শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিবের নেতৃত্বে একে একে মসজিদের ১৩টি লোহার সিন্দুক খোলা হয়। এ সময় দানবাক্সগুলো থেকে বের করে আনা হয় ৪৩ বস্তা টাকা। নগদ টাকা ছাড়াও সিন্দুকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে। বর্তমানে এসব টাকা গণনার কাজ চলছে।
টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন পাগলা মসজিদ নূরানী কুরআন হাফিজিয়া মাদরাসার ১০০ শিক্ষার্থী, শহরের আল জামিয়াতুল ইমদাদীয়ার ২০০ শিক্ষার্থী এবং রূপালী ব্যাংকের ৬০ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ। সারাদিন গণনা শেষে সন্ধ্যার পর জানা যাবে এবার ঠিক কত টাকা জমা পড়েছে।
এর আগে সবশেষ গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। তখন সিন্দুক থেকে রেকর্ড প্রায় পৌনে ১২ কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছিল।
জনশ্রুতি রয়েছে, কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া ও রাখুয়াইল এলাকার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদীর মধ্যবর্তী স্থানে জেগে ওঠা চরে এক আধ্যাত্মিক পাগল সাধকের আস্তানা ছিল। ওই সাধকের মৃত্যুর পর সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়, যা পরবর্তীতে ‘পাগলা মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়।
সাধারণ মানুষের মধ্যে শক্তিশালী বিশ্বাস রয়েছে যে, এই মসজিদে মানত করলে মনের আশা পূর্ণ হয়। এমন বিশ্বাস থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ এখানে নিয়মিত দান করে থাকেন। ফলে দিন দিন এই মসজিদে দানের টাকার পরিমাণ বেড়েই চলেছে।
মসজিদের দান থেকে পাওয়া এসব অর্থ শহরের রূপালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা রাখা হয়। এই টাকার লভ্যাংশ থেকে পাগলা মসজিদ ও এর আওতাধীন মাদরাসার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করা হয়। এছাড়া জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানাসহ সামাজিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়া হয়ে থাকে।
এমএম