রোববার (৩০ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পলিমার মডিফাইড বিটুমিন বা রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে কারিগরি সহযোগিতা দেবে। সাধারণত রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজে এ ধরনের বিটুমিন ব্যবহার করা হয়। মালয়েশিয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হলেও রাবার মিশ্রিত বিটুমিন ব্যবহারের কারণে সেখানকার কার্পেটিং করা রাস্তা সহজে নষ্ট হয় না।

তিনি বলেন, ২০০৫ সালে বগুড়া সদরে দুই কিলোমিটার সড়কে রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পরও ওই সড়কটি ভালো অবস্থায় রয়েছে। সে সময় বর্তমান সচিব শহীদুল হাসান এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

মীর শাহে আলম বলেন, বর্ষা মৌসুমে সড়ক যাতে সহজে নষ্ট না হয়, সে জন্য বাংলাদেশ সরকারও পর্যায়ক্রমে রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রযুক্তিটি বর্তমানে আমাদের দেশে সহজলভ্য না হলেও পর্যায়ক্রমে প্রায় ২০ শতাংশ সড়কে রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বিটুমিনের সঙ্গে রাবার ব্যবহার করা হলে মালয়েশিয়ার মডেল অনুসরণ করে বর্ষাকালে দেশের সড়কগুলো তুলনামূলকভাবে টেকসই হবে।

মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি), সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হালাল খাদ্যসহ বিভিন্ন খাতে মালয়েশিয়া বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। সব মিলিয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রস্তুতি চলছে।

রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়েও কথা বলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে।

তিনি বলেন, ঢাকায় চলাচলের জন্য দুই ও চার আসনের ই-রিকশা নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। তবে ছয় আসনের রিকশা নিবন্ধন পাবে না।

ই-রিকশা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নীতিমালার কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখন এটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষে যত দ্রুত সম্ভব, এক সপ্তাহ বা পরবর্তী সপ্তাহের মধ্যেই নীতিমালা দেওয়া হবে।

এনএইচ