বুধবার গণমাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিওতে রাশেদ খানকে এসব কথা বলতে শোনা যায়।

ভিডিওতে রাশেদ খান বলেন, বর্তমান সরকারকে সফল করার দায়িত্ব বিরোধী দলগুলোর নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তারা সরকারের পতন চাওয়ার রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, “বর্তমান সরকারকে সফল করার দায়িত্ব বিরোধী দলগুলোর নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তারা উল্টো সরকারের পতন চাইছে। সরকারের পতন হলে আপনারা ক্ষমতা চালাইতে পারবেন? নাকি বর্তমান সরকারের পতন ঘটিয়ে আবার আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনবেন?”

রাশেদ খানের এই বক্তব্যে মূলত বিরোধী দলগুলোর সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং সরকার পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।

জামায়াতের নেতৃত্বে আন্দোলন সফল হবে না: রাশেদ খান

ভিডিওতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে নতুন কোনো গণঅভ্যুত্থান বা আন্দোলন সফল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে কোনো নতুন গণঅভ্যুত্থান বা আন্দোলন সফল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাহিদ ইসলামের আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

রাশেদ খানের দাবি, নাহিদ ইসলাম একসময় বলেছিলেন, জনগণের কাছে জামায়াতের গ্রহণযোগ্যতা নেই। কিন্তু বর্তমানে তিনিই জামায়াতের সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনৈতিক জোটের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খান আরও বলেন, বর্তমানে ১১ দলীয় জোট থেকে দুটি দল বেরিয়ে যাওয়ায় সেটি এখন নয় দলীয় জোটে পরিণত হয়েছে।

নাহিদ-মাহফুজের সমালোচনা

এ সময় নাহিদ ইসলাম ও মাহফুজ আলমেরও সমালোচনা করেন রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করেন, দায়িত্ব পালনের ছয় মাস পরও তারা গণমাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে পারেননি।

তার দাবি, সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তারা প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।

রাশেদ খান বলেন, গণমাধ্যম সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পরিবর্তন আনা হয়নি। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক

রাশেদ খানের বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন দেশের রাজনীতিতে সরকারবিরোধী আন্দোলন, জোটের সমীকরণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা চলছে। তার বক্তব্যে একদিকে বিরোধী দলগুলোর সরকার পতনের রাজনীতির সমালোচনা করা হয়েছে, অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

বিশেষ করে ‘সরকারের পতন হলে আপনারা ক্ষমতা চালাতে পারবেন?’এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে বিরোধী দলগুলোর বিকল্প সরকার পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছেন তিনি।

তবে ভিডিওতে রাশেদ খানের দেওয়া বক্তব্যগুলো তার রাজনৈতিক অবস্থান ও মন্তব্য হিসেবে এসেছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, নাহিদ ইসলাম বা মাহফুজ আলমের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া ওই ভিডিওতে পাওয়া যায়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ছাড়া অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

এদিকে রাশেদ খানের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সরকার পতনের পরবর্তী রাজনৈতিক কাঠামো, বিরোধী দলগুলোর সরকার পরিচালনার সক্ষমতা এবং বিভিন্ন দলের জোটগত অবস্থান এই তিনটি বিষয় তার বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

এমএম