শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, জনতার মিছিল দিন দিন বড় হতে থাকবে। একসময় টেকনাফ থেকে গণজোয়ার তৈরি হবে এবং সেই গণস্রোতে সরকার ভেসে যেতে বাধ্য হবে।
তিনি বলেন, ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পরও দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলার স্বার্থে তারা তা মেনে নিয়েছেন। তবে জনগণের গণভোটের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা অব্যাহত থাকলে বর্তমান সরকারের পরিণতিও অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের মতো হতে পারে।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এই নেতা বলেন, শেখ হাসিনা ‘উন্নয়নের গণতন্ত্রের’ নামে জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বিভিন্ন সময়ে বিনা ভোট ও রাতের ভোটের নির্বাচন এবং ‘আমি আর ডামি’ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থেকে উন্নয়নের নামে মেগা প্রকল্প ও মেগা দুর্নীতির মাধ্যমে দেশকে সংকটে ফেলা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নতুন সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে মামুনুল হক বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট কিনে নেওয়া যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়নের গণতন্ত্রের নামে প্রতারণা মেনে নেয়নি, কার্ডের মাধ্যমে তাদের গণরায়কেও বিভ্রান্ত করা সম্ভব হবে না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের ৭০ শতাংশের রায়কে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হলে একপর্যায়ে দেশের মানুষ সরকারকে ‘লাল কার্ড’ দেখাতে বাধ্য হবে।
চলমান আন্দোলন সম্পর্কে মামুনুল হক বলেন, বর্তমানে আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপ চলছে, যা বছরের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তাদের আন্দোলন এখনই সরকার পতনের জন্য নয়; বরং জনগণের গণরায় বাস্তবায়নের জন্য।
তবে সরকার আন্দোলনের সঙ্গে অসদাচরণ করলে এবং জনগণের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হলে গণরায় বাস্তবায়নের আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আগামী দিনের আন্দোলন ও সংগ্রামে সবাইকে রাজপথে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির।
এস