কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে দুই দিনের সফরের জন্য ভারত ২০ ও ২১ আগস্ট সম্ভাব্য তারিখ প্রস্তাব করেছে। তবে বাংলাদেশ ওই সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন থাকায় কাছাকাছি অন্য কোনো তারিখ বিবেচনা করছে। সম্ভাব্যভাবে ২২ ও ২৩ আগস্ট সফর আয়োজন করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফরকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছেন। যদিও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ বা ভারতের পক্ষ থেকে সফরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

সূত্রগুলো বলছে, সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সংবেদনশীল ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য একটি ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা। অন্যদিকে ভারতও সব বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা ও সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে।

এদিকে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সম্প্রতি চার দিনের দিল্লি সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন। সফরকালে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বর্তমানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ। সম্ভাব্য ভারত সফরে এ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য নিয়েও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে উদ্বেগ জানানো হতে পারে।

এর বাইরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে। এর মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ট্রানজিট, জ্বানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা অন্যতম।

বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির নবায়নও। চুক্তিটির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে এর নবায়ন নিয়ে আলোচনাও প্রধানমন্ত্রীর সফরের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডায় থাকতে পারে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সফরের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও দুই দেশের কর্মকর্তারা এর প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছেন। আগস্টের তৃতীয় অথবা চতুর্থ সপ্তাহে সফরটি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এনএইচ