​গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ভবন অডিটোরিয়ামে’ ডাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স’। উল্লেখ্য যে, সাংবাদিক ও গবেষক মুহাম্মদ নূরে আলমের পূর্বপ্রকাশিত গ্রন্থ ‘৩৬শে জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ ইতোমধ্যেই পাঠক ও গবেষকমহলে বহুল প্রশংসিত ও আলোচিত হয়েছে।

​তারুণ্যের সাহিত্যচর্চা ও সৃষ্টিশীল সাধনাকে উৎসাহিত করা এবং মহান জুলাই বিপ্লবের ঐতিহাসিক স্মৃতি ও চেতনাকে সাহিত্যের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ডাকসু এই ‘জাতীয় গল্প ও উপন্যাস লেখা প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর আয়োজন করে। প্রতিযোগিতায় দেশ ও বিদেশের বিপুল সংখ্যক প্রবীণ ও তরুণ লেখক তাঁদের মৌলিক ও সৃজনশীল লেখা জমা দেন। বিচারকমণ্ডলীর বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নের মাধ্যমে বাছাইকৃত সেরা লেখাগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়। এ বছর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর রচিত সেরা ২৯টি গল্পের জন্য ২৯ জন গল্পকার এবং ৯টি উপন্যাসের জন্য ৯ জন লেখককে সম্মানিত করা হয়েছে।

​পুরস্কার প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে লেখক ও সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরে আলম জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও জাতীয় ঐক্যের এক অনন্য নিদর্শন। রাজপথের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, শহীদদের ত্যাগ এবং সাধারণ মানুষের সীমাহীন প্রত্যাশাকে সাহিত্য ও গবেষণার ফ্রেমে বন্দী রাখা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। এই স্বীকৃতি জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিকে অমর করে রাখার প্রচেষ্টায় নতুন প্রেরণা জোগাবে।

​অনুষ্ঠানে ডাকসুর নেতৃবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, দেশবরেণ্য সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিজনসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা তাঁদের আলোচনায় জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সাহিত্যে ধারণ করার এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে আখ্যা দেন এবং বিজয়ী লেখকদের অভিনন্দন জানান।

এমএম