মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) পাটনার গান্ধী ময়দান থেকে বিপুলসংখ্যক বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (বিপিএসসি) চাকরিপ্রার্থী ও অন্যান্য শিক্ষার্থী মিছিল শুরু করেন। পরে মিছিলটি ডাক বাংলো মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

পুলিশ জলকামান ব্যবহার করলে আন্দোলনকারীদের অনেকে ভিজে অবস্থাতেই স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে জাতীয় পতাকা দেখা যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাটনার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। ডাক বাংলো মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএফ) সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।

যেসব দাবিতে আন্দোলন

নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম বন্ধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে গার্দানিবাগ এলাকায় অবস্থান ও বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।

তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা এক ধাপে নেওয়া, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বিহার স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (বিএসএসসি) নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন এবং হিন্দি মাধ্যমের প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া ৭০তম বিপিএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে পরীক্ষা বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

পুলিশের আইনশৃঙ্খলা বিভাগের সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার কামাখ্যা নারায়ণ সিং বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং আলোচনার ফল ইতিবাচক। তার দাবি, আন্দোলনকারীদের বেশ কিছু দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে এরপরও যারা মিছিল নিয়ে এগিয়ে আসবেন, তাদের থামানো হবে।

সরকারের সঙ্গে সংলাপের দাবি

বিক্ষোভস্থলে গিয়ে কংগ্রেস নেতা সুশীল কুমার বলেন, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় এক ধাপের ব্যবস্থা, নেগেটিভ মার্কিং বাতিল এবং বিপিএসসি, বিএসএসসি ও সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা অনশন করলেও সরকার তাদের সঙ্গে কার্যকর সংলাপে বসেনি। আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদলকে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানাতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে চলমান আন্দোলন নিয়ে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে চিঠি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা তেজস্বী যাদব। তিনি আন্দোলনকারীদের দাবি উপেক্ষা না করে তাদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

তেজস্বী যাদবের দল রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি ছাত্র ও যুব সংগঠনও বিক্ষোভে সমর্থন দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনতে নতুন উদ্যোগ

আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মাসিক ‘বিদ্যার্থী সহযোগ শিবির’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে বিহার সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রতি মাসের চতুর্থ মঙ্গলবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এসব শিবির আয়োজন করা হবে।

সেখানে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে সরাসরি তাদের সমস্যা ও অভিযোগ জানাতে পারবেন। পাশাপাশি অনলাইনে অভিযোগ নিবন্ধন এবং এর অগ্রগতি অনুসরণের সুবিধাও চালুর কথা জানানো হয়েছে।

পরীক্ষার নিয়ন্ত্রকের মন্তব্যে ক্ষোভ

এর আগে বিপিএসসি পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পরীক্ষার নিয়ন্ত্রক রাজেশ কুমারের একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন করে ক্ষোভ দেখা দেয়। তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে ‘হাতি চলে বাজার, কুকুর ভোকে হাজার’ মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তেজস্বী যাদব ওই কর্মকর্তাকে অপসারণ এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, পরীক্ষায় বারবার অনিয়ম ও বাতিলের ঘটনা ঘটলেও দায় নির্ধারণ বা জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে না।

আন্দোলনকারীদের দাবি ও সরকারের অবস্থানের মধ্যে অচলাবস্থা কাটাতে দ্রুত সংলাপ না হলে পাটনায় বিক্ষোভ আরও জোরালো হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এনএইচ