দিনব্যাপী আয়োজনে শুধু বক্তৃতা বা আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়, বরং আধুনিক কর্মবাজারে টিকে থাকা ও এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তব দক্ষতা নিয়ে আলোচনা হয়। মার্কেটিং ও উদ্ভাবন, সেলফ ব্র্যান্ডিং ও ডিজিটাল উপস্থিতি, ব্যবসা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন, পেশাগত ক্যারিয়ার প্রস্তুতি এবং ইন্টারভিউ কৌশলসহ বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন দেশের অভিজ্ঞ পেশাজীবী, উদ্যোক্তা ও করপোরেট বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের আলোচনা থেকে শিক্ষার্থীরা জানার সুযোগ পান—শুধু একটি সার্টিফিকেট অর্জন করলেই বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক কর্মবাজারে সফল হওয়া যায় না। নিজের দক্ষতাকে কীভাবে তুলে ধরতে হবে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কীভাবে পেশাগত পরিচিতি তৈরি করতে হবে, চাকরির সাক্ষাৎকারে নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করতে হবে এবং উদ্যোক্তা হতে চাইলে কোথা থেকে শুরু করতে হবে—এসব প্রশ্নের বাস্তবভিত্তিক উত্তর খোঁজার সুযোগ তৈরি হয় সামিটে।

ক্যারিয়ার-গড়ার-প্রস্তুতি-ও-উদ্যোক্তা-হওয়ার-প্রেরণা-২

আয়োজকদের কাছে এ আয়োজনের গুরুত্ব আরো গভীর। কারণ আস-সুন্নাহ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী থেকে উঠে এসেছেন। প্রচলিত শিক্ষার সুযোগ পেলেও পেশাগত জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক দক্ষতা, অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, কিংবা করপোরেট জগতের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তাদের অনেকেরই সীমিত।

সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য এমন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চায় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন, যেখানে তারা অভিজ্ঞদের কাছ থেকে শিখতে পারবেন এবং নিজেদের পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে বাস্তব পরিকল্পনা করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘আমাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী থেকে উঠে আসা। তাদের অনেকেরই এ ধরনের মানসম্পন্ন প্রফেশনাল সেশন ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ খুবই সীমিত। আমরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের যে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছি—এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেই দক্ষতাকে আরো সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী করে তুলতে চাই।’

শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করতে চান না আয়োজকরা। তাদের লক্ষ্য—একজন শিক্ষার্থী যেন প্রশিক্ষণ শেষে কর্মজীবনে প্রবেশের সময় একা না থাকেন। বরং তার পাশে থাকে একটি পেশাগত নেটওয়ার্ক, মেন্টরশিপ এবং ভবিষ্যতে আরো শেখার সুযোগ।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের যোগাযোগ ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ‘আমরা চাই, একজন শিক্ষার্থী শুধু একটি কোর্স শেষ করেই থেমে না থাকুক; বরং তার জন্য একটি শক্তিশালী পেশাগত নেটওয়ার্ক, মেন্টরশিপ এবং পরবর্তী পর্যায়ের শেখার সুযোগ তৈরি হোক। আজকের সামিট সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ। ভবিষ্যতে দেশের আরো বড় পরিসরে এ ধরনের উদ্যোগ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।’

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মধ্যকার দূরত্ব কমবে। একটি কোর্স শেষ করার পরও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ থাকবে এবং তাদের পেশাগত অগ্রগতির জন্য ধারাবাহিকভাবে মেন্টরশিপ, নেটওয়ার্কিং ও শেখার সুযোগ তৈরি হবে।