একুশ মানে প্রতিবাদ, একুশ মানে মাথা নত না করা। একুশের চেতনা যদি হয় মাথা নত না করা, তাহলে আমরা সাংবাদিকরাও মাথা নত করবো না। আমরা এই একুশের চেতনায় স্বৈরাচারের পতন ঘটাতে চাই।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের আয়োজিত আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে শওকত মাহমুদ একথা বলেন।

আলোচনা, গান ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমেই ভাষা আন্দোলনের গান নিয়ে আসেন ‘বাংলাদেশ থিয়েটার হোমস’এর পর আসেন রিজিয়া পারভিন ও তার দল। মোস্তাফিজুর রহমান আবৃত্তি করে সবাইকে মাতিয়ে দেন।

প্রধান অতিতির বক্তব্যে ড. এমাজ উদ্দীন আহমেদ বলেন, ভাষা আন্দোলনে যে সমস্ত ভাষা সৈনিক শহীদ হয়েছেন তাদের মধ্যে একমাত্র আবুল বরকতই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, বাকিরা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন । কিন্তু একুশের এই দিনে আমরা কি তাদের পরিবারের কোন খোঁজ নিয়েছি?

তিনি বলেন, আমাকে সহ আরও অনেককে একুশে পদকে সম্মানিত করা হয়েছে ,কিন্তু তাঁদের পরিবারের মধ্যে কি এমন কেউ নেই যাঁকে এই পদকে সম্মানিত করা যায়, তাদের আত্মীয় স্বজন অবশ্যই আছে।

২১শে ফ্রেব্রুয়ারি আজ শুধু বাংলাদেশর নয়, সারা বিশ্বে এই দিবস পালন করা হচ্ছে। কিন্তু তাদের কাছে একুশের যে চেতনা, যে শিক্ষা তাদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাতে হবে।

৫৭টি ভিন্ন জাতিসত্তার লোক আমাদের দেশে বসবাস করে,তাদের শব্দগুলো সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি জনাব রুহুল আমিন গাজী বলেন, বর্তমান সরকারের যে আচরণ যে গুম, হত্যা, বেআইনি শাসন তা একুশের চেতনাকে ম্লান করে। আজ বেগম জিয়াকে শহীদ মিনারে যেতে দেয়া হয়নি, সরকার প্রশাসন দিয়ে যে কাউকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে পরে তার লাশ পাওয়া যাচ্ছে, ইলিয়াস আলীসহ অনেকের লাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এই পর্যন্ত ২৪ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। আপনারা বোমার প্রতিবাদ করেন, বোমার প্রতিবাদ করলে বেআইনি হত্যারও প্রতিবাদ করতে হবে।

এই সরকারের আমলে যে সমস্ত সাংবাদিক কারাগারে আছেন তাঁরা মুক্তি পাবেন না, তাদের মুক্তির জন্য সরকারের পতন ঘটাতে হবে। আমরা সেই নির্বাচন চাই, যে নির্বাচনে সকল দল ও মতের অংশগ্রহণ থাকবে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরি বলেন, ভাষা আন্দোলন ছিল একটি মৌলিক আন্দোলন, ভাষার সাথে আমাদের অর্থনীতির সম্পর্ক ছিল। এই ভাষা আন্দোলন আমাদেরকে শোষণ, বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। আজকের এই বাংলার জন্য মুক্তি সংগ্রাম হয়নি । আজকের এই রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে।

শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক আব্দুল গফুর, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবি আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরি, কবি আব্দুল হাই সিকদার, আমার দেশ পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক এম আব্দুল্লাহ শিল্পী পলাশ, মিথুন বাবু, আবু সালেহ সাদাত, রিজিয়া পারভীন প্রমুখ।

এমকে