জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রবীণ সদস্য, বরেণ্য সাংবাদিক ফওজুল করিম আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ...... রাজিউন)। বুধবার দুপুর সোয়া ১২টায় রাজধানীর গ্রিন রোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
বাদ মাগরিব ধানমণ্ডির ৭নং লেক সংলগ্ন মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে দাফন করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি স্ত্রী, আত্মীয় স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ফওজুল করিম প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চাচাতো ভাই (বড়) ছিলেন।
সাংবাদিক ফওজুল করিম সাংবাদিকদের কাছে ‘তারা ভাই’নামে বেশি পরিচিত ছিলেন। বাংলাদেশের সাংবাদিকতার জগতে একজন বার্তা সম্পাদক হিসেবে তার নাম কিংবদন্তিতুল্য। তিনি অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলার বার্তা সম্পাদক এবং পরবর্তীতে নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। একজন গবেষক হিসেবে ইতিহাসের নানা বিষয় নিয়ে বিশেষ করে ঢাকার উপর তিনি গবেষণাধর্মী কাজ করেন।
ফওজুল করিম ১৯৩০ সালের ২৭ নভেম্বর বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৫ সালে দৈনিক সংবাদে তার সাংবাদিকতার জীবন শুরু। এরপর তিনি দৈনিক পাকিস্তানে যোগ দেন এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। দৈনিক পত্রিকার ম্যাকআপ, গেটআপ, ফটোএডিটিং-এর ক্ষেত্রে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করেন। তার হাতে দৈনিক বাংলার আধুনিক বিকাশ ঘটে। লে-আউট ডিজাইন বিষয়ে তার ফটো সম্পাদনা গ্রন্থটি সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়। তিনি ব্রিটেনের টমসন ফাউন্ডেশন থেকে সাংবাদিকতার ওপর প্রশিক্ষণ নেন। জেমস ওয়াইজের পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন জাতি ও পেশার বিবরণ সম্বলিত ৯টি গ্রন্থের অনুবাদক ফওজুল করিম।
এদিকে, প্রবীণ সদস্য ফওজুল করিমের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছে জাতীয় প্রেসক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটি।
এক শোকবার্তায় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানান।
তারা বলেন, ফওজুল করিম ছিলেন সাংবাদিকতা জগতের এক অনন্য প্রতিষ্ঠান। তার নিষ্ঠা, সাধনা, আদর্শ ও পেশার প্রতি অঙ্গীকার তরুণ সাংবাদিকদের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।
বিবৃতিতে প্রেসক্লাব সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বলেন, ফওজুল করিমের মৃত্যু শুধু সাংবাদিকতার ক্ষেত্র নয়, জাতীয় জীবনেও অপূরণীয় ক্ষতি। নির্ভীকতা, দেশপ্রেম ও প্রজ্ঞা তাকে অসামান্য উচ্চতায় স্থাপন করেছে।
জেএ





