ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বহু কর্মী, অংশগ্রহণকারী ও সাংবাদিকরা। দৈনিক সংগ্রাম-এর সিনিয়র রিপোর্টার নাছির উদ্দিন শোয়েব তার ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন—
যে জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে আজকের অন্তর্বর্তী সরকার, সেই জুলাই সনদে আহত ও নিহতদের কথা একবারও উল্লেখ করা হয়নি। জুলাই সনদে তাদের আইনি বৈধতা পর্যন্ত দেয়া হয়নি। অথচ এই যোদ্ধাদের দাবি নিয়েই আজ তারা রাস্তায় নেমেছিল। কিন্তু সরকারই তাদের পেটালো! তাহলে ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে ইউনুস সরকারের পার্থক্য কোথায়?
তিনি আরও লেখেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটাতে যে ছাত্র–জনতা রক্ত দিয়েছে, আজ তাদের উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি করে সনদে স্বাক্ষর নিচ্ছে সরকার। আহত ও শহিদদের আইনি স্বীকৃতি না থাকলে ভবিষ্যতে তারাই রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত হতে পারে।
প্রতিবাদীরা অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জুলাই সনদে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আহত বা নিহতদের বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই। এই উপেক্ষার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তারা সমাবেশ করলে পুলিশ সেখানে হামলা চালায়।
অভিযোগ ওঠেছে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস রাজনৈতিক দলগুলোকে ডেকে তড়িঘড়ি করে জুলাই সনদে স্বাক্ষর নিচ্ছেন, কিন্তু যাদের ত্যাগে এই সরকার-সেই আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি বা আহতদের কাউকেই আলোচনায় রাখা হয়নি।
প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে জুলাই যোদ্ধাদের আজ রাস্তায় নামতে হলো কেন? ড. ইউনুসের সরকার আজ কাদের স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে? অন্তর্বর্তী এই সরকারকে আসলে কে চালাচ্ছে?
অভ্যুত্থানকালে ছাত্র–জনতার নেতৃত্বে থাকা বর্তমান এক উপদেষ্টার (আসিফ মাহমুদ) নীরবতা নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে বলছেন, যে সরকার ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল, সেই সরকারই যদি আহত যোদ্ধাদের স্বীকৃতি না দেয়, তাহলে জাতির জন্য এটি অশনিসংকেত।
প্রতিবাদকারীরা দাবি করেছেন, জুলাই সনদে আহতদের বিষয়ে লিখিত স্বীকৃতি এবং আইনি সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
ঘটনার দায় সরকারের ওপর বর্তেছে। আন্দোলনকারীদের মতে, জুলাই যোদ্ধাদের উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি করে সনদ বাস্তবায়নের চেষ্টা সরকারের অদূরদর্শিতারই প্রমাণ।
এনএইচ