ইউপি নির্বচনে নীরব দর্শকের ভূমিকায় ইসি। দলীয় প্রতীকের এই স্থানীয় নির্বাচনটি অনেকখানি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে নির্বাচন কমিশনের।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভিযোগের পাহাড় জমা হচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় বাধা ও প্রত্যাহারের হুমকিসহ নানা ধরনের অভিযোগ আসা শুরু হলেও কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে ইসি।
এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন ও নির্দেশনায়ও আনা হচ্ছে শিথিলতা।
ইসি সূত্র বলছে, সম্প্রতি ইসির নিয়মিত বৈঠকে কোনো অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত, পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এমনকি সর্বশেষ অবস্থা হচ্ছে, কোনো অভিযোগই গ্রহণ করা হচ্ছে না। অভিযোগ এলে তা বস্তাবন্দি করে রেখেই দায় সারছে ইসি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে না অভিযোগপত্রটি। খুলে দেখারও সময় নেই ইসির।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা যদি অভিযোগ গ্রহণ ও অভিযোগকারীকে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দিই, তাহলে অসংখ্য অভিযোগ আসতে শুরু করবে। এতে নির্বাচনের তফসিল বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে এক নির্বাচন কমিশনার বলেন, ন্যায়বিচার পেতে হলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের উচ্চ আদালতে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। ইসি সূত্র বলছে, এ ক্ষেত্রে কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে ইসি। গত ২২ ফেব্রুয়ারি আটজন উপসচিবের সমন্বয়ে নামেমাত্র একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই কমিটিকে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা পাঠানো, আচরণবিধি প্রতিপালন ও প্রার্থীদের ব্যয় তদারকি করতে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরিপত্রের মাধ্যমে হাতে গোনা দু-একটি নির্দেশনা পাঠানো ছাড়া কোনো কর্মকাণ্ড-ই ছিল না এই কমিটির। আচরণবিধি লঙ্ঘন ও প্রার্থীদের ব্যয়সীমা তদারকির বিষয়ে কোনো তথ্য নেই কমিটির কাছে।
এমনকি এই আট উপসচিবের কাজে কোনো সমন্বয় নেই বলেও জানা গেছে ইসি সূত্রে। যে যার দপ্তরে বসে কাজ করছেন। কিন্তু সমন্বিত কোনো বৈঠক বা সিদ্ধান্তের বিষয়ে গা-ছাড়া ভাব দেখা গেছে তাদের।
এদিকে অভিযোগ গ্রহণ ও তার প্রাপ্তি স্বীকারের জন্য পৌর নির্বাচনের আদলে এবার ইউপি নির্বাচনে কোনো মনিটরিং সেল গঠন করেনি ইসি।
ইসি সূত্র বলছে, অভিযোগ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবেই মনিটরিং সেল গঠন করা হয়নি। প্রার্থীরা অভিযোগ নিয়ে এসে বিপাকে পড়েছেন। কোথায় অভিযোগ জমা দেবেন, তার কোনো হদিস পাচ্ছেন না তারা। ইসি কর্মকর্তারাও এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছেন না।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের অভিযোগে বলা হয়েছে, ভয় দেখিয়ে জোর করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের হুমকি দেওয়া হয়েছে বা প্রত্যাহার করানো হয়েছে।
এরই মধ্যে বিএনপি ও তাদের শরিক দলের প্রার্থীদের অভিযোগের সংখ্যাই বেশি। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও সমানতালে অভিযোগ করেছেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, সরকারদলীয় প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের হুমকি-ধমকির মুখে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি অনেকেই।
খুলনার তেরখাদা, ঝালকাঠির নলছিটি, মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের একাধিক ইউপি সহ সারাদেশের অসংখ্য ইউনিয়নে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন প্রার্থীরা।
পাহারা বসিয়ে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা রিটার্নিং কার্যালয়ে যেতে দেয়নি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিদের।
রিটার্নিং কার্যালয়ে যাওয়ার পথে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার টেবিল থেকে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে কয়েক জায়গায়।
আবার নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পেলেও তা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি-ধমকির মধ্যে রয়েছেন অন্তত দেড় শতাধিক প্রার্থী।
প্রার্থীর সমর্থককে সমর্থন প্রত্যাহারে বাধ্য করার ঘটনা ঘটেছে বাগেরহাট সহ দেশের ভিবিন্ন স্থানে।
এছাড়া,বিরোধী প্রার্থীদের এলাকাছাড়া করা সহ, নানা ধরনের হুমকি-ধমকি, সহিংসতার ঘটনার অভিযোগ স্তূপ আকারে জমা হচ্ছে নির্বাচন কমিশন ও রিটানিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যত অভিযোগই আসুক, প্রতিকার পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই ইসির। ফলে এবারই প্রথম কোনো ইউপি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অর্ধশতাধিক সরকারদলীয় প্রার্থী নির্বাচিত হতে দেখা গেছে।
এসএম





