“সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ কলেজ জীবনে মাছ ধরতে ও ফুটবল খেলতে খুব পছন্দ করতেন। এরশাদসহ আমি প্রায় দিন রংপুরের দর্শনা বিলে মাছ ধরে কলেজ হোষ্টেলে সবাই রান্না করে খেতাম।

রংপুর কারমাইকেল কলেজে গাছের ছায়ায় বসা নিয়ে প্রায় সময় মেয়েদের সাথে ঝগড়া হতো এরশাদের। সিগারেট তো দুরের কথা পান পর্যন্ত খেতেন না এরশাদ।” এভাবেই এরশাদকে নিয়ে কলেজ জীবনের স্মৃতি চারণ করছিলেন তার বন্ধু আজিজার রহমান খেরু মিয়া।  

রোববার (১৪ জুলাই) বিকালে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজার রহমান খেরু মিয়া সাংবাদিকদের সাথে আলাপ কালে তার বন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে কেঁদে কেঁদে বলেন, “গত বছর অসুস্থ হওয়ায় রংপুরে গিয়ে এরশাদের সাথে দেখা করে আমি শেষ বিদায় নিয়ে ছিলাম। কিন্তু আমার বিদায়ের আগে সে চলে যাবে এটা বিশ্বাস হয় না।”

এরশাদ সর্ম্পকে তার বন্ধু আজিজার রহমান বলেন, “এরশাদ ১৯৪৬ সালে ভারতের দিনহাটা থেকে এসে রংপুর কারমাইকেল কলেজে ভর্তি হয়। ওই সময় এরশাদের সাথে আমার বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। মেট্রিক থার্ড ডিভিশনে (এসএসসি) পাশ করার পর তার মাঝে জেদ প্রচন্ড কাজ করত। সে ভালো করে লেখাপড়া শুরু করে এবং ইন্টারমেডিয়েট ফাস্ট ডিভিশনে (এইচএসসি) পাশ করেন। কলেজ পড়া অবস্থায় তার সেনা বাহিনীর প্রতি বিশেষ দুর্বলতা কাজ করতো। ভালো ফুটবল খেলতেন সে কারণে তাকে অনেকেই রংপুর টাউন ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলার জন্য খেলোয়ার হিসেবে ভাড়া করে নিয়ে যেত।”

খেরু মিয়া বলেন, “এরশাদের মাঝে প্রচন্ড মানবতা কাজ করত। ১৯৪৮ সালে এরশাদসহ আমরা ৩ বন্ধু এক রুমে ছিলাম। হঠাৎ কুড়িগ্রামের এক ছোট ভাই এসে আমাদের রুমে থাকতে চায়। আমরা দুই বন্ধু প্রচন্ড বিরোধীতা করলেও এরশাদ সেই ছোট ভাইকে রুমে থাকতে দেয়। তার মাঝে কোনো লোভ-লালসা বা বাজে নেশা ছিলো না।”

“সিগারেট তো দুরের কথা পান পর্যন্ত খেতেন না এরশাদ। সে মাছ ধরে নিজের হাতে রান্না করে কলেজ হোষ্টেলে সবাইকে খাওয়াতেন। লালবাগেরহাটে হোষ্টেল বাজার করতে প্রায় সময় নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করতেন এরশাদ। তবে দেখতে সুদর্শন হওয়ায় মেয়েরা তাকে খুব পছন্দ করতেন।” বলেন আজিজার রহমান খেরু মিয়া।   

নুরনবী/এমবি