সরকারের প্রথম বাজেট ঘোষণা হতে যাচ্ছে আগামী ৫ জুন। এ নিয়ে চলছে নানা হিসেব-নিকেশ। রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে ক্ষমতায় আসার কারণে আসছে বাজেট নিয়ে সরকার নানামুখী চাপে পড়তে পারে বলে  আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা| 
বিশেষ করে পোষাক শিল্পের অস্থিরতা, রেমিটেন্সে ধস, রপ্তানীতে নেতিবাচক প্রবণতা, বিনিয়োগের বেহাল অবস্থা ও দাতা সংস্থার নেতিবাচক অবস্থান ইতিমধ্যে সরকারকে ভাবিয়ে তুলেছে। আরো দু:চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আহরণের করুন চিত্র দেখে।  
জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে সবচেয়ে বড় চ্যলেঞ্জ হবে অর্থ সংস্থান নিয়ে। এ বিষয়ে অনেক আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে সরকার সংশ্লিষ্টরা বৈদেশিক নির্ভরশীলতা কমিয়ে বাজেট বাস্তবায়নে আভ্যান্তরীন সম্পদের উপর জোর দিয়েছেন।
এ বিষয়ে এনবিআর করের আওতা বাড়ানোর সব প্রস্ততি শেষ করেছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন ট্রেড বডির সাথে প্রাক-বাজেট আলোচনায় প্রায় সব স্টক হোল্ডাররা কর না বাড়ানোর পক্ষে মতামত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, কর না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়াতে। তবে কিভাবে করের আওতা বাড়বে-তা এখনো স্পষ্ট করেনি এনবিআর।
তবে আগামী বাজেটে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। এ জন্য কর আদায়ে নতুন করনীতি ঘোষণা, কর হার ও করের আওতা বাড়ানো ও আয়কর কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে বলে রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।
রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. গোলাম হোসেন সম্প্রতি বলেছেন, আয়কর কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে। নতুন বাজেটে আয়কর খাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকবে যথাক্রমে মূসক ও শুল্ক খাত। এ ছাড়া ডাক্তার, প্রকৌশলী ও আইনজীবীদের আয়কর বাড়ানো হতে পারে বলেও জানান তিনি
আসন্ন বাজেট যে কর নির্ভর হচ্ছে তার ইঙ্গিত দিয়েছেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তিনি বলেছেন, আমাদের দেশের বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে দেশে করদাতার সংখ্যা বাড়াতে হবে। তা না হলে বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। গত বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশনে সরকারি স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে প্রাক বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা জানান।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, বাজেটের আকার আড়াই লাখ কোটি টাকার কম-বেশি হতে পারে। এবারের বাজেটে যে সব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে এর মধ্যে মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রশাসনিক সংস্কার, কৃষি, বিদ্যুৎ, পরিবহন, রেলওয়ে ও পর্যটন খাত রয়েছে। এ ছাড়া কয়লা নীতি ও জ্বালানি প্রণয়ন ও পিপিপির ওপরেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সম্প্রতি আগামী অর্থবছরের যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) চূড়ান্ত করা হয়েছে এর আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৯ হাজার ৭০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এডিপির যে আকার ধরা হয়েছিল এর পরিমাণ ছিল ৬৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এটি কমিয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতে পারে ১ লাখ ৮২ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। এটা চলতি অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। এদিকে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল এর পরিমাণ হচ্ছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকা।
জানা গেছে, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্নপূরণের পরিকল্পনায় মোড়ানো হচ্ছে নতুন অর্থবছরের বাজেট। এ জন্য আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে নতুন বাজেটে। সংবিধান অনুযায়ী ২০১৯ সালে মেয়াদ শেষ হবে এ সরকারের। তার মাত্র দুই বছর পরই ২০২১ সাল, যখন বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে দাঁড় করানোর পরিকল্পনা সরকারের। সম্ভব হলে ২০১৯ সালের মধ্যেই স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করতে চায় বাংলাদেশ। তাই নতুন বাজেটে বড় আয়-ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ভবিষ্যৎমুখী পরিকল্পনা আর তার বাস্তবায়নকে।
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়ার সঙ্গে বাজেটে থাকছে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও ব্যবসায় খরচ কমানোর উদ্যোগ। এ ছাড়া দারিদ্র্য ও আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করা, নারী উন্নয়ন, খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ এবং প্রবৃদ্ধি অর্জনে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় নীতি কৌশলের ওপর গুরুত্ব থাকছে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বিবরণীতে।
আগামী ৫ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আগামী অর্থবছরের বাজেটের মূল লক্ষ্যই হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি অর্জনের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া। সরকারের এ অবস্থানের কথা সম্প্রতি এক চিঠিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের জানিয়েছেন অর্থসচিব ফজলে কবির।
নতুন বছরের বাজেটের মূলনীতি তুলে ধরতে গিয়ে চিঠিতে ফজলে কবির লিখেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অনুশীলন, ভবিষ্যৎমুখী চিন্তার বিকাশ, পরিবর্তনের আবহ বিনির্মাণ, ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা। সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন, স্বল্প সময়ে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য অর্জনে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কর্মকৌশল, পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও দেশীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনাসহ ভবিষ্যৎমুখী কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপনের পাশাপাশি সরকারের ব্যয় পরিকল্পনার সমন্বয় করা হবে নতুন বাজেটের মাধ্যমে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আগামী বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব থাকছে অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নে। করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে নিম্ন-মধ্যবিত্তদের একটু স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা থাকবে বাজেটে। নতুন বাজেটে এটি বেড়ে আড়াই লাখ টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে।
উচ্চবিত্তদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নিয়ে জনকল্যাণে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রচেষ্টা থাকছে নতুন বাজেটে। এর মধ্যে মানবসম্পদ উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বাড়ানো হবে। মনোযোগ দেওয়া হবে দূরপাল্লার সড়ক ও রেলপথ উন্নয়ন এবং রাজধানী ঢাকাসহ নগরকেন্দ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও।
প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার নতুন বাজেটে এক লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত করব্যবস্থা থেকে আদায় করার পরিকল্পনা রয়েছে অর্থ বিভাগের। এর মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা আয়কর থেকে, ৫৫ হাজার কোটি টাকা মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) থেকে আদায়ের পরিকল্পনা করছে রাজস্ব বোর্ড।
কর আদায়ের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর করপোরেট কর হার সামান্য কমানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা। নতুন অর্থবছরের জন্য মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৭.৩ শতাংশ ও মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ রাখার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
চলতি অর্থবছরেই রাজস্ব আদায়ে এনবিআরের বড় ঘাটতি রয়েছে। আর এখন সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতার রেশ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা আস্থা পাচ্ছেন না বিনিয়োগে। তাঁদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বা জোটের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরে চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ হওয়া উচিত।
নতুন বাজেটে আয়কর আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৩৫ শতাংশ বেশি। করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও যাঁরা কর দেন না, তাঁদের কাছ থেকে আদায়ের পরিকল্পনা থেকেই এমন উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সাহস করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে ঢাকাসহ সারা দেশের নগরকেন্দ্রিক বাড়িওয়ালাদের অন্যতম টার্গেট গ্রুপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নতুন বছরে বাড়িভাড়া ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধের শর্ত দিয়ে এ খাত থেকে আয়কর বাবদ বাড়তি টাকা আদায় করতে চায় রাজস্ব বোর্ড। আর অটোমেশনের মাধ্যমে ভ্যাট আদায় বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে এনবিআর কর্মকর্তাদের।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আগামী বাজেটে ব্যবসায়ীদের আস্থায় আনার চেষ্টা করবেন তিনি। নতুন বাজেটে স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় আগের সুবিধাগুলো অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধা স্থগিত হওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্লাস্টিক ও সিরামিক শিল্পে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তবে কালো টাকা শর্তমুক্তভাবে বিনিয়োগের সুযোগ থাকছে না নতুন বাজেটে। অর্থমন্ত্রী ইতিমধ্যে এ তথ্য জানিয়ে দিয়ে বলেছেন, অপ্রদর্শিত অর্থের ক্ষেত্রে জরিমানা দিয়ে বিনিয়োগের যে সুযোগ আছে, তা অব্যাহত থাকবে।
তবে সার্বিকভাবে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য নানা ধরনের নীতি সহায়তা থাকবে নতুন বাজেটে। বিনা শর্তে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ থাকছে না জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সাধারণভাবে জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করার যে বিধান রাখা হয়েছে, সেটাই অব্যাহত থাকবে।
গতবার আবাসন খাতে এ বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। সত্তরের দশক থেকে কালো টাকা সাদা করার যেসব সুবিধা দেওয়া হয়েছে, এর কোনোটিই কাজে লাগেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এবারের বাজেটে অগ্রাধিকার খাত ও প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্রো রেল প্রকল্প বাস্তবায়ন, জাতীয় কয়লানীতি ও জ্বালানিনীতি চূড়ান্ত, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) কাঠামো শক্তিশালী করা, ঢাকার আশপাশের নদীগুলো দূষণমুক্ত করা ও গড়াই নদী পুনঃখনন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা, রেলপথের সংস্কার ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পকে। আর নতুন বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি রয়েছে। রাজস্ব বোর্ডের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে ৮৬ হাজার ৭০১ কোটি টাকার ল্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৭৮ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা।
এ সময়ে ল্যমাত্রার চেয়ে ৭ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু তা অসম্ভব বলে কমিয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। এ জন্য আগামী বাজেটেও বাস্তবসম্মত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা না হলে তা কাগজেই থেকে যাবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এক লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হতে পারে। এর মধ্যে রাজস্ব বাজেটের পরিমাণ হবে এক লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা। এবারের রাজস্ব বাজেটে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে ভ্যাটের ওপর। তাই আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট আদায়ের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। ভ্যাটের পর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আয়কর আদায়ের ওপর। আর আয়কর আদায়ের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে ৫৭ হাজার কোটি টাকা। আর অপোকৃত কম গুরুত্ব দিয়ে শুল্ককর আদায়ের হার নির্ধারণ করা হচ্ছে ৩২ হাজার কোটি টাকা।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম টাইম নিউজকে বলেন, বাজেট করার চেয়ে বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) গ্রহণযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা দিতে হবে, তা না হলে কাগজে-কলমেই থেকে যাবে। এবার এনিবআরকে ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া যেতে পারে। কেননা, ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ১৫ শতাংশ বেশি দেওয়া যেতে পারে। এর চেয়ে বেশি দিলে তা কাগজে থেকে যাবে।
অর্থনীতিবিদ সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টচার্য্য বলেন, বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত। সম্পদের লভ্যতার ও চাহিদার ওপর বাজেট হওয়া উচিত। এ ছাড়া আমাদের রাজস্বকাঠামো দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
তবে রাজস্ব বাজেটে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, আগামী অর্থবছরের যে আড়াই লাখ কোটি টাকার বাজেট হচ্ছে, তাতে ব্যবসায়ী সমাজ এবার ব্যাপক আশাবাদী। কেননা শুনেছি, এনবিআর রাজস্ব বাজেট কম করতে চায়। তারা কর আদায়ে আওতা বাড়ানোর ওপর নজর দিচ্ছে। বিষয়টি ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক।
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মজিদ  টাইম নিউজকে বলেন, আগামী অর্থবছরের রাজস্ব বাজেট দুটি কারণে সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। কারণ দুটি হলো দেশে সাম্প্রতিক সময়ে রাজস্ব আদায়ে ধীরগতি হওয়ার কারণে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে। এ থেকে উত্তরণ ঘটাতে হবে আগামী রাজস্ব বাজেটে। আবার একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়ের হার বাড়াতে হবে। কিন্ত কর বাড়ানো যাবে না। পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল রাখতে হবে।
তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরগতির প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আয়ে। এর ওপর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে মনিটরিং জোরদার করতে হবে। তবে সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা এলে চলতি অর্থবছরের বাড়তি লক্ষ্য পূরণ করা কোনোভাবেই সম্ভব হয়ে উঠবে না।
[b]ঢাকা, ১৯ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]