২০২৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাবি ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগকে তাড়ানোর ঘটনাকে স্মরণ করতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়।
শুক্রবার ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘লীগ ধর’ ম্যারাথনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। ম্যারাথনের রুট নির্ধারণ করা হয় কার্জন হল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, টিএসসি, তোরণ, মহসিন হল ও সূর্যসেন হল হয়ে কলাভবন পর্যন্ত।
ম্যারাথন শেষে সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তিন দিনব্যাপী বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনী ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ১৭, ১৮ ও ১৯ জুলাই পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চলবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ, ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি কাজী আশিক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাজ্জাদ হোসাইন খাঁনসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণ, শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং আন্দোলনের চেতনা ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘১৭ জুলাই সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস থেকে তাড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নয়া আজাদির সূচনা করেছিল, যার চূড়ান্ত রূপ আসে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে। জুলাইয়ের শহীদদের বিচার নিশ্চিত করতে এবং তাদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।’
তিনি আরো বলেন, জুলাই আন্দোলন শুধু একটি ছাত্র আন্দোলন ছিল না। তা দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই ইতিহাসকে জীবন্ত রাখার দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘গণপরিসর থেকে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিকে ভুলিয়ে দেওয়ার নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। কিছু ব্যক্তি পুনরায় ফ্যাসিবাদের বয়ান প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জুলাইয়ে বাংলাদেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ, আন্দোলন এবং ফ্যাসিবাদের জুলুম-নিপীড়নের ইতিহাসকে বারবার জনপরিসরে নিয়ে আসতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ইতিহাস বিকৃতির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী আশিক বলেন, দুই সহস্রাধিক শহীদ ও অসংখ্য গাজীর আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যেই ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ শীর্ষক এই বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রদর্শনীতে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতিচারণ, বিভিন্ন আলোকচিত্র,ও ফ্যাসিবাদী শাসনামলের বিভিন্ন নিপীড়নের দলিল স্থান পেয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের নানা স্মারক, ইনকিলাবি সংগীত এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন রয়েছে। দর্শনার্থীরা আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের ঘটনাপ্রবাহ ও দমন-পীড়নের চিত্র দেখতে পারবেন।
কাজী আশিক বলেন, ‘আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত আমাদের এই আয়োজন চলবে, ইনশাআল্লাহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিককে প্রদর্শনীটি পরিদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি।’
আয়োজকরা জানান, ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ প্রদর্শনীর তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে। এ ছাড়া প্রতিদিন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও স্মৃতিচারণমূলক পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
এমএম