বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ফ্রম স্কিল টু অপরচুনিটি’ শীর্ষক চাকরি মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এ মেলার আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু বিদ্যমান চাকরির জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করলেই হবে না; একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চাকরির বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘জব ক্রিয়েশন’, ‘জব এক্সটেনশন’ কিংবা ‘জব মার্কেট এক্সপানশন’—যে নামেই বলা হোক, এর ভিত্তি অর্থনীতি, শিল্পনীতি ও উৎপাদননীতি। এসব নীতির সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণ সরাসরি যুক্ত। তাই কর্মসংস্থান সমস্যার সমাধানে শুধু দক্ষতা উন্নয়ন নয়, চাকরির বাজার সম্প্রসারণের দিকেও নজর দিতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী তরুণদের নিজেদের সক্ষমতাকে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করার মানসিকতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। এ প্রসঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে জ্ঞান ও প্রযুক্তি এনে বাংলাদেশের জনশক্তিকে আধুনিক পোশাকশিল্পের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, ব্যাংকঋণ, বিদেশি জ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে সংযোগ এবং নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে সে সময় একটি নতুন শিল্পখাতের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় নীতিগত সহায়তার সুফল শুধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস পণ্য রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সীমিত ভৌগোলিক পরিসরে বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে নতুন শিল্প ও উৎপাদন খাত গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

চাকরিপ্রার্থী তরুণদের ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি, সমাজ, রাজনীতি ও জাতীয় স্বার্থ সম্পর্কে ধারণা রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘এই বেসিক পিকচার যদি একজন তরুণের মাথায় না থাকে, তাহলে সে হয়তো চাকরি পাবে; কিন্তু তার সেই দক্ষতা ও সম্ভাবনা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত নাও হতে পারে।’

তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানভিত্তিক কারিকুলামে নৈতিকতা, দর্শন এবং দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে এডুকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী ও ইএসডিওর নির্বাহী পরিচালক ড. মো. শহিদ উজ জামান।

এস