর্যায়ের অভিযান আগের যে কোন অভিযানের চেয়ে বেশি রক্তক্ষয়ী ও ধ্বংসাত্মক হবে এটাই স্বাভাবিক।
এই মতের পক্ষে যুক্তি পাওয়া যাবে যদি সত্যিকার অর্থে হামাসকে পর্যালোচনা করা হয়। এটি একটি খাঁটি, অনিয়ন্ত্রিত ও বোধহীন শয়তান এবং সন্ত্রাসী চক্র যা ন্যায়বিচার ও মানবিকার পরিবর্তে শুধু মৃত্য ও ধ্বংসই ঘটায়।
একটা সময় ছিল যখন বিশ্ববাসী আরও অধিক বুঝতে পারতো যে হামাস যেই আদর্শ লালন করে তা মানবতার জন্য একটি হুমকী। আর এ কারণেই হামাসের সাথে সমঝোতার চেয়ে তাকে ধ্বংস করাই যুক্তিযুক্ত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও পরবর্তীতে পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে ঠান্ডা লড়াইয়ের সময় নাজিসদের ওপর বিজয় লাভ করার বৈধতা নিয়ে খুব কম লোকই সন্দেহ পোষণ করতেন।
কিন্তু পরবর্তীতে সমাজে নৈতিক আপেক্ষিকতাবাদের গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যায়। সম-সাময়িক অন্ধ আনুগত্যের কাছে ভালো ও মন্দের মধ্যকার সীমারেখা ক্রমেই অস্পষ্ট হতে থাকে।
পুনর্বিবেচনার এখনই উপযুক্ত সময়
যতদিন পর্যন্ত হামাসের অস্তিত্ব থাকবে, ততদিন পর্যন্ত ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সম্পর্কের ক্রমাবনতি হতেই থাকবে। একসাথে মিলেমিশে বসবাস করা, চাষাবাদ করা কিংবা একদিনের জন্যও শান্তির পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব নয়।"
এবার একটু ফিরে দেখি
এভাবেই ইহুদীবাদী লেখক তার মতামতের সমাপ্তি টেনেছেন। পুরো লেখাটির মধ্যে পদে পদে মিথ্যা তথ্যের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। লেখার প্রতি পরদে পরদে উদ্দেশ্য প্রণোদিত বিষোদগার করা হয়েছে।
বিগত মাসাধিককালের যুদ্ধে যেখানে হামাসের হাতে মাত্র ৩ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে, সেখানে ৪ শতাধিক শিশুসহ যায়নবাদী ইহুদীদের হাতে নিহত হয়েছে প্রায় ২ হাজার মানুষ যাদের ৯০ শতাংশেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক। এমনকি জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রনে থাকা আশ্রয় শিবিরে হামলা চালিয়ে শত শত মানুষ হত্যা করেছে ইহুদীরা।
উদাহরণস্বরুপ বলছি, ইসরাইলি দখলদাররা গত ৩ আগস্ট গাজায় জাতিসংঘ পরিচালিত একটি স্কুলে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ১১ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় ওই স্কুলটিতে ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুরা আশ্রয় নিয়েছিলেন।
গাজায় জরুরী সেবা কার্যক্রমের মুখপাত্র আশরাফ আল কুদরা বলেন, গাজার দক্ষিণের শহর রাফায় অবস্থিত এই স্কুলে রোববার হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। তিনি এমনও অভিযোগ করেন, ইসরাইলকে কমপক্ষে ১৯ বার ওই স্কুলটি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু যায়নবাদীরা কোন কথায় কান না দিয়ে একেবারে ঠান্ডা মাথায় এমন হত্যাযজ্ঞ চালালো।
মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে জাতিসংঘ পরিচালিত কোন স্কুলে ইসরাইলের ওই হামলা ছিল তৃতীয়বারের মতো উদ্বাস্তুদের ওপর চালানো হত্যাযজ্ঞ। এমনকি এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৮ জাতিসংঘ কর্মকর্তা ও ১০ সাংবাদিকের প্রান কেড়ে নেয় দখলদার ইসরাইলি সেনারা।
পক্ষপাতমূলক খেলাটির মধ্যে গাজার মানুষের খাদ্য ও ওষুধের কথা বলা হয়েছে। অথচ বিগত ৮ বছর ধরে গাজা উপত্যকাকে সম্পূর্ণরুপে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরাইল। আর ভূগর্ভস্থ যেসব টানেল হামাস তৈরি করেছে সেখান দিয়ে শুধু অস্ত্র নয়, গাজাবাসীর খাদ্য এবং ওষুধসামগ্রিও সরবরাহ করা হয়।
লেখার শুরুতেই ইহুদীবাদী লেখক কিরেম শ্যালোম সীমান্তের কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে হামাসের কথা বেশ কায়দা করে উল্লেখ করেছেন লেখক। কতটা মিথ্যাবাদী হলে এমন অভিযোগ করা যায়। যেভাবে বর্ণনা দেয়া হলো তাতে মনে হচ্ছিল ওই সীমান্তে না জানি কত হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। অথচ বাস্তবতা হলো বিগত মাসাধিকালের ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে হামাসের প্রতিরোধ যুদ্ধে মাত্র ৩জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন যাদের কেউই এই ক্রসিংয় এলাকার নন।
এমনকি ইসরাইলের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আয়েলেত শেকড নামক এক পাষন্ড নারী এমনও বলেছেন, গাজার সব মায়েদের হত্যা করতে হবে। আর শিশুদের তিনি বেড়ে উঠা সাপের সাথে তুলনা করে বলেছেন গাজার মায়েরা বিষধর সাপের জন্ম দিচ্ছে ও লালনপালন করছে। তাই তাদের সবাইকে জবাই করতে হবে। কই! এমন গণহত্যার উস্কানিদাতার কোন বিচার কি ইসরাইল করেছে?
গাজার সাধারণ মানুষের জন্য যদি যায়নবাদী ইসরাইলি সরকারের এতই দরদ থাকে তাহলে গাজার মানুষের একমাত্র বিদ্যুত সরবরাহকারী প্লান্টের ওপর কিভাবে বোমা হামলা চালালো ইসরাইল? যাই হোক এমন হাজারও তথ্য দেয়া যাবে যায়নবাদীদের নির্মমতা সম্পর্কে। বিদগ্ধ পাঠকদের এসব তথ্যের সবই জানা।
সবশেষ শুধু একটি কথাই বলছি অত্যন্ত সচেতনতার সাথে। আর তা হলো-গাজায় যদি হামাসের মতো নির্ভীক ও দেশপ্রেমিক যোদ্ধা না থাকতো, তাহলে বহু আগেই দখলদার ইহুদীরা গাজাকেও কব্জা করে নিতো। সেখানে চালাতো নির্মম গণহত্যা, যার কোন খবরও বিশ্ববাসীকে জানতে দেয়া হতো না।
ঢাকা, ১৪ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি





