গত ২৬ আগস্ট হিমালয়ঘেঁষা বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দেয়। প্রবল স্রোতে রাস্তাঘাট, সেতু, বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। দুর্গম এলাকা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকাজে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।
বন্যার পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নিরাপদ পানির সংকট নিয়ে। নুয়াকোট জেলার বন্যাকবলিত বিদুর পৌরসভার ১৫টি পানির উৎসের নমুনা পরীক্ষা করে পাঁচটিতে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পরে দূষিত পানির উৎসগুলোতে ক্লোরিন প্রয়োগ করা হয়েছে।
ই-কোলাইয়ের উপস্থিতি সাধারণত পানিতে মলজাত দূষণের ইঙ্গিত দেয়। ফলে বন্যাকবলিত এলাকায় ডায়রিয়া, কলেরা ও টাইফয়েডসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি এলাকায় ডায়রিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত মানুষের খবর পাওয়া গেছে।
ভোটেকোশি নদীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদুরে পানি সরবরাহব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য ট্যাংকারে করে খাবার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে রাশুয়া, নুয়াকোটসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জেলায় নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পগুলোর টানেলেও নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। এরই মধ্যে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্যায় ভারতের নাগরিকরাও নিখোঁজ হয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ২৭৫ নাগরিক এখনো নিখোঁজ এবং ১৬৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ভারত প্রায় ৯৫ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ ও উদ্ধারকারী দল নেপালে পাঠিয়েছে।
নেপাল সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম একসঙ্গে চলছে। তবে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপদ পানির সংকট এবং পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা এখন দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এস