চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় সহিংসতা কম হয় এবং ১৯ দলীয় জোট সমর্থক প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি পদে বিজয়ী হয়। কিন্তু তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় নির্বাচনে সহিংসতা, ভোট জালিয়াতি ও কেন্দ্র দখলসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। আর এ কারনেই বিএনপিসহ ১৯ দলীয় জোটের চেয়ে তৃতীয়-চতুর্থ দফায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বেশি উপজেলায় বিজয়ী হয়েছে বলে খবরে প্রকাশ। আর পঞ্চম দফা অর্থাৎ শেষ দফার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজেদের জনপ্রিয়তা দেখানোর জন্য দলের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ আরো মরিয়া হয়ে উঠবে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। আর এ কারনে ব্যাপক সহিংসতার আশংকা করছেন অনেকেই।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ৩১মার্চ ৫ম দফার উপজেলা নির্বাচনে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সরকার সমর্থক প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে থাকবে। এছাড়া সরকার দলীয় অস্ত্রধারী কর্মীরা বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ১৯ দলীয় জোটের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়াসহ সরকার সমর্থক প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সম্ভাব্য সব পন্থা অবলম্বন করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপিসহ ১৯ দলীয় জোট প্রথম দুই দফায় আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি উপজেলায় বিজয়ী হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পরে আওয়ামী লীগ। আর এ কারনে যে কোন মূল্যে তৃতীয়-চতুর্থ দফায় বিজয় নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে নির্দেশ দেয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহত্তর দক্ষিণাঞ্চলের কোন উপজেলায় বিএনপিসহ ১৯ দলকে না দিয়ে যেকোন মূল্যে বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে নামে সরকারী দল। আর নিদের্শনা অনুযায়ী ৩৫ টির মধ্যে ২৯ টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয় লাভ করে। বাকি ৫টি পায় বিএনপি- জামায়াত। এছাড়া চতুর্থ দফায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ৫০ উপজেলায় অন্তত ৮১ কেন্দ্রে ব্যাপক সহিংতা চালিয়ে দলের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করে সরকার সমর্থক প্রার্থীরা।
সূত্র আরো জানায়, উপজেলা নির্বাচন শেষে বিএনপিসহ ১৯ দলের পক্ষ থেকে সরকার পতনের আন্দোলন ঘোষণা করার কথা বলায় ১৯ দলীয় জোটের তৃণমূল দুর্বল রাখতেই সহিংসতা ঘটিয়ে পঞ্চম দফায় বিজয় নিশ্চিত করবে আওয়ামী লীগ। আর এ কারনে ইতোমধ্যে দলের হাই কমান্ড থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী কোন কোন উপজেলায় বিএনপিসহ ১৯ দলের জনিপ্রয়তা বেশি, তা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এ উপজেলাগুলোতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয় করতে দলের ৪ প্রেসিডয়াম সদস্যকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দায়িত্ব অনুযায়ী তারা কাজ শুরু করেছেন এবং নিজ দলের প্রার্থীদের যে কোন মূল্যে বিজয়ী করবেন। কারন প্রথম-দ্বিতীয় দফার মতো পঞ্চম দফায় বিএনপিসহ ১৯ দলের প্রার্থীরা বিজয়ী হলে মাঠ পর্যায় আরো শক্তিশালি হবে এবং সরকার বিরোধী আন্দোলন বেগবান হবে। সরকার বিরোধী আন্দোলন যাতে বেগবান না হয় সেজন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ।
এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, তৃতীয়-চতুর্থ দফায় ব্যপক সহিংসতা ও ভোট কেটে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে । তারা শেষ দফায়ও ব্যাপক সহিংসতা ঘটিয়ে বিজয় নিশ্চিত করবে। আর নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ কারচুপিতে সহযোগিতা করবে। কারন তারা সরকারের আজ্ঞাবহ।
তবে, এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও শিল্প মন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই স্থানীয় সরকারসহ সব নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। ভবিষ্যতেও সব নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ চাইলে সব উপজেলা নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে পারতো। সেটা করেনি। কারন আওয়ামী লীগ সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশ্বাসী।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. শাহনেওয়াজ বলেন, বিগত চার দফায় দুএকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠু হয়েছে। শেষ দফাও সুষ্ঠু হবে।
অবশ্য সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রথম দুই দফায় আওয়মী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিএনপির চেয়ে কম বিজয়ী হওয়ায় তৃতীয়-চতুর্থ দফায় সহিংসতা বেশি ঘটে। আর তারা সহিংসতা ঘটিয়ে শেষ দুই দফায় বেশি উপজেলায় বিজয়ী হয়। পঞ্চম দফায়ও তারা (আওয়ামী লীগ ) বিজয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে। আর এ কারণে সহিংসতা আরো বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, উপজেলা নির্বাচনের শেষ দফায় (পঞ্চম ধাপে) দেশের ৭৫ উপজেলায় আগামী ৩১ মার্চ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে চার দফায় আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছে ১৭১ টি । আওয়ামী লীগের অন্যতম শরিক দল জাতীয় পার্টি বিজয়ী হয়েছেন ৩টিতে। বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন ১৪৭ উপজেলায়। আর বিএনপির অন্যতম শরিক দল জামায়াত সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন ৩৪ উপজেলায়। সে অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর শরিক দল জাতীয় পার্টি মিলে মোট চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছে ১৭৪ উপজেলায়। আর বিএনপি-জামায়াত মিলে বিজয়ী হয়েছে ১৮১ উপজেলায়।
ঢাকা, ২৯ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি
টাইম ফোকাস
পঞ্চম দফাতেও ব্যাপক সহিংসতার আশংকা
পঞ্চম দফা অর্থাৎ শেষ দফার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজেদের জনপ্রিয়তা দেখানোর জন্য দলের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ আরো মরিয়া হয়ে উঠবে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। আর এ কারনে ব্যাপক সহিংসতার আশংকা করছেন অনেকেই।





