বাংলা চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি নায়করাজ রাজ্জাক। শারীরিকভাবে এখন ভালো আছেন তিনি।

গত সপ্তাহে স্ত্রী, পুত্র সম্রাট ও পুত্রবধূ কনাসহ কলকাতা গিয়েছিলেন। জন্মদিন উপলক্ষে কলকাতা থেকে গত বুধবার দুপুরে ঢাকায় ফিরেছেন।

স্কুলে পড়ার সময় থেকেই মঞ্চনাটকে অভিনয় শুরু করেন। চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে প্রথম অভিনয় করেন জহির রায়হান পরিচালিত ‘বেহুলা’চলচ্চিত্রে।

এর পর অভিনয় নৈপুণ্যে কোটি মানুষের ভালবাসার জায়গাটি দখল করে নিয়েছেন। হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের নায়করাজ। ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রেও অভিনয় করতে দেখা গেছে তাকে।

অভিনয়গুণে বাংলাভাষী কয়েক কোটি মানুষের প্রিয় অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক। তিনিই একমাত্র বাংলা চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি।

১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি পৃথিবীতে এসেছিলেন নায়করাজ। এর পর পেরিয়ে গেছে বর্ণিল যাপিত জীবনের ৭৩টি বছর। শুক্রবার ৭৪ বছরে পা রেখেছেন কিংবদন্তি এই মানুষটি।

জন্মদিন নিয়ে রাজ্জাক বলেন, 'সবমিলিয়ে আল্লাহর রহমতে এ মুহূর্তে শারীরিকভাবে বেশ ভালো আছি। সবাই দোয়া করবেন যেন সব সময় সুস্থ থাকতে পারি, ভালো থাকতে পারি।

জন্মদিনে আমার ভক্ত, দর্শক, সহকর্মী সর্বোপরি চলচ্চিত্র পরিবারের সবার প্রতি রইল শুভকামনা। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।'

 এক নজরে নায়করাজ রাজ্জাক:

জন্ম : ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি

পুরো নাম : আবদুর রাজ্জাক

বাবা : আকবর হোসেন

মাতা : নেসারুন্নেসা

স্ত্রী : খায়রুন্নেসা (ভালোবেসে নায়করাজ লক্ষ্মী বলে ডাকেন)

সন্তান : তিন ছেলে ও দুই মেয়ে (এক মেয়ে মৃত)

নাতি-নাতনির সংখ্যা : আটজন

অভিনয়ের শুরু : সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময়

অভিনয়ের গুরু : পীযুষ বোস

অভিনয়ে পারিবারিক সমর্থন : শুধু মেজ ভাই আবদুল গফুর

চলচ্চিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা : আবদুল জব্বার খানের সঙ্গে উজালা চলচ্চিত্রের সহকারী পরিচালক হিসেবে।

নায়ক হিসেবে প্রথম চলচ্চিত্র : জহির রায়হানের বেহুলা।

প্রথম নায়িকা : কোহিনূর আক্তার সুচন্দা

জুটি হিসেবে জনপ্রিয়তা : কবরীর সঙ্গে। প্রথম চলচ্চিত্র সুভাষ দত্তের আবির্ভাব।

নায়ক হিসেবে অভিনয় : ১৯৯০ সাল পর্যন্ত। নায়ক হিসেবে শেষ চলচ্চিত্র মালামতি। বিপরীতে নূতন।

চরিত্রাভিনেতা হিসেবে অভিনয় : ১৯৯৫ সাল থেকে।

পারিবারিক কষ্ট : বড় মেয়ে শম্পার থ্যালাসেমিয়ায় ১৯৯২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মৃত্যু।

প্রথম প্রযোজিত চলচ্চিত্র : রংবাজ (রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশন্স), পরিচালক জহিরুল হক। বিপরীতে কবরী।

নায়ক হিসেবে বড় ছেলে বাপ্পারাজের অভিষেক : চাপা ডাঙ্গার বউ (নির্দেশনা নায়ক রাজ রাজ্জাক)

প্রযোজনায় বিরতি : ২০০০ সালে মরণ নিয়ে খেলা চলচ্চিত্রটি নির্মাণের পর ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে।

প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র : অনন্ত প্রেম (১৯৭৭), বিপরীতে ববিতা।

প্রযোজনায় ফিরে আসা : ২০০৮ সালে আমি বাঁচতে চাই। নায়ক হিসেবে ছোট ছেলে সম্রাটের অভিষেক।

সর্বশেষ পরিচালিত চলচ্চিত্র : আয়না কাহিনী (২০১৪)।

সর্বশেষ অভিনীত চলচ্চিত্র (এখন পর্যন্ত) : বাপ্পারাজ পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র কার্তুজ।

নায়ক হিসেবে যাদের বিপরীতে কাজ করেছেন : সুচন্দা, কবরী, শবনম, শাবানা, নাসিমা খান, সুজাতা, ববিতা, কবিতা, নূতন, অঞ্জনা, কাজরীসহ আরও অনেকে।

জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি : বাংলাদেশের মানুষের অপরিসীম ভালোবাসা ও বন্ধু সাংবাদিক প্রয়াত আহমদ জামান চৌধুরীর লিখনীর মধ্যদিয়ে নায়করাজ উপাধি অর্জন।

এমকে