নাম ফারিয়া। বয়স ২ বছরের একটু বেশি হবে। সোমবার ঢাকার সি এম এম আদালতে এসেছিল মায়ের জন্য আর মঙ্গলবার বাবার জন্য। তাও প্রতিবেশী এক চাচির সঙ্গে। কারণ মা-বাবা ছাড়া তার আপন যে আর কেউই নেই।

রোববার ফারিয়ার বাবাকে বাসা থেকে ধরে থানায় নিয়ে যায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ। সোমবার সকালে ফারিয়া মামনির সাথে বাবাকে দেখতে থানায় গেলে থানা পুলিশ দুগ্ধপোষ্য ফারিয়ার মামনিকে ও গ্রেফতার করে থানা হাজতে নিয়ে যায়।

ছোট্ট অবুঝ ফারিয়া "মাকে ছেড়ে দাও, বাবাকে ছেড়ে দাও" বলে ভীষণ কান্নাকাটি ও ছুটাছুটি করেছিল। অনেক কেঁদেছিল ফারিয়া। ওর কান্নায় থানায় উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে না রাখতে পারলেও পাষাণ হৃদয়ের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কানে পৌঁছেনি অবুঝ শিশুটির বুক ফাটা আর্তনাত।

ফারিয়ার মামনির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগে না পাওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়। জামিনের আবেদন করা হয়। শুনানিকালে ফারিয়াকে দেখানো হয়। ফারিয়ার বাবাকে থানায় আটকে রাখা হয়েছে। ওকে দেখার মতো বাসায় আর কেউ নেই। কোন অভিযোগ নেই পর্দানশীল উচ্চশিক্ষিত ভদ্র মহিলার বিরুদ্ধে। তাও বলতে বাদ রাখেনি আইনজীবী। তবুও জেলহাজতে প্রেরণ করা ফারিয়ার মামনিকে।

এদিকে কাউকে গ্রফতারের ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার আইন থাকলেও ফারিয়ার বাবাকে গ্রেফতারের ২-৩ দিন পর মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে তাকেও জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। ফারিয়ার বাবার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না পেয়ে পূর্বে দায়েরকৃত মামলায় সন্দিগ্ধ হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

আবারও বৃহস্পতিবার ঢাকার সি এম এম আদালতে কারাবন্দী বাবা-মাকে নিতে এসেছিল অবুঝ শিশু ফারিয়া। এদিন জামিনের শুনানি করলেও জামিন মিলেনি। জামিন পাওয়াটা যেন শুধু ফারিয়ার মা-বাবার জন্য নয়, ওর জন্যও বড় ভাগ্যের ব্যাপার। ফারিয়াকে কিভাবে তা বোঝানো যাবে? ফারিয়ার কথা একটাই "বাবাকে এনে দাও, মামনিকে এনে দাও।”

জেডআই