দৈনিক আমার দেশের বরিশাল ব্যুরো প্রধান ও বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জি এম বাবর আলী (৫৭) আত্মহত্যা করেছেন।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় পটুয়াখালী কলেজের পিছনে একটি ভাড়া বাসায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। সেখানে বাবর আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্না বেগম বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।  
বাবর আলী আত্মহত্যার আগ মূহুর্তে একটি চিরকুট লিখে গেছেন। এতে উল্লেখ রয়েছে,'আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমার স্ত্রীর সাথে এমন কথা কাটাকাটি হয়েছে যে,তা মেনে নেয়া সম্ভব নয়। তাই আত্মহত্যা করলাম।'
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন,আমাকে যেন পোস্টমর্টেম করানো না হয়।
তবে এস আই সামশুল হক জানিয়েছেন,লাশ মর্গে নেয়া হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী পোস্টমর্টেম করা হবে।  
স্ত্রী ঝর্না জানিয়েছেন,১০ বছর পূর্বে তাদের বিয়ে হয়েছিল। শুক্রবার বিকালে পটুয়াখালীতে আসেন বাবর আলী। দুজনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে তিনি বাইরে বের হলে বাবর আত্মহত্যা করেন।
জি এম বাবর আলীকে কাছ থেকে দেখেছেন এমন একজন সহকর্মী টাইম নিউজকে জানান, আমার দেশ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর চরম অর্থসংকটে ভুগছিলেন তিনি। তিন সন্তানের লেখা-পড়া ও সংসারের খরচ সামলানো কষ্ট হয়ে পড়ে। এর পর প্রথম স্ত্রীকে খুলনার ডুমুরিয়ায় গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
অর্থসংকটের বিষয়টি নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়ই তর্ক বিতর্ক হতো। ধারণা করা হচ্ছে মানষিক চাপে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
জি এম বাবর আলী ১৯৭৭ সালে কালান্তর পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরে ১৯৮৬ সাল থেকে দৈনিক প্রবাসী ও ১৯৯৬ সাল থেকে দৈনিক আজকের বার্তায় বিভিন্ন পদে কাজ করেন।
তিনি বৈশাখী টেলিভিশনের বরিশাল প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়াও বরিশাল প্রতিদিনের উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন বাবর আলী। এক সময় বৈশাখী টেলিভিশনের বরিশাল ব্যুরো প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। দৈনিক আমার দেশের ব্যুরো প্রধান ছিলেন।
বাবর আলী বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দুই সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
[b]ঢাকা, ৩ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ[/b]