শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর পল্লবীর মিরপুর-১১ মিল্লাত ক্যাম্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ আলমগীর হোসেন (৪৫/৫৫) পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ঢাকার নবাবগঞ্জ থানা বিএনপির মূল দলের সদস্য। ঘটনার পর তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ ও স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের ২ নম্বর সড়কের বি-ব্লক এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে বসেছিলেন আলমগীর। এ সময় একটি প্রাইভেটকারে করে চার ব্যক্তি সেখানে আসে। স্বজন আশিকের অভিযোগ, স্থানীয় যুবলীগের রুবেল ও বাপ্পাসহ ওই চারজন আলমগীরকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত চলে যায়। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। হামলায় আলমগীরের মাথার ডান পাশ, পেটের ডান পাশ ও ডান নিতম্বে গুলি লাগে। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ইসলামীয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, গুলিবিদ্ধ একজনকে জরুরি বিভাগে আনা হয়েছে। তার শরীরের কয়েকটি স্থানে গুলির আঘাত রয়েছে এবং চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। পল্লবী থানার পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় মোট তিন রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। এতে আলমগীরের পাশাপাশি এক নারীও আহত হন। ওই নারী রাস্তা পার হওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ওই নারীর নাম রাজিয়া বা জোছনা বেগম হিসেবে এসেছে; পরিচয়টি পুলিশিভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নাম নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে যাওয়া যাচ্ছে না।

ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রকাশ্য সড়কে এভাবে গুলি ছোড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হামলাকারীরা কেন আলমগীরকে লক্ষ্য করেছিল, আগে থেকে কোনো বিরোধ ছিল কি না এবং হামলাকারীরা কারা—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। স্বজনদের ধারণা, রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই আলমগীরকে লক্ষ্য করে হামলা হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য দেয়নি। ঘটনার পর হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী ও সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে হামলাকারীদের গতিবিধি শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এমএম