সাংবাদিকদের জন্য ২০১৬ সালে বিশ্বব্যাপী যেই দেশগুলোকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ইরাক ও আফগানিস্তান। এছাড়াও সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ দেশের তালিকায় রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া ও ইয়েমেন।

বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কর্মরত আন্তর্জাতিক সংগঠন “ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্ট- আইএফজে” (International Federation of Journalists -IFJ) কর্তৃক প্রকাশিত এক জরিপে এমন তথ্যই উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে সরাসরি মাঠ পর্যায়ে

শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) আইএফজে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্বপরিকল্পিত হামলা, বোমা বিস্ফোরণ ও ক্রসফায়ারের শিকার হয়ে যেই সাংবাদিকরা নিহত হয়েছেন তাদেরকেই এই তালিকায় রাখা হয়েছে। এছাড়া এই বছরে (২০১৬) কলম্বিয়া (Colombia) ও রাশিয়ায় (Russia) বিমান দুর্ঘটনায় যে ২৯ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন তাদেরকেও অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে তালিকায়।

যদিও আগের বছর ২০১৫ সালের তুলনায় নিহতের এই তালিকা কিছুটা ছোট, কিন্তু সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে সিরিয়াসলি না নেয়া এবং অনেক ক্ষেত্রেই বিচার না হওয়াকে উদ্বেগজনক বলে সতর্ক করা হয়ে আইএফজের প্রতিবেদনে।  

২০১৬ সালে নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ জন নিহত হন শুধুমাত্র ইরাকে। এর পরে সর্বোচ্চ ১৩ জন নিহত হন আফগানিস্তানে। এছাড়া নিহতের তালিকায় রয়েছে মেক্সিকোতে ১১জন, ইয়েমেনে ৮জন এবং ৬জন করে সাংবাদিক নিহত হন সিরিয়া ও গুয়েতেমালায়। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত ও পাকিস্তানে ২০১৬ সালে যথাক্রমে ৫জন করে সাংবাদিক নিহত হন বলে আইএফজের প্রতিবেদনে বলা হয়।।

আইএফজে প্রেসিডেন্ট ফিলিপপি লেরুথ (Philippe Leruth) বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও হামলার ঘটনা কিছুটা হ্রাস পাওয়া অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু এখনও পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যাতে সন্তুষ্ট হওয়া যায়। তাছাড়া সাংবাদিকদের প্রতি ন্যূনতম নিরাপত্তা সংকটকেও খাটো করে দেখার সুযোগে নেই। সাংবাদিক হত্যায় বিচারহীনতার সংস্কৃতিকেও প্রশ্রয় দেয়া যায় না।    

আইএফজের প্রতিবেদনে ২০১৬ সালে সাংবাদিক হতাহতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে হত্যা করা হয়েছে ৩০জন সাংবাদিককে। এছাড়া, এশিয়া-প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলে ২৮জন, ল্যাটিন আমেরিকায় ২৪জন, আফ্রিকায় ৮জন ও ইউরোপে ৩জন সাংবাদিক নিহত হন ২০১৬ সালে।  

নিহতের পাশাপাশি ২০১৬ সালে আরো অধিক সংখ্যক সাংবাদিক নিখোঁজ হয়েছেন যাদের কোন খবর এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

আইএফজের সাধারণ সম্পাদক অ্যান্থনি বেলেনজার (Anthony Bellanger) অবশ্য বলেন, হতাহত ও নিখোঁজ সাংবাদিকদের এই তালিকা আরো দীর্ঘ হবে, যদি কম বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য ও নিখোঁজ তালিকাকে এর সাথে যোগ করা হয়। এছাড়া অনেক দেশেই শীর্ষ অপরাধীদের হাতে হেনস্তা হবার ভয়ে বহু সাংবাদিক নিজেই নিজকে গুটিয়ে রেখেছেন।

বেলেনজার আরো বলেন, পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষা ও দক্ষতার সাথে সাংবাদিকতা করার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে অতি সত্ত্বর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া সব সহিংস ঘটনা, হত্যাকাণ্ড ও গুমের কার্যকর তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে, আমেরিকার নিউইয়র্ক-ভিত্তিক সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত আরেক সংগঠন সিপিজে (Committee to Protect Journalists- CPJ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাংবাদিক হত্যায় বিচারহীনতার (Impunity) ফলে অনেক দেশেই সাংবাদিকরা নিজেই নিজেকে গুটিয়ে রাখছেন, সেলফ-সেন্সরশীপ (Self-censorship) আরোপ করছেন।  

গত ডিসেম্বর (২০১৬)-তে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, অনেক সাংবাদিকই নিজ দেশ ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছেন কিংবা সাংবাদিকতা পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন।

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৫ সালে বিশ্বজুড়ে মোট ১১০ জন সাংবাদিক নিহত হন। সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কর্মরত বৈশ্বিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউথ বর্ডার্স –আরএসএফ (Reporters Without Borders- RSF)) এর প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে আসে। (সূত্র: আলজাজিরা ও অন্যান্য সংস্থা)

কেবি