এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত তিনজন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষকের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সচেতন শিক্ষার্থী সমাজ’।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে দেওয়া এক লিখিত আবেদনে এসব অভিযোগ করা হয়। আবেদনে অভিযোগের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, ৩ নম্বর হলের অন্তত তিনজন শিক্ষার্থী সরাসরি মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। একইসঙ্গে মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত একটি সিন্ডিকেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা স্থানীয় পর্যায়ে মাদক সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেও মাদক ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ।
‘সচেতন শিক্ষার্থী সমাজ’ বলছে, আবাসিক হলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা তৈরির মেশিন, ইয়াবা, গাঁজা ও আইস উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে।
আবেদনে আরও দাবি করা হয়, অভিযুক্তদের অন্তত একজন নিষিদ্ধ একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত।
এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চলমান মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছে ‘সচেতন শিক্ষার্থী সমাজ’। একইসঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ হিসেবে বজায় রাখতে অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অবশ্যই কঠোরতম সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপনারাও এ বিষয়ে কাজ করেন। মাদক নিয়ে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর বিষয়ে তথ্য পেলে আমাদের জানালে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
এমএম